
আমি কিছু সিম্পল ফ্যামিলি গেম এর আইডিয়া জমাচ্ছি, যেগুলো ঘরে বসেই করা যায়। যেমন আমি বললাম, “লাল রঙের কিছু খুঁজে আনো।” এতে শিশুরা একসাথে দৌড়াদৌড়ি করে, হাসাহাসি করে। আবার একই সাথে রঙ চেনাও শেখে। আরেকটা মজার খেলা হলো “বালিশ বা সোফার গদির ঘর” বানানো। চাদর, বালিশ, গদি দিয়ে ছোট্ট ঘর বানিয়ে সেখানে বসে গল্প বলা। এতে শিশুদের ইমেজিনেশন মজবুত হয়, আবার ভাইবোন একসাথে টিমওয়ার্ক-ও শেখে। আমাদের দেশে আগে.....
আমি আর আমার স্বামী এখন একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভাবি, কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যদিও এখনো ওদের সেরকমভাবে খেলার বয়স হয়নি যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র ৩ মাস। আমি আশেপাশে অনেক পরিবারেই দেখেছি, ভাইবোন একই ঘরে বড় হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আবার কিছু ভাইবোন আছে, যারা বড় হয়েও একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়।
শিশুদের এই সম্পর্কটা শুধু নিজে নিজে তৈরি হয় না, পরিবারকেও একটু সচেতনভাবে সেইজন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হয়। আর এর সবচেয়ে সহজ উপায়গুলোর একটি হলো একসাথে খেলা। অনেকেই মনে করেন খেলা মানে শুধু বিনোদন। কিন্তু শিশু বিশেষজ্ঞদের মতে, একসাথে খেলাধুলা শিশুদের সামাজিক আচরণ, ভাগাভাগি শেখা, ধৈর্য, এম্প্যাথি ইত্যাদি মানবিক গুণাবলি গড়ে তুলতে সাহায্য করে।
ভাইবোনের মধ্যে বন্ডিং বাড়ানোর জন্য ফ্যামিলি গেমস খুব কার্যকর। আমাদের বাসা খুব বড় না। দামি খেলনাও খুব বেশি নেই। কিন্তু মজার ব্যাপার হলো, বন্ডিং তৈরি করতে হাইফাই সেট-আপ এর প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজন হয় নিয়মিত ছোট ছোট ভাবের আদান প্রদান। আমার ছেলে এখন থেকেই বোনের পাশে বসতে ভালোবাসে। আমি মাঝে মাঝে ওকে বলি,
“চলো আমরা ছোটবোনকে গান গেয়ে শোনাই।”
আবার মাঝে মাঝে আমি ছেলেকে ছোট ছোট “দায়িত্ব” দিই। যেমনঃ “তুমি ওর কাপড়টা একটু এনে দাও তো।” “চলো আমরা একসাথে ছোট বোনের খেলনা সাজাই।” - এতে করে সেও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ মনে করে। শিশুমনোবিজ্ঞানীদের মতে, পরিবারে নতুন ভাইবোন আসার পর বড় শিশুকে ছোটখাটো দায়িত্ব বা অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে তার ভেতরের হিংসা, মন খারাপ বা অনিরাপত্তাবোধ কিছুটা কমতে পারে।
আমি কিছু সিম্পল ফ্যামিলি গেম এর আইডিয়া জমাচ্ছি, যেগুলো ঘরে বসেই করা যায়। যেমন আমি বললাম, “লাল রঙের কিছু খুঁজে আনো।” এতে শিশুরা একসাথে দৌড়াদৌড়ি করে, হাসাহাসি করে। আবার একই সাথে রঙ চেনাও শেখে। আরেকটা মজার খেলা হলো “বালিশ বা সোফার গদির ঘর” বানানো। চাদর, বালিশ, গদি দিয়ে ছোট্ট ঘর বানিয়ে সেখানে বসে গল্প বলা। এতে শিশুদের ইমেজিনেশন মজবুত হয়, আবার ভাইবোন একসাথে টিমওয়ার্ক-ও শেখে।
আমাদের দেশে আগে পরিবারে একসাথে বসে খেলার একটা সংস্কৃতি ছিল। লুডু, কেরাম, শব্দ খেলা, ধাঁধা- এসবের মধ্যে একটা পারিবারিক উষ্ণতা থাকত। তবে সময়ের সাথে সাথে এখন নানান কারণে সেই বিষয়গুলো এখন খুব কম-ই দেখা যায়। বিজ্ঞানীদের মত অনুযায়ী, ভাগাভাগি করে খেললে শিশুদের মধ্যে অক্সিটোসিন (Oxytocin) হরমোনের কার্যক্রম বাড়াতে সাহায্য করতে পারে। ফলে তারা মা-বাবার সাথে ইমোশনালি আন্তরিক অনুভব করে।
যেমন সাধারণ বল পাসিং গেম বা ম্যাচিং গেম খেলতে গিয়ে তারা শিখে অপেক্ষা করা, নিজের পালা বোঝা, অন্যকে সুযোগ দেওয়া ইত্যাদি। এগুলো ভবিষ্যতের সোশ্যাল স্কিল এর জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আবার, অনেকসময় আমরা খেলাকে “শেখার চাপ” বানিয়ে ফেলি। সবকিছুতেই সংখ্যা, বর্ণ বা পড়াশোনা এনে ফেলি। কিন্তু ছোট শিশুদের জন্য আসলে Joyful Interaction-টাই বেশি জরুরি। এখন আমি চেষ্টা করি খেলাটা যেন স্বাভাবিকভাবেই আনন্দময় হয়। তাছাড়া, বাবা-মা খেলায় অংশ নিলে সম্পর্ক আরও মজবুত হয়। আমার স্বামী এখন বাসায় ফিরেও অন্তত কিছু সময় ছেলের সাথে খেলতে বসে। কখনো বল নিয়ে, কখনো ছবি দেখে গল্প বানিয়ে। এতে শুধু বাবা-ছেলের সম্পর্ক না, পুরো পরিবারের পরিবেশটাই অনেক সুন্দর লাগে।
তবে একটা কথা মনে রাখা দরকার। ভাইবোনের মধ্যে ঝগড়াও হবে, খেলনা নিয়ে টানাটানি হবে। এটা খুব স্বাভাবিক। সবসময় “একদম মিলেমিশে থাকবে” এমন আশা করাটা বাস্তবসম্মত না। বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো, পরিবার কীভাবে সেই পরিস্থিতি মোকাবেলা করছে।
এখনো আমার মেয়েটা খুব ছোট। কিন্তু আমি চাই, ওরা বড় হয়ে যেন শুধু একই বাসায় বড় হওয়া দুইজন মানুষ না হয় বরং একে অপরের নিরাপদ জায়গা হয়ে উঠতে পারে।
💬 মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন