
প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৪ বছর বয়সী, একমাত্র সন্তান। প্রথম প্রথম খাওয়ানোর সময় মোবাইল দিতাম। এখন এমন হয়েছে, মোবাইল ছাড়া এক লোকমাও খায় না। মোবাইল বন্ধ করলেই কান্না শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কীভাবে বাদ দিতে পারি?
৪ বছরের শিশুকে খাওয়ানোর সময় মোবাইল দেওয়া অনেক পরিবারেই শুরু হয় খুব সহজ কারণে, শিশু যেন শান্ত থাকে, দ্রুত খায়, মা-বাবার কাজও একটু সহজ হয়। কিন্তু ধীরে ধীরে যখন শিশু মোবাইল ছাড়া এক লোকমাও খেতে চায় না, তখন বিষয়টা চিন্তার হয়ে দাঁড়ায়। তবে ভালো খবর হলো, এই অভ্যাস একদিনে তৈরি হয়নি, তাই একদিনে বাদ দেওয়ারও দরকার নেই। ধীরে ধীরে, নিয়মিতভাবে এগোলে শিশুকে আবার স্বাভাবিক খাবারের অভ্যাসে ফেরানো সম্ভব।
প্রথমেই বুঝতে হবে, শিশুর কাছে এখন খাবার আর মোবাইল একসঙ্গে জুড়ে গেছে। তার মনে হয়েছে, খাওয়ার মানেই কার্টুন দেখা। তাই হঠাৎ মোবাইল বন্ধ করলে সে কান্না করবে, এটা স্বাভাবিক। এই কান্নাকে “জেদ” হিসেবে না দেখে অভ্যাস বদলানোর প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখা ভালো।
প্রথম ধাপে পুরোপুরি বন্ধ না করে সময় কমানো যেতে পারে। যেমন আগে যদি পুরো খাবারের সময় মোবাইল চলত, তাহলে প্রথম কয়েক দিন বলা যায়, “আজ শুধু ১০ মিনিট কার্টুন, তারপর আমরা গল্প করতে করতে খাব।” এরপর ১০ মিনিট থেকে ৭ মিনিট, তারপর ৫ মিনিট, এভাবে কমানো যায়। তবে সময় শেষ হলে নিয়মটি শান্তভাবে মানতে হবে। একদিন কান্নায় মোবাইল ফেরত দিলে শিশু বুঝে যায়, বেশি কান্না করলেই নিয়ম বদলে যায়।
দ্বিতীয় ধাপে মোবাইলের বদলে নতুন খাবার-রুটিন তৈরি করতে হবে। খাওয়ার সময় ছোট গল্প বলা, ছড়া বলা, প্লেটে থাকা খাবারের রং নিয়ে কথা বলা, “ভাতের ছোট বল” বানানো, বা “আজ মাছটা আগে খাব নাকি ডাল?”, এভাবে শিশুকে খাবারের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এতে তার মনোযোগ স্ক্রিন থেকে খাবার ও পরিবারের কথাবার্তার দিকে আসে।
তৃতীয়ত, খাবারের সময় যেন শান্ত থাকে। “মোবাইল না দিলে খাবে না”, “না খেলে বকা খাবা”, এ ধরনের কথা খাবারকে যুদ্ধ বানিয়ে ফেলে। বরং নিয়মটি ছোট ও পরিষ্কার হওয়া দরকার: “খাওয়ার সময় মোবাইল বিশ্রামে থাকবে।” শিশুকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া ভালো, হঠাৎ প্লেট সামনে এনে মোবাইল বন্ধ করলে কান্না বেশি হতে পারে।
চতুর্থত, ক্ষুধার সময় খাওয়ানো জরুরি। খাবারের আগে যদি বেশি বিস্কুট, দুধ, জুস বা স্ন্যাকস খায়, তাহলে মূল খাবারে আগ্রহ কম থাকবে। তাই খাবারের মাঝে অল্প স্বাস্থ্যকর নাশতা রাখা, কিন্তু বারবার কিছু না দেওয়া, এটা সাহায্য করে।
পঞ্চমত, পরিবারের সবাইকে একই নিয়ম মানতে হবে। মা মোবাইল না দিলেন, কিন্তু বাবা বা দাদি কান্না থামাতে মোবাইল দিয়ে দিলেন, তাহলে শিশুর জন্য নিয়ম বোঝা কঠিন হয়ে যায়। তাই আগে বড়রা নিজেদের মধ্যে ঠিক করে নিন, খাবারের সময় স্ক্রিন থাকবে না।
শিশু কান্না করলে তাকে শান্তভাবে বলা যায়, “আমি বুঝছি তুমি কার্টুন দেখতে চাও। কিন্তু এখন খাবারের সময়। খাওয়ার পর আমরা বই দেখব/ খেলনা দিয়ে খেলব।” কান্না থামানোর জন্য মোবাইল না দিয়ে পাশে থাকা, জড়িয়ে ধরা, পানি দেওয়া বা একটু বিরতি দেওয়া যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ধৈর্য। প্রথম কয়েক দিন কঠিন লাগতে পারে, কিন্তু নিয়ম একই থাকলে শিশুর অভ্যাস বদলাতে শুরু করবে।
💬 মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন