লোগো

2 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্তউৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিংবিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
শিশু কারো কোলে যেতে চায় না: এটা কি লজ্জা, নাকি স্বাভাবিক সীমাবোধ?
জিজ্ঞাসা
শিশু কারো কোলে যেতে চায় না: এটা কি লজ্জা, নাকি স্বাভাবিক সীমাবোধ?

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ৪ বছর, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। বাইরে কোথাও গেলে সবাই কোলে নিতে চায় বা আদর করতে আসে। কিন্তু ও কাউকে কাছে আসতে দিতে চায় না, জোরে কাঁদতে শুরু করে। অনেকেই বলে, আমি নাকি ওকে বেশি আগলে রাখি। সত্যিই কি তাই, নাকি এটা স্বাভাবিক?

ভুল করলেই নিজের ওপর রাগ: শিশুকে কীভাবে শেখাবেন ভুলও শেখার অংশ
জিজ্ঞাসা
ভুল করলেই নিজের ওপর রাগ: শিশুকে কীভাবে শেখাবেন ভুলও শেখার অংশ

প্রশ্নঃ আমি একজন বাবা। আমার ছেলের বয়স ৮ বছর, ওর ছোট একটা বোন আছে। পড়াশোনা বা খেলাধুলায় একটু ভুল হলেই নিজের ওপর খুব রেগে যায়। খাতাও ছিঁড়ে ফেলে। সব কাজ একদম নিখুঁত করতে চায়। ওকে কীভাবে বুঝাব যে ভুল করাও শেখারই অংশ?

“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন
জিজ্ঞাসা
“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন

প্রশ্নঃ আমার দুই মেয়ে। বড়টার বয়স ১০ বছর, ছোটটার ৭ বছর। বড় মেয়েটা এখন প্রায়ই বলে, "আমি মোটা হয়ে গেছি", "আমি সুন্দর না।" এসব কথা শুনে খুব খারাপ লাগে। এত ছোট বয়সে নিজের চেহারা নিয়ে এমন চিন্তা কেন করছে? আমি কীভাবে ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারি?

২ মাসের শিশুর রাতের ঘুম: ধীরে ধীরে রুটিন গড়ার সহজ উপায়
জিজ্ঞাসা
২ মাসের শিশুর রাতের ঘুম: ধীরে ধীরে রুটিন গড়ার সহজ উপায়

প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার মা হয়েছি। আমার ছেলের বয়স এখন ২ মাস, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। সারাদিন মোটামুটি ঘুমালেও রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না। রাত ১২-১টার পরও জেগে থাকে, বারবার কোলে নিতে হয়। এতে আমরাও খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এত ছোট বাচ্চার ঘুমের রুটিন কীভাবে ধীরে ধীরে ঠিক করা যায়?

শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন
জিজ্ঞাসা
শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ৯ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। কয়েক দিন ধরে দেখছি, ছোট ছোট বিষয়েও মিথ্যা বলছে। ধরাও পড়ছে, তারপরও আবার একই কাজ করছে। আমরা কি কোথাও ভুল করছি? বকাঝকা না করে কীভাবে এই অভ্যাসটা ঠিক করা যায়?

হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়
জিজ্ঞাসা
হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়

প্রশ্নঃ আমার দুই ছেলে। বড়টার বয়স ৮ বছর, ছোটটার ৫ বছর। বড় ছেলে কোনো খেলায় বা পড়াশোনায় হারলে খুব ভেঙে পড়ে। রেগে যায়, কান্না করে, আবার বলে সে আর কখনো খেলবে না। ছোট একটা হারও ও মেনে নিতে পারে না। ওকে কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারি?

মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন
জিজ্ঞাসা
মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৪ বছর বয়সী, একমাত্র সন্তান। প্রথম প্রথম খাওয়ানোর সময় মোবাইল দিতাম। এখন এমন হয়েছে, মোবাইল ছাড়া এক লোকমাও খায় না। মোবাইল বন্ধ করলেই কান্না শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কীভাবে বাদ দিতে পারি?

দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?
জিজ্ঞাসা
দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?

প্রশ্ন: আমি একজন চাকরিজীবী মা। আমার ছেলে ১ বছর ৬ মাসের, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। অফিসে যাওয়ার সময় ওকে ওর দাদির কাছে রেখে যাই। সমস্যা হলো, দাদি ওকে খুব আদর করে প্রায়ই চিপস, চকলেট দেন, আবার খাওয়ানোর সময় মোবাইলে কার্টুনও চালিয়ে দেন। আমি এগুলো একদমই চাই না, কিন্তু কিছু বললে উনি কষ্ট পান। এমন অবস্থায় কী করলে সবাইকে সম্মান রেখেও বিষয়টা সামলানো যায়?

সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার
বিনোদন
সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার

শাহ আলম সপ্তাহে ছয় দিন রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ, তারপর সংসারের হিসাব, বাজারের চিন্তা, বাড়িভাড়া, ওষুধ, সব মিলিয়ে জীবনটা যেন প্রতিদিন একই ছন্দে আটকে আছে। তার স্ত্রীও অন্যের বাসায় কাজ করেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই আগের মতো সবকিছু সামলাতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিন বছরের ছেলে রাফি বেশিরভাগ সময় ছোট্ট ঘরের ভেতরেই খেলাধুলা করে।

বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?
মূল্যবোধ
বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম, সন্তান মানুষ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে ভালো স্কুলে পড়ানো, ঠিকমতো খাওয়ানো আর ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো। কিন্তু বাবা হওয়ার পর ধীরে ধীরে একটা বিষয় বুঝতে শুরু করেছি, শিশুরা শুধু আমাদের কথা শুনে বড় হয় না, তারা আমাদের সম্পর্ক “দেখে” বড় হয়।

দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?
মূল্যবোধ
দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?

আমি আগে ভাবতাম দায়িত্বশীলতা হয়তো বড় হওয়ার পর শেখে মানুষ। চাকরি, সংসার বা জীবনের চাপ সামলাতে সামলাতেই দায়িত্ববোধ আসে। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝলাম, দায়িত্বশীল হওয়ার বীজ আসলে অনেক ছোট বয়স থেকেই তৈরি হয়।

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?
মূল্যবোধ
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমি একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ভাগাভাগি শেখানো ভবিষ্যতে আমাদের সবচেয়ে বড় অভিভাবকত্বের চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে। যদিও ওরা এখনো ছোট, তবুও মাঝে মাঝে একজনের খেলনা আরেকজনের হাতে গেলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন বুঝতে পারি, “আমার জিনিস”, এই অনুভূতিটা খুব ছোট বয়স থেকেই তৈরি হতে শুরু করে।

কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে
মূল্যবোধ
কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে

আমাদের বাসায় যেহেতু যৌথ পরিবার, আর আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি, তাই গৃহকর্মী বা সহায়তাকারী কর্মীদের উপর অনেক কাজ নির্ভর করে। বিশেষ করে যমজ ছেলে হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুকে বড় করতে শুধু মা-বাবা না, বাসার পরিবেশও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?
বিনোদন
সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?

সন্তান হওয়ার পর একটা জিনিস আমি খুব কাছ থেকে বুঝেছি, বাজারে শিশুদের জন্য জিনিসের কোনো শেষ নেই। দামি মিউজিক্যাল খেলনা, স্মার্ট শেখার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় দোলনা, বিদেশি অ্যাক্টিভিটি সেট দেখে অনেক সময় মনে হয়, “এসব না কিনলে বুঝি শিশুর বিকাশ পিছিয়ে যাবে।” আমাদের মতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে এই চাপ আরও বেশি। আত্মীয়স্বজনও অনেক সময় বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সেরা জিনিসটাই তো নিতে হবে।” আমিও শুরুতে ভাবতাম, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা।

ফ্যামিলি আউটিং কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে?
বিনোদন
ফ্যামিলি আউটিং কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে?

আগে আমি ফ্যামিলি আউটিং মানেই ভাবতাম একটু ঘুরতে যাওয়া, ছবি তোলা, বাইরে খাওয়া আর ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা। কিন্তু যমজ ছেলে হওয়ার পর বিষয়টা অন্যভাবে দেখতে শুরু করেছি। এখন যখন ওদের নিয়ে ছাদে হাঁটি, পার্কে যাই বা পরিবারের সবাই মিলে একটু বাইরে বের হই, তখন বুঝতে পারি, শিশুর জন্য বাইরে যাওয়া শুধু বিনোদন না, এটা শেখারও একটা বড় অংশ।

নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?
শিক্ষা
নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

আমাদের দেশে এখনো অনেক পরিবারে খুব সাধারণ একটা ধারণা হলো নবজাতক শিশু মানেই “মায়ের দায়িত্ব”। বাবা মূলত বাইরে কাজ করবে, উপার্জন করবে, আর শিশুর আসল যত্ন নেবে মা ও পরিবারের অন্য নারীরা। যমজ ছেলে হওয়ার আগে আমিও অনেকটা এমনটাই ভাবতাম। মনে হতো, এত ছোট বাচ্চার সাথে “শেখানো” আবার কী!

শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?
মূল্যবোধ
শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?

ফাহমিদা বেগম ছোটবেলায় খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। সংসারের অভাব, দ্রুত কাজের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন গার্মেন্টসে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে মাঝে মাঝে তিনি মেয়েদের পড়তে বসা দেখেন আর মনে মনে ভাবেন, “ছেলে-মেয়েদেরকে যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি।”

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো
শিক্ষা
শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

ফাহমিদা বেগমের বাসায় পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো শান্ত পরিবেশ নেই। এক রুমের ঘরে টিভির শব্দ, রান্নার আওয়াজ, ছোট ছেলের কান্না এসবকিছুর মাঝেই বড় দুই মেয়েকে পড়তে বসতে হয়। কখনো তারা রাতে পড়ে, কখনো সকালে, আবার কোনোদিন একদমই বসতে চায় না।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়
স্বাস্থ্য
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ছোট ছোট ভাড়া বাসা, সরু গলি, পাশের বাসার শব্দ, রাস্তার ধুলো মিলিয়ে জায়গাটা সবসময়ই ব্যস্ত। বাচ্চারা খেলতে বের হলে কখনো ড্রেনের পাশে চলে যায়, কখনো ধুলাবালির মধ্যে দৌড়ায়। শীত এলেই কাশি-সর্দি যেন বাসার স্থায়ী অতিথি হয়ে যায়। এই ধরনের পরিবেশে যারা বড় হয়, তাদের অনেক মা-বাবার মনেই একটা প্রশ্ন থাকে, “এত ভিড় আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেও শিশুকে কীভাবে সুস্থ রাখা যায়?” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করা মানেই শিশু যে অসুস্থ হবেই এমন না। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি ও মানসিক চাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বায়ুদূষণ ও অপরিষ্কার পরিবেশ।

বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?
মননশীলতা
বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?

ফাহমিদা বেগমের বড় মেয়েটার বয়স মাত্র ৯ বছর। কিন্তু অনেক সময় তাকে দেখে মনে হয় সে যেন এই বাসার আরেকজন ছোট মা। সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে ছোট ভাইকে খাওয়ানো, বিকেলে তাকে ঘুম পাড়ানো, মা কাজে গেলে নজর রাখা; এসব এখন তার দৈনন্দিন কাজের অংশ। ফাহমিদা নিজেও বুঝতে পারেন, মেয়েটার ওপর দায়িত্ব একটু বেশিই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপায়ও যেন খুব বেশি নেই। গার্মেন্টসের চাকরি, সংসারের কাজ, স্বামীর অনিয়মিত আয়, সব মিলিয়ে বড় মেয়েটার সাহায্য ছাড়া অনেক সময় সংসার সামলানো কঠিন হয়ে যায়।

শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
মূল্যবোধ
শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

একদিন মেয়েকে নিয়ে শপিং মলে গিয়েছিলাম। ও একটা খেলনা পছন্দ করেছিল। সেদিন সেটি কেনার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, তাই আমি বলেছিলাম, “আজ না।” কিন্তু ওর প্রতিক্রিয়া আমাকে একটু অবাক করেছিল। খুব বিরক্ত হয়ে বলছিল, “কেন না? আমি তো এটা চাই!”

শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে
বিনোদন
শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে

আমাদের বাসায় একটা সময় ছিল, যখন স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যেতাম। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখতাম, আমার মেয়ে ট্যাবলেট নিয়ে কার্টুন দেখছে। প্রথমে মনে হতো, পুরো বিষয়টাই একদম বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে বুঝলাম, আজকের সময়ে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর কীভাবে ব্যবহার করছে। সত্যি বলতে, সব স্ক্রিন টাইম একরকম না।

“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা
শিক্ষা
“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা

আমাদের মেয়ের স্কুলে ভর্তি করার সময় আমি আর আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনেছি, সেটা হলো, “ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন না?” ঢাকার শহুরে প্যারেন্টিং কালচার -এ সত্যি বলতে একটা নীরব চাপ কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইংলিশ মিডিয়াম মানেই ভালো শিক্ষা, ভালো ভবিষ্যৎ, ভালো আত্মবিশ্বাস। আবার অন্যদিকে উল্টো বিচারও আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম পরিবার মনে করে ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও অকারণ একটা বিভাজন তৈরি হয়, “ও ইংলিশ মিডিয়াম”, “ও বাংলা মিডিয়াম”।

দাদা-দাদী, নানা-নানীর সাথে সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মূল্যবোধ
দাদা-দাদী, নানা-নানীর সাথে সম্পর্ক শিশুর মানসিক বিকাশে কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমার ছেলে এখন তিন বছরের। আর ছোট মেয়েটা মাত্র তিন মাসের। আমরা শহরে থাকি, কারণ আমার স্বামীর ব্যবসা এখানে। কিন্তু আমাদের দুই পরিবারের বড়রা যেমন দাদা-দাদী, নানা-নানী, সবাই গ্রামে থাকেন। তাই বছরের ছুটির সময়গুলোতে আমরা গ্রামে যাওয়ার চেষ্টা করি। সত্যি কথা বলতে, আগে আমি ভাবতাম এটা শুধু “আত্মীয়দের সাথে দেখা করা”। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, এই সম্পর্কগুলো শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?
বিনোদন
ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?

ব্যস্ততা যেন আমাদের সবাইকে একদম জড়িয়ে ফেলছে। আমার স্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। বাসায় ফিরে ও ক্লান্ত থাকে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর আমি সারাদিন দুই বাচ্চা, রান্না, ঘরের কাজ সামলে দিনের শেষে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই যে অনেক সময় নিজের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এই ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতেই পারিনি যে আমরা একই বাসায় থাকলেও, পরিবারের সাথে খুবই কম পরিমান সময় কাটানো হচ্ছে।

ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো
মূল্যবোধ
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার, কিন্তু কাজের যেন শেষ নেই। রাফির মা গর্ভবতী হওয়ায় এখন আগের চেয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। একদিন রান্না করার সময় হঠাৎ তার হাত থেকে চামচ পড়ে যায়। তখন ছোট্ট রাফি দৌড়ে গিয়ে চামচটা তুলে দেয়। ঘটনাটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু শাহ আলম চুপচাপ সেটা দেখছিল। তার মনে হচ্ছিল, শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যদি অন্যকে সাহায্য করতে শেখানো যায়, তাহলে সেটাই হয়তো তার চরিত্রের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।

ভদ্র ও সম্মানজনক ভাষা শেখানো শিশুর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মূল্যবোধ
ভদ্র ও সম্মানজনক ভাষা শেখানো শিশুর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শাহ আলম একদিন দোকানে বসে কাজ করছিল। তার তিন বছরের ছেলে রাফিও পাশে খেলছিল। হঠাৎ রাফি রেগে গিয়ে আরেকটা বাচ্চাকে এমন একটা কথা বলে ফেলল, যেটা শুনে শাহ আলম চমকে ওঠে। কারণ কথাটা সে নিজেই কয়েকদিন আগে রাগের মাথায় বলেছিল। সেদিন প্রথমবার সে বুঝতে পারে, শিশুরা শুধু কথা শোনে না, তারা কথার ধরনও শিখে ফেলে।

সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো
মননশীলতা
সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার। বাইরে রাস্তার শব্দ, পাশের ঘরের মানুষের ঝগড়া, কখনো টাকার চিন্তা, সব মিলিয়ে পরিবেশটা খুব শান্ত না। তবুও শাহ আলম একটা জিনিস খুব খেয়াল করে। রাফি যখন কিছু করতে গিয়ে ভয় পায়, বা “আমি পারবো না” বলে পিছিয়ে যায়, তখন তার নিজের বুকটাও কেমন হালকা কেঁপে ওঠে। কারণ সে জানে, অভাবের মধ্যে বড় হওয়া শিশুরা অনেক সময় খুব ছোট বয়স থেকেই নিজের সম্পর্কে হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো
মননশীলতা
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো

