
প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার মা হয়েছি। আমার মেয়ের বয়স এখন ১০ মাস, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। বাসার সবাই একেকজন একেক রকম পরামর্শ দেন। কেউ বলেন এখন থেকেই সব খাবার দিতে, কেউ বলেন আরও অপেক্ষা করতে। এত ভিন্ন ভিন্ন কথা শুনে খুব দ্বিধায় আছি। এমন পরিস্থিতিতে কোন বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত? প্রথমবার মা হলে শিশুর খাবার নিয়ে দ্বিধায় পড়া খুব স্বাভাবিক। বিশেষ করে বাসার সবাই যখন একেকজন একেক রকম পরামর্শ দেন। যেমনঃ কেউ বলেন “এখন থেকেই সব খাওয়াও”, কেউ বলেন “আরও অপেক্ষা করো”, তখন একজন মায়ের জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু শিশুর খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বয়স, নিরাপত্তা, পুষ্টি এবং শিশুর প্রস্তুতি। শুধু বড়দের অভিজ্ঞতা নয়।
১০ মাস বয়সে শিশুর শুধু বুকের দুধ বা ফর্মুলা নয়, পাশাপাশি পরিপূরক খাবারও দরকার। সাধারণত ৬ মাসের পর থেকে শিশুকে ধীরে ধীরে বাড়তি খাবার দেওয়া শুরু করা হয়। তাই ১০ মাসে সে নরম ভাত, ডাল, খিচুড়ি, ভালোভাবে সেদ্ধ সবজি, নরম ফল, ডিম, মাছ বা মাংসের নরম অংশ তার বয়স অনুযায়ী খেতে পারে। তবে “সব খাবার” মানে বড়দের মতো ঝাল, লবণ, তেল-মশলা বেশি দেওয়া খাবার নয়।
এই বয়সে খাবারের ধরন খুব গুরুত্বপূর্ণ। খাবার এমন হতে হবে যেন শিশু সহজে গিলতে পারে, কিন্তু ধীরে ধীরে চিবানোও শিখে। একদম পানির মতো পাতলা খাবার দিলে পেট ভরলেও পুষ্টি কম পাওয়া যায়। তাই নরম, মাখানো, ছোট ছোট ফিঙ্গার ফুড দেয়া ভালো। যেমন নরম খিচুড়ি, ভাত-ডাল-মাছ মেখে, সেদ্ধ আলু বা কুমড়া, কলা, পাকা পেঁপে, ডিমের নরম অংশ ইত্যাদি ধীরে ধীরে দেওয়া যায়।
তবে কিছু খাবারে সতর্ক থাকতে হবে। ১ বছরের আগে মধু দেওয়া যাবে না। গরুর দুধ প্রধান পানীয় হিসেবে ১ বছরের আগে না দেওয়াই ভালো, তবে দই বা খাবারে অল্প দুধ ব্যবহার নিয়ে শিশুর চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া যায়। খুব শক্ত খাবার, বাদাম গোটা অবস্থায়, আঙুর গোটা, পপকর্ন, বড় টুকরা ফল বা শক্ত মাংস choking-এর ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই খাবার ছোট, নরম ও নিরাপদভাবে দিতে হবে।
আরেকটি বিষয় হলো চিনি ও লবণ। অনেকেই শিশুকে স্বাদ বাড়ানোর জন্য চিনি, লবণ বা প্যাকেটজাত খাবার দিতে চান। কিন্তু এই বয়সে শিশুর স্বাদের অভ্যাস তৈরি হচ্ছে। তাই যতটা সম্ভব ঘরের স্বাভাবিক, কম লবণ-মশলার খাবার দেওয়া ভালো।
পরিবারের পরামর্শ পুরোপুরি অগ্রাহ্য করার দরকার নেই। কিন্তু সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় একটি নিয়ম রাখা ভালো, “শিশুর বয়সের সঙ্গে মিলছে কি না, নিরাপদ কি না, এবং ডাক্তার বা নির্ভরযোগ্য গাইড লাইন এর সঙ্গে মেলে কি না।” দাদি-নানি বা পরিবারের কেউ কিছু বললে সরাসরি “ভুল” না বলে বলা যায়, “আপনার অভিজ্ঞতা আমার জন্য খুব প্রয়োজন। তবে এখন ডাক্তাররা এই বয়সে কিছু খাবারে সতর্ক থাকতে বলেন, তাই আমরা একটু ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলার চেষ্টা করছি।”
শিশু যদি নতুন খাবার প্রথমে না খায়, তাতেও ভয় পাওয়ার দরকার নেই। একই খাবার কয়েকবার দিলে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়। জোর করে খাওয়ানো না করে, ধৈর্য ধরে, ছোট পরিমাণে, হাসিখুশি পরিবেশে খাওয়ানো ভালো।
তবে যদি শিশুর ওজন না বাড়ে, বারবার বমি করে, খাবার গিলতে সমস্যা হয়, অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা যায়, বা দীর্ঘদিন খুব কম খায়, তাহলে অবশ্যই শিশু বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।
💬 মন্তব্য (0)
মন্তব্য লিখুন