লোগো

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

ডিজিটাল এই যুগে শিশুদের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মনোযোগের অভাব, ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। যদিও বর্তমান যুগে শূন্য স্ক্রিন টাইম প্রায় অসম্ভব কিন্তু স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখা সম্ভব। তাছাড়া যদি স্ক্রিন টাইম একেবারে শূন্য রাখা হয় তবে বাচ্চারা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে। কেননা শিশুরা বিভিন্নধরণের শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে। সেটি হতে পারে বিজ্ঞান সম্পর্কে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আবার নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে।

তাই সকল দিক বিবেচনা করে বয়স অনুযায়ী শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহার পরিমিত করা প্রয়োজন। যেমন ২–৫ বছর বয়সী শিশুর জন্য দৈনিক এক ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন ব্যবহার করতে দেয়া যাবে না। ৫ বছরের বেশি শিশুর জন্যও দৈনিক সর্বোচ্চ এক থেকে দুই ঘণ্টা স্ক্রিন টাইম রাখা যেতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সীমার মধ্যে স্ক্রিন ব্যবহার করলে শিশুদের মনোযোগ এবং শেখার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়। এছাড়া, ভিডিও কন্টেন্ট দেখার ক্ষেত্রে একবারে দীর্ঘ সময় বসে থাকা নয়, বরং দিনে ছোট ছোট সময়ে ভিডিও দেখা বেশি কার্যকর। উদাহরণস্বরূপ, একটি শিক্ষামূলক বা বিনোদনমূলক ভিডিও একটানা এক ঘণ্টা না দেখে, ছোট ছোট পর্বে ভাগ করে দেখা।

শিশুরা স্ক্রিনে কেবল প্যাসিভ বিনোদনমূলক ভিডিও দেখলে মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্থ হয়। তবে শিক্ষামূলক, সৃজনশীল বা ইন্টারঅ্যাকটিভ ভিডিও তাদের শেখার দক্ষতা, মনোযোগ এবং সৃজনশীলতা বাড়ায়। তাই শিশুদের এমন ভিডিও বেছে দেওয়া প্রয়োজন যা তাদের শেখার দক্ষতা, মনোযোগ এবং সৃজনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করবে।

শিশুদের অভিভাবক দ্বারা স্ক্রিন সময় পর্যবেক্ষণ করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক স্মার্টফোন বা ট্যাবলেটে পারেন্টাল কন্ট্রোল সুবিধা থাকায় অভিভাবকরা দৈনিক স্ক্রিন সময় নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন। বাবা-মা বা অভিভাবকরা শিশুদের স্ক্রিন টাইম মনিটরিং করলে তাদের ঘুম, স্কুল পারফরম্যান্স, সামাজিক আচরণ ও শারীরিক ফলাফলের ওপর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে - এমন তথ্য বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

স্ক্রিন ব্যবহারের পাশাপাশি শিশুদের জন্য বিকল্প কার্যকলাপ নিশ্চিত করাও জরুরি। নিয়মিত খেলাধুলা, বই পড়া, আঁকাআঁকি বা সৃজনশীল কাজে অংশগ্রহণ করলে শিশুদের সার্বিক বিকাশ ঘটে এবং স্বাভাবিকভাবেই স্ক্রিনের ওপর নির্ভরতা কমে। যারা নিয়মিত শারীরিক এবং সৃজনশীল কার্যকলাপে অংশ নেয়, তারা স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটায় না। এছাড়া, পরিবারের বড়দের আচরণও শিশুদের ওপর প্রভাব ফেলে। যদি পরিবারে সবাই নিয়ন্ত্রিতভাবে স্ক্রিন ব্যবহার করেন, শিশুদের জন্য সেই নিয়ম মানা সহজ হয়। তাই স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার ক্ষেত্রে পরিবারিক পরিবেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ভিডিও বা অ্যাপের অটো-প্লে ফিচার শিশুদের স্ক্রিনে দীর্ঘ সময় ধরে রাখে। তাই অটো-প্লে বন্ধ করলে শিশু নিজের ইচ্ছায় ভিডিও দেখে এবং স্ক্রিনে অতিরিক্ত সময় কাটানো হয় না। তাই অভিভাবকরা অটো-প্লে বন্ধ রাখলে শিশুরা প্রয়োজন অনুযায়ী ভিডিও দেখে, ঘুম ও অন্যান্য কার্যক্রমের সঙ্গে ভারসাম্য রাখতে পারবে।

সবশেষে বলা যায়, স্ক্রিন টাইম কমানোর ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে পরিবর্তন আনা শিশুদের জন্য তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে। বিকল্প কার্যকলাপের সুযোগ দেওয়া এবং নিয়মিত সময়সীমা নির্ধারণ শিশুদের স্ক্রিন ব্যবহারে ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। গবেষণায় সমর্থিত নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বয়সভিত্তিক সময়সীমা নির্ধারণ, অভিভাবকীয় পর্যবেক্ষণ, পরিবারিক মডেলিং এবং শারীরিক ও সৃজনশীল কার্যকলাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এসব পদ্ধতি অনুসরণ করলে শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ ও ভারসাম্যপূর্ণ স্ক্রিন টাইম অভিজ্ঞতা তৈরি করা সম্ভব।

 

এই পোস্টটি শেয়ার করুন:

FacebookTwitterWhatsAppTelegramLinkedIn

💬 মন্তব্য (0)

মন্তব্য লোড হচ্ছে...

মন্তব্য লিখুন

0/1000