শাহ আলম প্রায়ই একটা ব্যাপার খেয়াল করে। সারাদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করার পর যখন বাসায় ফেরে, তার তিন বছরের ছেলে রাফি মোবাইল দেখতে চায়। বাসার এক কোণে বসে থাকা ছেলেটার জন্য নতুন খেলনা কেনার সামর্থ্য সবসময় থাকে না। বাজারে চাল, ডাল, ওষুধ, এসবের দাম সামলাতেই মাস শেষ হয়ে যায়।

স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?
বিনোদন
স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সত্যি কথা বলতে কী, অনেক সময় ক্লান্তির কারণে মোবাইল বা কার্টুন আমাদের জন্য সহজ সমাধান হয়ে যায়। অফিস থেকে ফিরে যখন মাথা আর কাজ করতে চায় না, তখন বাচ্চাকে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখাটা বেশ সহজ মনে হয়। আমিও করেছি। বিশেষ করে আমার চার বছরের ছেলে খুব দ্রুত ইউটিউব আর কার্টুনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। একসময় এমন হয়েছিল, মোবাইল না দিলে সে বিরক্ত হয়ে যেত। তখন আমি আর ওর মা বুঝলাম, বিষয়টা নিয়ে একটু সচেতন হওয়া দরকার।

শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমি ছোটবেলায় একটা জিনিস খুব বেশি দেখেছি, পরিবারের পড়াশোনার দায়িত্ব সাধারণত মায়ের ওপরই বেশি থাকত। বাবা সংসারের খরচ চালাতেন, আর মা দেখতেন স্কুল, হোমওয়ার্ক, খাতা আর পরীক্ষার বিষয়গুলো। এখন নিজে বাবা হওয়ার পর বুঝছি, এই ধারণাটা এখনো অনেক পরিবারে আছে।

Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?
মননশীলতা
Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম financial stress মানে শুধু টাকার চিন্তা। মাস শেষে হিসাব মিলছে কি না, বাচ্চার স্কুলের খরচ, বাজারের দাম, বাসা ভাড়া, এই পর্যন্তই। কিন্তু সংসার চালাতে চালাতে এখন বুঝি, অর্থনৈতিক চাপ শুধু পকেটে প্রভাব ফেলে না, এটা ধীরে ধীরে মানুষের আচরণ, ধৈর্য, সম্পর্ক, সবকিছুর উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। আমি একজন চাকরিজীবী মানুষ। একমাত্র ইনকাম সোর্স হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব অনেক সময় মাথার উপর ভার হয়ে থাকে। দুই ছোট বাচ্চা, বাবা-মা, সংসারের নিয়মিত খরচ, সব মিলিয়ে এমন অনেক রাত গেছে যখন ঘুমানোর আগেও মাথার মধ্যে হিসাব চলেছে। আর সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, অনেক সময় নিজের অজান্তেই সেই স্ট্রেস পরিবারের উপর গিয়ে পড়ে।

শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মননশীলতা
শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সকাল থেকে অফিস ও সংসারের দায়িত্ব সামলিয়ে দিনের শেষে মনে হয় নিজের জন্যই সময় থাকে না। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারলাম শিশুদের সবসময় অনেক খেলনা, দামি জিনিস বা বড় আউটিং দরকার হয় না। অনেক সময় তারা শুধু চায় বাবা-মা একটু মন দিয়ে তাদের পাশে বসুক।

শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?
মূল্যবোধ
শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?

আমি আগে সত্যি একটা জিনিস বিশ্বাস করতাম, ছোট বাচ্চারা বড়দের কথা ঠিকমতো বোঝে না। তাই তাদের সামনে একটু উচ্চস্বরে কথা বলা বা তর্ক-বিতর্ক হলে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু মা হওয়ার পর ধীরে ধীরে বুঝেছি, শিশুরা অনেক কিছু ভাষায় বুঝতে না পারলেও পরিবেশ অনুভব করতে পারে। আমার ছেলে যখন প্রায় দুই বছরের, একদিন আমি আর ওর বাবা একটা বিষয় নিয়ে একটু জোরে কথা বলছিলাম। খুব বড় কিছু না, সাধারণ সংসারের ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম, ছেলে চুপচাপ হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর এসে আমার কাপড় ধরে দাঁড়িয়ে রইল।

“কথা না শুনলেই রাগ!”  ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?
মননশীলতা
“কথা না শুনলেই রাগ!” ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?

