লোগো

৩ বছরের শিশুর লজ্জা: আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মা-বাবা কী করতে পারেন

৩ বছরের শিশুর লজ্জা: আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মা-বাবা কী করতে পারেন

প্রশ্নঃ আমি একজন মা। আমার মেয়ের বয়স ৩ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। আগে সবাইকে সালাম দিত, কথা বলত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে দেখছি, কেউ বাসায় এলে লুকিয়ে থাকে। আত্মীয়রা কিছু জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দিতে চায় না। এটা কি শুধু লজ্জা, নাকি ওর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এখন থেকেই কিছু করা দরকার?

৩বছর বয়সী শিশু যদিআগে সবাইকে সালাম দিত, কথা বলত, কিন্তু কয়েক মাস ধরেবাসায় কেউ এলে লুকিয়েপড়ে বা আত্মীয়দের প্রশ্নেরউত্তর দিতে না চায়তাহলে একজন মায়ের চিন্তাহওয়া খুব স্বাভাবিক। তবেপ্রথমেই ভয় পাওয়ার দরকারনেই। অনেক শিশুই এইবয়সে নতুন মানুষ বাবেশি ভিড়ে অস্বস্তি বোধকরে। এটাকে সবসময় “সমস্যা” বলা যায় না।অনেক সময় এটি শিশুরস্বভাব, বয়সের পরিবর্তন বা কোনো সাময়িকঅস্বস্তির প্রকাশ।

৩বছর বয়সে শিশুরা নিজেরপছন্দ-অপছন্দ, নিরাপদ-অনিরাপদ অনুভূতি একটু বেশি বুঝতেশুরু করে। আগে হয়তোসে সহজে সালাম দিত, কারণ তখন বুঝে নাবুঝেই করত। এখন সেহয়তো বুঝতে পারছে, সবাই তার দিকেতাকাচ্ছে, প্রশ্ন করছে, উত্তর আশা করছে। এইঅতিরিক্ত মনোযোগ তার জন্য চাপেরমতো লাগতে পারে। আবার ছোট ভাইআসার পর পরিবারের মনোযোগভাগ হয়ে গেলে বড়শিশুর ভেতরে নিরাপত্তাহীনতাও তৈরি হতে পারে।তখন সে আরও বেশিমায়ের কাছে থাকতে চাইতেপারে, অপরিচিত বা কম পরিচিতমানুষ এলে লুকিয়ে পড়তেপারে।

এঅবস্থায় সবচেয়ে বড় ভুল হলোশিশুকে জোর করা। “সালামদাও”, “কথা বলো”, “এতলজ্জা কিসের?”, এভাবে সবার সামনে চাপদিলে তার অস্বস্তি আরওবাড়তে পারে। আত্মীয়দের সামনে শিশুকে নিয়ে মজা করাবা “ও খুব লাজুক” বলে বারবার পরিচয় করিয়ে দেওয়াও ঠিক নয়। এতেশিশু নিজের সম্পর্কে ভাবতে শুরু করতে পারে, “আমি তো এমনই, আমিপারি না।”

বরংআগে শিশুর অনুভূতিকে স্বীকৃতি দিতে হবে। যেমনবলা যায়, “অনেক মানুষ এলেতুমি একটু অস্বস্তি বোধকরো, তাই না?” অথবা “তুমি চাইলে আগে আমার পাশেবসে থাকতে পারো।” এতে সে বুঝবে, মা তার অনুভূতি বুঝছেন।নিরাপদ বোধ করলে শিশুরসাহস ধীরে ধীরে বাড়ে।

অতিথিআসার আগে শিশুকে প্রস্তুতকরা খুব কাজে দেয়।যেমন, “আজ খালা আসবে।তুমি চাইলে শুধু হাত নেড়েহাই বলতে পারো।” বড়লক্ষ্য না দিয়ে ছোটলক্ষ্য দিন যেমনঃ প্রথম দিন শুধু হাসি, পরের দিন হাত নাড়া, পরে এক শব্দে উত্তর। সালাম বা কথা বলা যেনপরীক্ষা না হয়ে ছোটঅনুশীলন হয়।

মা-বাবা নিজেরাও মডেলহতে পারেন যেমনঃ অতিথি এলে হাসিমুখে কথাবলা, সহজভাবে সালাম দেওয়া। শিশুকে আগে থেকে কিছুবাক্য শিখিয়ে দেওয়া যায়, যেমন “ভালোআছি”, “ধন্যবাদ”, “আমি খেলছি।” ঘরেপুতুল বা খেলনার সঙ্গেরোল প্লে করাও সাহায্য করতেপারে।

ছোটভাইয়ের কারণে যদি সে নিজেকেকম গুরুত্বপূর্ণ মনে করে, তাহলেপ্রতিদিন মেয়ের জন্য আলাদা ১০–১৫ মিনিট সময়রাখা জরুরি। এই সময়টায় শুধুমা বা বাবা আরমেয়ে থাকবে। গল্প করা, ছবি আঁকা, খেলাধূলা করা, যেকোনো কিছু হতে পারে।এতে তার ভেতরের নিরাপত্তাবাড়ে।

তবেযদি শিশু শুধু আত্মীয়দেরসামনে নয়, প্রায় সবজায়গায় কথা বলতে ভয়পায়, চোখে চোখ রাখতেনা চায়, খেলাধুলা এড়িয়েচলে, খুব বেশি ভীতথাকে, বা এই আচরণদীর্ঘদিন ধরে বাড়তে থাকে, তাহলে শিশু বিশেষজ্ঞ বাশিশু মনোবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সবশেষেমনে রাখবেন, আত্মবিশ্বাস জোর করে শেখানোযায় না। নিরাপদ সম্পর্ক, ছোট ছোট সুযোগ, প্রশংসাআর ধৈর্য মিলেই শিশুর সামাজিক সাহস ধীরে ধীরে তৈরি হয়।

এই পোস্টটি শেয়ার করুন:

FacebookTwitterWhatsAppTelegramLinkedIn

💬 মন্তব্য (0)

মন্তব্য লিখুন

0/1000
মন্তব্য লোড হচ্ছে...