লোগো

স্ক্রিন টাইম

স্ক্রিন টাইম

র্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে? মূলত বাবর্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে?

মূলত বাচ্চাদের এই মোবাইলের প্রতি আসক্তির পেছনে রয়েছে অনেকগুলো কারণ। এর মধ্যে প্রথম কারণ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে কি দেখবে তা ঠিকমতো বাছাই করে দিতে না পারা। আজকের দিনে ইউটিউবে অনেক ধরণেরই কন্টেন্ট পাওয়া যায় কিন্তু কোন কন্টেন্ট শিশু উপযোগী এবং কোনটি শিশু উপযোগী না তা যদি আমরা বুঝতে না পারি তবে শিশুদের জন্য ইউটিউবের ভিডিও দেখা উপকারী হওয়ার চেয়ে অপকারীই বেশি হবে। শিশুদের জন্য উপযোগী ভিডিও বাচাই করার ক্ষেত্রে আমাদের তিনটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে:

 

১. ভিডিওটি তে কোন ধরণের মিউজিক ব্যবহার করা হচ্ছে। যেমন কিছু কিছু হিপনোটিক মিউজিক “অ‍্যাডিকশন” এর মত কাজ করে। এগুলো শিশুর ব্রেনে ক্ষতি করার পাশাপাশি শিশুর স্ক্রিন আসক্তি বাড়িয়ে দেয়।

 

২. ভিডিও তে কি কি রঙ ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছু কিছু উজ্জ্বল রঙ আছে যা শিশুর স্ক্রিন অ্যাডিকশন বাড়িয়ে দেয়। সে বাইরের দুনিয়ার অনুজ্জ্বল রঙের প্রতি আর কোনো আসক্তি অনুভব করে না।

 

৩. ঘন ঘন দৃশ্য পরিবর্তন হচ্ছে কি না। প্রতি তিন সেকেন্ডে দৃশ্য পরিবর্তন শিশুর অ‍্যাটেনশন স্প‍্যান কমিয়ে দেয়৷

 

এই হিপনোটিক মিউজিক, উজ্জ্বল রঙ, ঘন ঘন দৃশ্য পরিবর্তন বাচ্চাদের মস্তিষ্কে ডোপামিন নিঃসরণ বাড়িয়ে দেয়ার মাধ্যমে বাচ্চাকে অস্থির করে তোলে। তারা স্ক্রিন ছাড়া কোনো আনন্দ পায় না। ফলে তারা স্ক্রিন এর প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে। একজন দায়িত্বশীল অভিভাবক হিসেবে আমাদের উচিত বাচ্চা স্ক্রিনে কি দেখবে তা সিলেক্ট করে দেয়া।

দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে সঠিকভাবে স্ক্রিন দেখার সময় নির্ধারণ করে দিতে না পারা । একটি বাচ্চা যখন স্ক্রিনে কিছু দেখবে তখন তার বয়স অনুযায়ী সে কতক্ষণ স্ক্রিন দেখতে পারবে তা আমরা বাবা-মা নির্ধারণ করে দিতে হবে। নতুবা অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিন টাইম শিশুর ব্রেইন ডেভেলপমেন্টকে বাধাগ্রস্থ করবে।  American Academy of Pediatrics এর গাইডলাইন অনুযায়ী ০-২ বছরের বাচ্চাদের কোনভাবেই স্ক্রিন দেয়া যাবে না এবং ২-৫ বছরের শিশুদের দিনে সর্বোচ্চ ১ঘন্টা উচ্চ মানের শিক্ষামূলক কনটেন্ট দেখতে দেয়া যাবে। তবে ১ ঘন্টার  চেয়ে কম হলে শিশুর জন্য আরো ভালো হবে। তাছাড়া বিভিন্ন রিসার্চে বলা হয়েছে ৫ বছরের বেশি বয়সের শিশুদের স্ক্রিন টাইম বাড়ানো যেতে পারে তবে সেটি যেনো কোনভাবেই ২ ঘন্টার বেশি না হয়। এবং শিশু ঘুমাতে যাওয়ার ১ ঘন্টা আগে স্ক্রিন বন্ধ করে দিতে হবে। কেননা ঘুমানোর ঠিক আগ মুহূর্তে শিশু স্ক্রিন দেখলে এই স্ক্রিনের আলো শিশুর দেহের সার্কাডিয়ান রিদম নষ্ট করে যার ফলে শিশুর ঘুম কম হবে এবং তাদের মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা কমে যাবে।

তাছাড়াও স্ক্রিন দেখার ক্ষেত্রে অবশ্যই ২০-২০-২০ রুল ফলো করতে হবে। প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ সেকেন্ড ২০ ফুট দূরত্বে তাকানো। সম্ভব হলে শিশুকে মোবাইলে কন্টেন্ট না দেখিয়ে বড় টিভি স্ক্রিনে কন্টেন্ট দেখানো উচিত এতে শিশুর চোখের উপর চাপ কম পড়বে, টিভি স্ক্রিনে কন্টেন্ট দেখলে তুলনামূলক সোজা হয়ে বসা যায় তাই শিশুর শরীরের উপরও চাপ কম পড়ে। তাছাড়া বাচ্চা অপ্রয়োজনীয় স্ক্রলিংও কম করবে।

সর্বশেষ যে কারণ তা হচ্ছে শিশু যে কন্টেন্ট দেখবে ডিজিটাল প্লাটফর্মে তা সে কীভাবে কার সাথে বসে দেখবে তা নির্ধারণ করে দিতে না পারা। বর্তমানে আমাদের বেশিরভাগ শিশুরা প্যাসিভ কার্টুন দেখে যা শুধু শিশুকে বিনোদন দেয় কিন্তু এটি থেকে শিশু কোন প্রকারের সামাজিক দক্ষতা অর্জন করতে পারে না। কেননা সে কেবল একটি কার্টুন চরিত্রের গল্প দেখে যাচ্ছে কিন্তু ঐ গল্পের অংশ হতে পারছে না। এর ফলে শিশুর কল্পনা শক্তি ও সৃজনশীলতা কমে যায়, ভাষা ও শেখার ক্ষমতা সীমিত হয়ে যাচ্ছে কারণ সে একটি নতুন শব্দ কেবল শুনছে কিন্তু এটি প্রয়োগ করার সুযোগ পাচ্ছে না। এক্ষেত্রে আমাদের অভিবাবকদের দায়িত্ব হচ্ছে ইন্টারেক্টিভ কার্টুন বেছে নিয়ে শিশুর সাথে বসে দেখা, কন্টেন্ট পজ করে তাকে প্রশ্ন করা এবং  তাকে অংশগ্রহণে উৎসাহিত করা। স্ক্রিনে শিক্ষামূলক কন্টেন্ট দেখার পর বাস্তব জীবনে তাকে প্র্যাকটিস করানো।

প্রত্যেক বাবা মায়ের অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খেয়াল রাখতে হবে স্ক্রিন দেখার ফলে যেনো শিশুর অন্যান্য কার্যক্রম যেমন খেলাধুলা, বই পড়া, পরিবারের সদস্যদের সাথে সময় কাটানো ইত্যাদিতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে।

যখন একজন অভিবাবক বাচ্চাকে স্ক্রিনে কি দেখতে দিবেন, কতক্ষণ দেখতে দিবেন এবং কিভাবে দেখাবেন তা সমন্বয় করতে পারবেন কেবল তখনই স্ক্রিন বাচ্চার জন্য উপকারী হবে এবং বাচ্চা স্ক্রিন আসক্তি বা মোবাইল আসক্তি থেকে বের হতে পারবে।

আদর্শ লিপি আমাদের বাচ্চাদের কথা মাথায় রেখেই চেষ্টা করে যাচ্ছে শিশু উপযোগী ইন্টারেক্টিভ কন্টেন্ট বানাতে। যেখানে ব্যবহার করা হয় না কোনো ধরণের হিপনোটিক মিউজিক, উজ্জ্বল রঙ এবং ঘন ঘন দৃশ্য পরিবর্তন যার ফলে বাচ্চারা নিরাপদে স্ক্রিনে দেখে এবং শোনে বিভিন্ন নতুন নতুন বিষয়ের সাথে পরিচিত হবে স্ক্রিনের প্রতি আসক্ত না হয়েই। আমাদের লক্ষ্য শিশুদের নিরাপদ কন্টেন্টের মাধ্যমে বাংলাদেশ, বাংলা ভাষা, বাংলা সংস্কৃতির সাথে তাদের পরিচয় করিয়ে দেয়া। তাছাড়াও শিশুর প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করার জন্য বাংলা শিক্ষার পাশাপাশি অংক ও বিজ্ঞান বিষয়ে দক্ষ করে তোলা। এবং সামাজিক জীব হিসেবে আমাদের আচরণ ও আবেগ কিভাবে আমাদের চিন্তা, সম্পর্ক ও সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করে তা বাচ্চাদের কাছে তুলে ধরা।

আদর্শ লিপি তে বাচ্চারা প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক মূল্যবোধ, নীতি-নৈতিকতা, সহানুভূতি, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, আত্মসচেতনতা, যোগাযোগ দক্ষতা, সামাজিক দায়িত্ব ইত্যাদি নিয়ে জানতে পারবে এবং নিজেকে সুস্থ মানসিকতার দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারবে।

আদর্শ লিপি ভিডিও দেখতে ক্লিক করুন।  

এই পোস্টটি শেয়ার করুন:

FacebookTwitterWhatsAppTelegramLinkedIn

💬 মন্তব্য (0)

মন্তব্য লোড হচ্ছে...

মন্তব্য লিখুন

0/1000