আমার ছেলে যখন দুই বছর পার করে তিনে পা দিল, তখন থেকেই আমি একটা নতুন জিনিস বুঝতে শুরু করি, এই বয়সের বাচ্চাদের মোড কখন কোন দিকে যায়, সেটা বোঝা সত্যিই কঠিন। একটু আগে যে বাচ্চা হাসছিল, পাঁচ মিনিট পর সেই একই বাচ্চা মাটিতে শুয়ে কান্না করছে শুধু একটা বিস্কুট বা খেলনার জন্য। শুরুতে আমি ভাবতাম, হয়তো আমি ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। পরে শিশুদের আচরণ নিয়ে পড়তে গিয়ে বুঝলাম, ২–৪ বছর বয়সে রাগ, জেদ, আবেগের বিস্ফোরণ, এগুলো আসলে খুবই স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ।

ভাইবোন Rivalry এর কারণ ও সমাধানের উপায়
মননশীলতা
ভাইবোন Rivalry এর কারণ ও সমাধানের উপায়

অফিস থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায়ই রাত হয়ে যায়। ঢাকার ট্রাফিক পার করে যখন বাসায় ঢুকি, তখন মাথার মধ্যে শুধু একটা চিন্তাই থাকে, আজকে একটু শান্তিতে বসতে পারবো তো? কিন্তু দরজা খুলেই প্রায়ই দেখি আমার চার বছরের ছেলে আর দুই বছরের মেয়ে খেলনা নিয়ে ঝগড়া করছে। একজন আরেকজনের হাত থেকে কিছু কেড়ে নিচ্ছে, কেউ কান্না করছে, কেউ চিৎকার করছে।

সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা
মূল্যবোধ
সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা খুব ছোট। এক রুমের ভেতরেই ঘুম, রান্না, পড়াশোনা সব চলে। স্বামীর কাজ কখনো থাকে, কখনো থাকে না। মাসের শেষে টাকার চিন্তা, বাসা ভাড়ার চাপ, বাচ্চাদের স্কুলের খরচ এসব নিয়ে ঘরে অশান্তি হওয়াও নতুন কিছু না। তবু আশেপাশের অনেকেই একটা বিষয় খেয়াল করে যে তাদের বাসায় গেলে বাচ্চাদের মুখে ভয় কম, হাসি বেশি। কারণ ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ সবসময় টাকার ওপর নির্ভর করে না। অনেক সময় এটি নির্ভর করে ঘরের মানসিক অবস্থার ওপর।

শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং
মননশীলতা
শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং

মা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম বাচ্চাকে ভালো খাবার দেওয়া, পরিষ্কার রাখা আর ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তাটাই বুঝি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর একটি হলো বাবা-মায়ের সাথে ইমোশনাল বন্ডিং বা মানসিক সংযোগ।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা
মূল্যবোধ
শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

শিশুকে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুকে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো

আমরা অনেক সময় মনে করি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো কেবল একটি ভালো অভ্যাস। কিন্তু এটি আসলে শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুর মনে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা যায়, তাহলে তার মধ্যে ধীরে ধীরে অন্যের অনুভূতি বোঝা, সহানুভূতি দেখানো এবং দায়িত্ব নেওয়ার মতো গুণগুলো তৈরি হয়। শিশুরা যখন প্রাণীদের সাথে সময় কাটায় বা তাদের যত্ন নিতে শেখে, তখন তারা বুঝতে শুরু করে যে পৃথিবীর সব জীবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর চরিত্র গঠনে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা
মননশীলতা
শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা

শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে আত্মপরিচয় (Self-Identity) ও আত্মসম্মান (Self-Esteem) । আত্মপরিচয় বলতে বোঝায় একটি শিশু ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে সে কে, তার কী কী গুণ আছে, সে কী করতে পারে এবং কোন কাজগুলো করতে তার ভালো লাগে।

শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো

শিশুর জীবনের শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য চিন্তা করা,সহযোগিতা করা এবং সমাজের সাথে মিলেমিশে থাকা আয়ত্ত করা। এই গুণগুলো শিশুর মানসিক বিকাশ, সামাজিক দক্ষতা এবং সবার সাথে সুসম্পর্ক গড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যখন একটি শিশু ছোট বেলায় অন্যকে সাহায্য করা, অন্যের সাথে ভাগ করা এবং একসাথে কাজ করার অভ্যাস করে, তখন সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে তার আচরণ এবং সিদ্ধান্ত অন্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই উপলব্ধি তাকে দায়িত্ববোধ, সমবেদনা এবং ইতিবাচক সামাজিক আচরণ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।