
প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৩ বছর বয়সী, ওর কোনো ভাইবোন নেই। আগে মোটামুটি সব খাবারই খেত, কিন্তু এখন শুধু বিস্কুট, দুধ আর চিপস খেলেই খুশি। ভাত বা সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। না খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারে, তবুও ভালো খাবার খেতে চায় না। এটা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।
৩ বছর বয়সে অনেক শিশুর খাবার নিয়ে পছন্দ-অপছন্দ হঠাৎ বেড়ে যায়। আগে যে শিশু ভাত, ডাল, সবজি বা মাছ খেত, সে হঠাৎ শুধু বিস্কুট, দুধ, চিপস; এমন কয়েকটি খাবারেই আটকে যেতে পারে। এতে মা-বাবার চিন্তা হওয়া খুব স্বাভাবিক। তবে প্রথমেই ভয় না পেয়ে বুঝতে হবে, এই বয়সে শিশুরা নিজের পছন্দ দেখাতে শেখে। “আমি এটা খাব না”, এটা অনেক সময় তার স্বাধীনতা দেখানোর একটি উপায়ও হতে পারে।
তবে চিন্তার বিষয় হলো, বিস্কুট, চিপস বা বেশি দুধ পেট ভরিয়ে দিলেও এগুলো শিশুর পুরো পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে না। চিপস ও প্যাকেটজাত খাবারে সাধারণত লবণ, তেল এবং অপ্রয়োজনীয় উপাদান বেশি থাকে। বিস্কুটে অনেক সময় চিনি ও ময়দা বেশি থাকে। আবার দুধ ভালো খাবার হলেও শুধু দুধ খেয়ে শিশুর আয়রন, ফাইবার, বিভিন্ন ভিটামিন ও খাবারের বৈচিত্র্য পূরণ হয় না। তাই লক্ষ্য হবে শিশুকে জোর করে খাওয়ানো নয়, ধীরে ধীরে ভালো খাবারের দিকে ফিরিয়ে আনা।
প্রথম কাজ হলো ঘরে “সহজে পাওয়া” খাবার বদলানো। শিশুর সামনে যদি সব সময় বিস্কুট, চিপস থাকে, তাহলে সে সেটাই চাইবে। তাই এগুলো ঘরে কম রাখা বা চোখের সামনে না রাখা ভালো। এর বদলে ছোট বাটিতে কলা, আপেল, সেদ্ধ ডিমের টুকরা, নরম সবজি, চিঁড়া-দই, খিচুড়ি বা ঘরে বানানো হালকা নাশতা রাখা যায়।
দ্বিতীয়ত, খাবারের সময়সূচি ঠিক করা জরুরি। সারাদিন একটু একটু করে বিস্কুট, দুধ বা চিপস খেলে মূল খাবারের সময় শিশুর ক্ষুধা থাকবে না। তাই তিনটি মূল খাবার এবং মাঝখানে দুইটি স্বাস্থ্যকর নাশতার রুটিন করা যেতে পারে। খাবারের মাঝখানে বারবার দুধ বা স্ন্যাকস না দিলে ধীরে ধীরে মূল খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়ে।
তৃতীয়ত, ভালো খাবারকে চাপের বিষয় বানাবেন না। “না খেলে মোবাইল দেব না”, “না খেলে বকা খাবা”, এগুলো শিশুকে খাবারের প্রতি আরও বিরক্ত করতে পারে। বরং ছোট পরিমাণে খাবার দিন। যেমন, পুরো প্লেট ভাত না দিয়ে এক-দুই চামচ ভাত, একটু ডাল, সামান্য সবজি। খেলে প্রশংসা করুন, না খেলেও অতিরিক্ত নাটক করবেন না। একই খাবার শিশুর পছন্দ হতে ৮–১০ বার পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
চতুর্থত, খাবারকে একটু মজার করা যায়। ভাতের সঙ্গে ডাল মেখে ছোট বল বানানো, সবজি ছোট করে কেটে রঙিনভাবে দেওয়া, শিশুকে নিজের চামচ বেছে নিতে দেওয়া, এসব ছোট বিষয় তার আগ্রহ বাড়াতে পারে। মা-বাবা একই খাবার খেলে শিশুও চেষ্টা করতে উৎসাহ পায়। কারণ শিশুরা কথা কম শোনে, অনুকরণ বেশি করে।
আরেকটি জরুরি বিষয় হলো, খাওয়ার সময় মোবাইল বা কার্টুন না দেওয়া। এতে শিশু খাবারের স্বাদ, ক্ষুধা ও পেট ভরার অনুভূতি বুঝতে শেখে না। বরং খাবারের সময় গল্প, ছড়া বা পারিবারিক কথাবার্তা থাকলে পরিবেশটা শান্ত ও সুন্দর হয়।
তবে যদি শিশুর ওজন কমে যায়, খুব দুর্বল লাগে, বারবার বমি করে, গিলতে সমস্যা হয়, দীর্ঘদিন প্রায় কিছুই না খায়, বা আগের তুলনায় খুব কম সক্রিয় থাকে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো, খাবার নিয়ে যুদ্ধ নয়, অভ্যাস গড়া দরকার। ধৈর্য, নিয়মিত রুটিন এবং ভালো বিকল্প দিলে ৩ বছরের শিশুকেও ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর খাবারে ফেরানো সম্ভব।
💬 মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন