
বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবনে স্ক্রিন একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন এখন প্রায় সব ঘরেই আছে। তাই অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগে—স্ক্রিন টাইম ভালো, নাকি বই পড়া বেশি উপকারী? American Academy of Pediatrics এর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে বিষয়টি একপাক্ষিক নয়। প্রযুক্তি যেমন নতুন নতুন জ্ঞান আহরণের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই স্ক্রিন টাইম ও বই পড়ার মধ্যে তুলনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ভারসাম্য রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে জরুরি। সেটি স্ক্রিন টাইম হোক বা বই পড়া, দুটিই সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।
বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবনে স্ক্রিন একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন এখন প্রায় সব ঘরেই আছে। তাই অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগে—স্ক্রিন টাইম ভালো, নাকি বই পড়া বেশি উপকারী? American Academy of Pediatrics এর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে বিষয়টি একপাক্ষিক নয়। প্রযুক্তি যেমন নতুন নতুন জ্ঞান আহরণের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই স্ক্রিন টাইম ও বই পড়ার মধ্যে তুলনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ভারসাম্য রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে জরুরি। সেটি স্ক্রিন টাইম হোক বা বই পড়া, দুটিই সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।
সাধারণতো ভালো মানের ইন্টারেকটিভ কনটেন্টের মাধ্যমে শিশুরা ভাষাগত জ্ঞান, প্রাথমিক গণিতের ধারণা, সামাজিক আচরণ ইত্যাদির পাশাপাশি দৈনন্দিন ছোট সমস্যাগুলো বুঝে সমাধান করার দক্ষতা অর্জন করতে পারে। তবে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, ঘুমের সমস্যা এবং আচরণগত পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে, বিশেষ করে যদি কনটেন্ট প্যাসিভ হয়। এখানে বই পড়া একটি ভালো বিকল্প হিসেবে কাজ করে। কারণ বই পড়া শিশুদের মনোযোগ বাড়ায়, ধৈর্য শিখায় এবং সুনিয়ন্ত্রিত ভাবে চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তোলে। তাছাড়া নিয়মিত বই পড়া শিশুদের শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ করে, ভাষা প্রকাশের ক্ষমতা বাড়ায় এবং প্রশ্ন করার আগ্রহও তৈরি করে।
অন্যদিকে বই পড়া শুধু শিক্ষার জন্য নয়, মানসিক বিকাশের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যখন একটি শিশু বই পড়ে বা গল্প শোনে, তখন সে নিজের মতো করে দৃশ্য কল্পনা করে। এই কল্পনাশক্তি তার সৃজনশীলতা বিকাশে শক্তিশালী ভূমিকা পালন করে। তাই বাবা-মায়েরা যদি প্রতিদিন অন্তত ১৫–২০ মিনিট সন্তানের সঙ্গে বই পড়া চর্চা করেন, তাহলে তা শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে বই পড়া পরিবারে মানসিক বন্ধনও দৃঢ় করে। তাছাড়া OECD–এর একটি আন্তর্জাতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, যারা ছোটবেলা থেকে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলে, তারা পরবর্তী সময়ে শিক্ষাজীবনে তুলনামূলকভাবে ভালো ফল করে।
আদর্শ লিপির লক্ষ্য শিশুদের জন্য শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্ট দেয়ার পাশাপাশি একটি পরিবেশ তৈরি করা যেখানে শিশুরা আনন্দের সাথে বই পড়ে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি নিজের দেশ, দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে পারবে এবং সচেতন হবে। আমরা বিশ্বাস করি, মানসম্মত বই পড়া শিশুদের নিজেদের শিকড়ের সঙ্গে যুক্ত রাখে। বই পড়া তাদের ভাষার প্রতি ভালোবাসা বাড়ায় এবং দেশের সংস্কৃতিকে জানতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে যদি সীমিত ও নিরাপদ ডিজিটাল কনটেন্ট ব্যবহার করা হয়, তবে শেখা আরও সহজ ও সমৃদ্ধ হতে পারে, কেননা যেকোনো মানসম্মত কনটেন্টের মাধ্যমে খুব সহজে একটি শিশু দেখা ও শোনার মাধ্যমে বিভিন্ন ধরণের জ্ঞান অর্জন করতে পারে। তাই স্ক্রিন টাইম সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে নয় বরং বই পড়া ও স্ক্রিন ব্যবহারের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করা উচিত। এক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘন্টা রাখলে বই পড়ার জন্য কমপক্ষে ২০-৩০ মিনিট রাখতে হবে। তবে বই পড়ার জন্য সর্বোচ্চ কোনো সময় সীমা নেই। অনেক বিশেষজ্ঞদের মতে “Screen is limited, reading is unlimited”.
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্ক্রিন টাইম ও বই পড়া একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। তবে ছোট শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য বই পড়া বেশি গভীর ও স্থায়ী প্রভাব ফেলে। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় বই পড়া, সপ্তাহে নতুন বই এর সাথে পরিচয় করানো, ঘরে একটি ছোট “বই পড়া” কর্নার তৈরি করা, এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো শিশুর মানসিক বিকাশে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। প্রযুক্তি শেখার একটি মাধ্যম হতে পারে, কিন্তু বই পড়া শিশুর চিন্তা, কল্পনা ও মূল্যবোধ গঠন করতে ভূমিকা রাখে। তাই সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—স্ক্রিনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বই পড়া-কে জীবনের স্বাভাবিক ও আনন্দময় একটি অংশ করে তোলা।
💬 মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন