
প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার মা হয়েছি। আমার ছেলের বয়স এখন ২ মাস, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। সারাদিন মোটামুটি ঘুমালেও রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না। রাত ১২-১টার পরও জেগে থাকে, বারবার কোলে নিতে হয়। এতে আমরাও খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এত ছোট বাচ্চার ঘুমের রুটিন কীভাবে ধীরে ধীরে ঠিক করা যায়?
প্রথমবার মা হলে ২ মাসের শিশুর ঘুম নিয়ে চিন্তা হওয়া খুব স্বাভাবিক। বাচ্চা সারাদিন মোটামুটি ঘুমালেও রাতে ১২–১টার পরও জেগে থাকা, বারবার কোলে যেতে চাওয়া, একটু পরপর কান্না বা অস্থির হওয়া দেখে মা-বাবা ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তবে প্রথমেই মনে রাখা দরকার, ২ মাস বয়সে শিশুর ঘুম এখনো বড়দের মতো নিয়মিত হয় না। তাই এই বয়সে “রাতভর ঘুমাবে”, এমন আশা করলে হতাশা বাড়তে পারে।
নবজাতক ও ছোট শিশুরা দিনে-রাতে অনেকবার ঘুমায় ও জাগে। তাদের পেট ছোট, তাই খাওয়ার জন্যও বারবার জেগে ওঠে। আবার অনেক শিশুর দিন-রাতের পার্থক্য বুঝতে সময় লাগে। তাই লক্ষ্য হবে জোর করে ঘুম পাড়ানো নয়, বরং ধীরে ধীরে তাকে রাত ও দিনের পার্থক্য শেখানো।
প্রথম কাজ হলো দিনের বেলা ঘর একদম অন্ধকার-নীরব না রাখা। দিনে ঘুমালেও স্বাভাবিক আলো, ঘরের সাধারণ শব্দ থাকতে পারে। জেগে থাকলে তার সঙ্গে কথা বলা, কোলে নেওয়া, মুখের দিকে তাকিয়ে হাসা, এসব করা যায়। এতে সে বুঝতে শুরু করে, দিন মানে একটু বেশি আলো, শব্দ।
রাতে পরিবেশ হবে উল্টো। আলো কম, শব্দ কম, কথা কম। রাতের খাওয়ানো বা ডায়াপার বদলানোর সময় বেশি খেলাধুলা, জোরে কথা বলা বা উজ্জ্বল আলো এড়িয়ে চলুন। দরকারি কাজ শেষ করে শিশুকে আবার শান্তভাবে ঘুমের পরিবেশে ফিরিয়ে দিন। এতে ধীরে ধীরে তার শরীর বুঝতে শেখে যে রাত মানে বিশ্রামের সময়।
দ্বিতীয়ত, ছোট একটি ঘুমের রুটিন শুরু করা যায়। ২ মাস বয়সে বড় রুটিন দরকার নেই। যেমনঃ হালকা গা মুছে দেওয়া, ডায়াপার বদলানো, নরম কাপড় পরানো, মায়ের দুধ খাওয়ানো, তারপর ঘুমের জায়গায় রাখা। প্রতিদিন একইভাবে করলে শিশুর মনে ধীরে ধীরে একটি পরিচিত সংকেত তৈরি হয়।
তৃতীয়ত, সবসময় কোলে ঘুম পাড়ালেই সমস্যা, এভাবে ভাবার দরকার নেই। এত ছোট শিশুর কোলে আরাম লাগা স্বাভাবিক। তবে কখনো কখনো শিশুটি ঘুমঘুম থাকলে তাকে নিরাপদ ঘুমের জায়গায় শুইয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা যায়। এতে সে ধীরে ধীরে বিছানার সঙ্গে ঘুমের সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।
সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো নিরাপদ ঘুম। শিশুকে সবসময় চিৎ করে ও সমতল বিছানায় শুইয়ে ঘুম পাড়াতে হবে।
মা-বাবার ক্লান্তিও গুরুত্বের বিষয়। রাত জাগা খুব কষ্টকর। তাই সম্ভব হলে বাবা-মা পালা করে দায়িত্ব ভাগ করে নিতে পারেন। মা দিনে শিশুর সঙ্গে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। সব কাজ নিখুঁত করার চাপ না নিয়ে নিজের বিশ্রামকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তবে শিশু যদি দুধ খেতে না চায়, শ্বাসকষ্ট হয়, জ্বর থাকে, অস্বাভাবিকভাবে নিস্তেজ লাগে, বা কান্না থামানো না যায়য়, তাহলে দ্রুত শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
সবশেষে মনে রাখবেন, ২ মাসের শিশুর ঘুমের রুটিন ধীরে ধীরে তৈরি হয়। ধৈর্য ও নিরাপদ ঘুমের পরিবেশ মিলেই শিশুর ঘুম একটু একটু করে ভালো হতে শুরু করবে।
💬 মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন