লোগো

3 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্তউৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিংবিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
শিশু কারো কোলে যেতে চায় না: এটা কি লজ্জা, নাকি স্বাভাবিক সীমাবোধ?
জিজ্ঞাসা
শিশু কারো কোলে যেতে চায় না: এটা কি লজ্জা, নাকি স্বাভাবিক সীমাবোধ?

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ৪ বছর, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। বাইরে কোথাও গেলে সবাই কোলে নিতে চায় বা আদর করতে আসে। কিন্তু ও কাউকে কাছে আসতে দিতে চায় না, জোরে কাঁদতে শুরু করে। অনেকেই বলে, আমি নাকি ওকে বেশি আগলে রাখি। সত্যিই কি তাই, নাকি এটা স্বাভাবিক?

ভুল করলেই নিজের ওপর রাগ: শিশুকে কীভাবে শেখাবেন ভুলও শেখার অংশ
জিজ্ঞাসা
ভুল করলেই নিজের ওপর রাগ: শিশুকে কীভাবে শেখাবেন ভুলও শেখার অংশ

প্রশ্নঃ আমি একজন বাবা। আমার ছেলের বয়স ৮ বছর, ওর ছোট একটা বোন আছে। পড়াশোনা বা খেলাধুলায় একটু ভুল হলেই নিজের ওপর খুব রেগে যায়। খাতাও ছিঁড়ে ফেলে। সব কাজ একদম নিখুঁত করতে চায়। ওকে কীভাবে বুঝাব যে ভুল করাও শেখারই অংশ?

“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন
জিজ্ঞাসা
“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন

প্রশ্নঃ আমার দুই মেয়ে। বড়টার বয়স ১০ বছর, ছোটটার ৭ বছর। বড় মেয়েটা এখন প্রায়ই বলে, "আমি মোটা হয়ে গেছি", "আমি সুন্দর না।" এসব কথা শুনে খুব খারাপ লাগে। এত ছোট বয়সে নিজের চেহারা নিয়ে এমন চিন্তা কেন করছে? আমি কীভাবে ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারি?

২ মাসের শিশুর রাতের ঘুম: ধীরে ধীরে রুটিন গড়ার সহজ উপায়
জিজ্ঞাসা
২ মাসের শিশুর রাতের ঘুম: ধীরে ধীরে রুটিন গড়ার সহজ উপায়

প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার মা হয়েছি। আমার ছেলের বয়স এখন ২ মাস, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। সারাদিন মোটামুটি ঘুমালেও রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না। রাত ১২-১টার পরও জেগে থাকে, বারবার কোলে নিতে হয়। এতে আমরাও খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এত ছোট বাচ্চার ঘুমের রুটিন কীভাবে ধীরে ধীরে ঠিক করা যায়?

শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন
জিজ্ঞাসা
শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ৯ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। কয়েক দিন ধরে দেখছি, ছোট ছোট বিষয়েও মিথ্যা বলছে। ধরাও পড়ছে, তারপরও আবার একই কাজ করছে। আমরা কি কোথাও ভুল করছি? বকাঝকা না করে কীভাবে এই অভ্যাসটা ঠিক করা যায়?

পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?
জিজ্ঞাসা
পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

প্রশ্নঃ আমি একজন কর্মজীবী বাবা। আমার ছেলে ৭ বছর বয়সী, ওর ছোট একটা বোন আছে। ও পড়তে বসলে পাঁচ মিনিট পরপর উঠে যায়। কখনো পানি খাবে, কখনো পেন্সিল খুঁজবে, কখনো অন্য কিছু করবে। জোর করলে পড়ে, কিন্তু নিজের থেকে মনোযোগ দিতে পারে না। এটা কি বয়সের কারণে, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়
জিজ্ঞাসা
হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়

প্রশ্নঃ আমার দুই ছেলে। বড়টার বয়স ৮ বছর, ছোটটার ৫ বছর। বড় ছেলে কোনো খেলায় বা পড়াশোনায় হারলে খুব ভেঙে পড়ে। রেগে যায়, কান্না করে, আবার বলে সে আর কখনো খেলবে না। ছোট একটা হারও ও মেনে নিতে পারে না। ওকে কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারি?

মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন
জিজ্ঞাসা
মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৪ বছর বয়সী, একমাত্র সন্তান। প্রথম প্রথম খাওয়ানোর সময় মোবাইল দিতাম। এখন এমন হয়েছে, মোবাইল ছাড়া এক লোকমাও খায় না। মোবাইল বন্ধ করলেই কান্না শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কীভাবে বাদ দিতে পারি?

৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়
জিজ্ঞাসা
৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৩ বছর বয়সী, ওর কোনো ভাইবোন নেই। আগে মোটামুটি সব খাবারই খেত, কিন্তু এখন শুধু বিস্কুট, দুধ আর চিপস খেলেই খুশি। ভাত বা সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। না খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারে, তবুও ভালো খাবার খেতে চায় না। এটা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।

দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?
জিজ্ঞাসা
দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?

প্রশ্ন: আমি একজন চাকরিজীবী মা। আমার ছেলে ১ বছর ৬ মাসের, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। অফিসে যাওয়ার সময় ওকে ওর দাদির কাছে রেখে যাই। সমস্যা হলো, দাদি ওকে খুব আদর করে প্রায়ই চিপস, চকলেট দেন, আবার খাওয়ানোর সময় মোবাইলে কার্টুনও চালিয়ে দেন। আমি এগুলো একদমই চাই না, কিন্তু কিছু বললে উনি কষ্ট পান। এমন অবস্থায় কী করলে সবাইকে সম্মান রেখেও বিষয়টা সামলানো যায়?

সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার
বিনোদন
সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার

শাহ আলম সপ্তাহে ছয় দিন রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ, তারপর সংসারের হিসাব, বাজারের চিন্তা, বাড়িভাড়া, ওষুধ, সব মিলিয়ে জীবনটা যেন প্রতিদিন একই ছন্দে আটকে আছে। তার স্ত্রীও অন্যের বাসায় কাজ করেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই আগের মতো সবকিছু সামলাতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিন বছরের ছেলে রাফি বেশিরভাগ সময় ছোট্ট ঘরের ভেতরেই খেলাধুলা করে।

বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?
মূল্যবোধ
বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম, সন্তান মানুষ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে ভালো স্কুলে পড়ানো, ঠিকমতো খাওয়ানো আর ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো। কিন্তু বাবা হওয়ার পর ধীরে ধীরে একটা বিষয় বুঝতে শুরু করেছি, শিশুরা শুধু আমাদের কথা শুনে বড় হয় না, তারা আমাদের সম্পর্ক “দেখে” বড় হয়।

দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?
মূল্যবোধ
দৈনন্দিন ছোট অভ্যাস কীভাবে শিশুকে দায়িত্বশীল করে তোলে?

আমি আগে ভাবতাম দায়িত্বশীলতা হয়তো বড় হওয়ার পর শেখে মানুষ। চাকরি, সংসার বা জীবনের চাপ সামলাতে সামলাতেই দায়িত্ববোধ আসে। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝলাম, দায়িত্বশীল হওয়ার বীজ আসলে অনেক ছোট বয়স থেকেই তৈরি হয়।

কর্মব্যস্ত বাবার ক্লান্তি কি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে?
স্বাস্থ্য
কর্মব্যস্ত বাবার ক্লান্তি কি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে?

অফিস থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক দিনই আমার মনে হয় আমি যেন পুরোপুরি খালি হয়ে গেছি। সকালে বের হওয়ার সময় বাচ্চারা তখনো আধা ঘুমে থাকে, আর রাতে ফিরতে ফিরতে তারা কেউ খেতে বসেছে, কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাঝে মাঝে আমার চার বছরের ছেলে দৌড়ে এসে খেলতে চায়, মেয়ে কোলে উঠতে চায়। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, সবসময় সেই শক্তিটা আমার থাকে না।

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?
মূল্যবোধ
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমি একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ভাগাভাগি শেখানো ভবিষ্যতে আমাদের সবচেয়ে বড় অভিভাবকত্বের চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে। যদিও ওরা এখনো ছোট, তবুও মাঝে মাঝে একজনের খেলনা আরেকজনের হাতে গেলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন বুঝতে পারি, “আমার জিনিস”, এই অনুভূতিটা খুব ছোট বয়স থেকেই তৈরি হতে শুরু করে।

কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে
মূল্যবোধ
কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে

আমাদের বাসায় যেহেতু যৌথ পরিবার, আর আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি, তাই গৃহকর্মী বা সহায়তাকারী কর্মীদের উপর অনেক কাজ নির্ভর করে। বিশেষ করে যমজ ছেলে হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুকে বড় করতে শুধু মা-বাবা না, বাসার পরিবেশও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?
বিনোদন
সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?

সন্তান হওয়ার পর একটা জিনিস আমি খুব কাছ থেকে বুঝেছি, বাজারে শিশুদের জন্য জিনিসের কোনো শেষ নেই। দামি মিউজিক্যাল খেলনা, স্মার্ট শেখার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় দোলনা, বিদেশি অ্যাক্টিভিটি সেট দেখে অনেক সময় মনে হয়, “এসব না কিনলে বুঝি শিশুর বিকাশ পিছিয়ে যাবে।” আমাদের মতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে এই চাপ আরও বেশি। আত্মীয়স্বজনও অনেক সময় বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সেরা জিনিসটাই তো নিতে হবে।” আমিও শুরুতে ভাবতাম, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা।

ফ্যামিলি আউটিং কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে?
বিনোদন
ফ্যামিলি আউটিং কি শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে?

আগে আমি ফ্যামিলি আউটিং মানেই ভাবতাম একটু ঘুরতে যাওয়া, ছবি তোলা, বাইরে খাওয়া আর ক্লান্ত হয়ে বাসায় ফেরা। কিন্তু যমজ ছেলে হওয়ার পর বিষয়টা অন্যভাবে দেখতে শুরু করেছি। এখন যখন ওদের নিয়ে ছাদে হাঁটি, পার্কে যাই বা পরিবারের সবাই মিলে একটু বাইরে বের হই, তখন বুঝতে পারি, শিশুর জন্য বাইরে যাওয়া শুধু বিনোদন না, এটা শেখারও একটা বড় অংশ।

নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?
শিক্ষা
নবজাতকের সার্বিক বিকাশে বাবা কীভাবে ভূমিকা রাখতে পারেন?

আমাদের দেশে এখনো অনেক পরিবারে খুব সাধারণ একটা ধারণা হলো নবজাতক শিশু মানেই “মায়ের দায়িত্ব”। বাবা মূলত বাইরে কাজ করবে, উপার্জন করবে, আর শিশুর আসল যত্ন নেবে মা ও পরিবারের অন্য নারীরা। যমজ ছেলে হওয়ার আগে আমিও অনেকটা এমনটাই ভাবতাম। মনে হতো, এত ছোট বাচ্চার সাথে “শেখানো” আবার কী!

শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?
মূল্যবোধ
শিশুর শিক্ষাকে কেন অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি?

ফাহমিদা বেগম ছোটবেলায় খুব বেশি পড়াশোনা করতে পারেননি। সংসারের অভাব, দ্রুত কাজের দায়িত্ব, সব মিলিয়ে অল্প বয়সেই স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন গার্মেন্টসে দীর্ঘ সময় কাজ করার পরে মাঝে মাঝে তিনি মেয়েদের পড়তে বসা দেখেন আর মনে মনে ভাবেন, “ছেলে-মেয়েদেরকে যেন উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারি।”

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো
শিক্ষা
শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

ফাহমিদা বেগমের বাসায় পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো শান্ত পরিবেশ নেই। এক রুমের ঘরে টিভির শব্দ, রান্নার আওয়াজ, ছোট ছেলের কান্না এসবকিছুর মাঝেই বড় দুই মেয়েকে পড়তে বসতে হয়। কখনো তারা রাতে পড়ে, কখনো সকালে, আবার কোনোদিন একদমই বসতে চায় না।

সীমিত সামর্থ্যেও শিশু কীভাবে শিক্ষা লাভ করতে পারে?
শিক্ষা
সীমিত সামর্থ্যেও শিশু কীভাবে শিক্ষা লাভ করতে পারে?

ফাহমিদা বেগম প্রায়ই একটা ভয় পান, তার সন্তানরা কি ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারবে? গার্মেন্টসের চাকরির টাকায় কোনোভাবে সংসার চলে, কিন্তু ভালো কোচিং, আলাদা পড়ার রুম বা দামি স্কুলের সুযোগ তাদের নেই। বড় মেয়েটা একদিন স্কুল থেকে এসে বলেছিল, “আমার বন্ধু প্রাইভেট পড়ে। আমি না পড়লে পিছিয়ে যাবো না তো?” এই প্রশ্নটা শুধু ফাহমিদার মেয়ের না, বাংলাদেশের অসংখ্য নিম্নআয়ের পরিবারের শিশুর বাস্তবতা।

বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?
মননশীলতা
বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?

ফাহমিদা বেগমের বড় মেয়েটার বয়স মাত্র ৯ বছর। কিন্তু অনেক সময় তাকে দেখে মনে হয় সে যেন এই বাসার আরেকজন ছোট মা। সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে ছোট ভাইকে খাওয়ানো, বিকেলে তাকে ঘুম পাড়ানো, মা কাজে গেলে নজর রাখা; এসব এখন তার দৈনন্দিন কাজের অংশ। ফাহমিদা নিজেও বুঝতে পারেন, মেয়েটার ওপর দায়িত্ব একটু বেশিই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপায়ও যেন খুব বেশি নেই। গার্মেন্টসের চাকরি, সংসারের কাজ, স্বামীর অনিয়মিত আয়, সব মিলিয়ে বড় মেয়েটার সাহায্য ছাড়া অনেক সময় সংসার সামলানো কঠিন হয়ে যায়।

“সবকিছু পেয়ে যাওয়া” শিশুর ব্যক্তিত্বে কী প্রভাব ফেলে?
মূল্যবোধ
“সবকিছু পেয়ে যাওয়া” শিশুর ব্যক্তিত্বে কী প্রভাব ফেলে?

আমি আর আমার husband দুজনই ডাক্তার। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মেয়ের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব নেই। বই, খেলনা, সুন্দর পোশাক, ভালো স্কুল, ঘুরতে যাওয়া; যতটুকু সম্ভব আমরা ওর জন্য সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু মা হওয়ার পর একটা বিষয় খুব দ্রুত বুঝেছি, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা আর সন্তানের সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করে দেওয়া এক জিনিস না।

শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
মূল্যবোধ
শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

একদিন মেয়েকে নিয়ে শপিং মলে গিয়েছিলাম। ও একটা খেলনা পছন্দ করেছিল। সেদিন সেটি কেনার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, তাই আমি বলেছিলাম, “আজ না।” কিন্তু ওর প্রতিক্রিয়া আমাকে একটু অবাক করেছিল। খুব বিরক্ত হয়ে বলছিল, “কেন না? আমি তো এটা চাই!”

শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে
বিনোদন
শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে

আমাদের বাসায় একটা সময় ছিল, যখন স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যেতাম। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখতাম, আমার মেয়ে ট্যাবলেট নিয়ে কার্টুন দেখছে। প্রথমে মনে হতো, পুরো বিষয়টাই একদম বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে বুঝলাম, আজকের সময়ে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর কীভাবে ব্যবহার করছে। সত্যি বলতে, সব স্ক্রিন টাইম একরকম না।

“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা
শিক্ষা
“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা

আমাদের মেয়ের স্কুলে ভর্তি করার সময় আমি আর আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনেছি, সেটা হলো, “ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন না?” ঢাকার শহুরে প্যারেন্টিং কালচার -এ সত্যি বলতে একটা নীরব চাপ কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইংলিশ মিডিয়াম মানেই ভালো শিক্ষা, ভালো ভবিষ্যৎ, ভালো আত্মবিশ্বাস। আবার অন্যদিকে উল্টো বিচারও আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম পরিবার মনে করে ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও অকারণ একটা বিভাজন তৈরি হয়, “ও ইংলিশ মিডিয়াম”, “ও বাংলা মিডিয়াম”।

কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্য
কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?

আমি আর আমার স্বামী দুজনই ডাক্তার। তাই আমাদের বাসায় প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা। সকালে দ্রুত বের হওয়ার তাড়া, সারাদিন হাসপাতালের ব্যস্ততা, আর রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফেরা, সব মিলিয়ে প্রতিদিন নতুন করে সুষম খাবার রান্না করা সবসময় সম্ভব হয় না। বাসায় সাহায্যের মানুষ থাকায় কিছুটা সুবিধা হয় ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিন কী রান্না হবে, কীভাবে হবে, সবকিছু বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়াও সহজ নয়। এই কারণেই কয়েক বছর ধরে আমি "মিল প্ল্যানিং" বা আগেভাগে খাবারের পরিকল্পনা করার অভ্যাস গড়ে তুলেছি।

ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?
বিনোদন
ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?

ব্যস্ততা যেন আমাদের সবাইকে একদম জড়িয়ে ফেলছে। আমার স্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। বাসায় ফিরে ও ক্লান্ত থাকে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর আমি সারাদিন দুই বাচ্চা, রান্না, ঘরের কাজ সামলে দিনের শেষে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই যে অনেক সময় নিজের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এই ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতেই পারিনি যে আমরা একই বাসায় থাকলেও, পরিবারের সাথে খুবই কম পরিমান সময় কাটানো হচ্ছে।

ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো
মূল্যবোধ
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার, কিন্তু কাজের যেন শেষ নেই। রাফির মা গর্ভবতী হওয়ায় এখন আগের চেয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। একদিন রান্না করার সময় হঠাৎ তার হাত থেকে চামচ পড়ে যায়। তখন ছোট্ট রাফি দৌড়ে গিয়ে চামচটা তুলে দেয়। ঘটনাটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু শাহ আলম চুপচাপ সেটা দেখছিল। তার মনে হচ্ছিল, শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যদি অন্যকে সাহায্য করতে শেখানো যায়, তাহলে সেটাই হয়তো তার চরিত্রের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।

ভদ্র ও সম্মানজনক ভাষা শেখানো শিশুর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
মূল্যবোধ
ভদ্র ও সম্মানজনক ভাষা শেখানো শিশুর জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?

শাহ আলম একদিন দোকানে বসে কাজ করছিল। তার তিন বছরের ছেলে রাফিও পাশে খেলছিল। হঠাৎ রাফি রেগে গিয়ে আরেকটা বাচ্চাকে এমন একটা কথা বলে ফেলল, যেটা শুনে শাহ আলম চমকে ওঠে। কারণ কথাটা সে নিজেই কয়েকদিন আগে রাগের মাথায় বলেছিল। সেদিন প্রথমবার সে বুঝতে পারে, শিশুরা শুধু কথা শোনে না, তারা কথার ধরনও শিখে ফেলে।

হাতে তৈরি লার্নিং রিসোর্স
শিক্ষা
হাতে তৈরি লার্নিং রিসোর্স

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। আশেপাশের অনেক বাচ্চার হাতে রঙিন বই বা খেলনা দেখে মাঝে মাঝে তার খারাপ লাগে। বাজারে গেলে সে দেখে অক্ষর শেখার বোর্ড, সংখ্যা শেখার খেলনা, কথা বলা পুতুল সহ কত কিছু। কিন্তু মাসের শেষে ভাড়া, বাজার আর ওষুধের খরচ মিটিয়ে এসব কেনা প্রায় অসম্ভব।

সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো
মননশীলতা
সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার। বাইরে রাস্তার শব্দ, পাশের ঘরের মানুষের ঝগড়া, কখনো টাকার চিন্তা, সব মিলিয়ে পরিবেশটা খুব শান্ত না। তবুও শাহ আলম একটা জিনিস খুব খেয়াল করে। রাফি যখন কিছু করতে গিয়ে ভয় পায়, বা “আমি পারবো না” বলে পিছিয়ে যায়, তখন তার নিজের বুকটাও কেমন হালকা কেঁপে ওঠে। কারণ সে জানে, অভাবের মধ্যে বড় হওয়া শিশুরা অনেক সময় খুব ছোট বয়স থেকেই নিজের সম্পর্কে হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।

নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো
মননশীলতা
নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস দিয়ে ক্রিয়েটিভ খেলনা বানানো

শাহ আলম প্রায়ই একটা ব্যাপার খেয়াল করে। সারাদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করার পর যখন বাসায় ফেরে, তার তিন বছরের ছেলে রাফি মোবাইল দেখতে চায়। বাসার এক কোণে বসে থাকা ছেলেটার জন্য নতুন খেলনা কেনার সামর্থ্য সবসময় থাকে না। বাজারে চাল, ডাল, ওষুধ, এসবের দাম সামলাতেই মাস শেষ হয়ে যায়।

স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?
বিনোদন
স্ক্রিন ছাড়াও কি শিশুর বিনোদন সম্ভব?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সত্যি কথা বলতে কী, অনেক সময় ক্লান্তির কারণে মোবাইল বা কার্টুন আমাদের জন্য সহজ সমাধান হয়ে যায়। অফিস থেকে ফিরে যখন মাথা আর কাজ করতে চায় না, তখন বাচ্চাকে কিছুক্ষণ স্ক্রিনের সামনে বসিয়ে রাখাটা বেশ সহজ মনে হয়। আমিও করেছি। বিশেষ করে আমার চার বছরের ছেলে খুব দ্রুত ইউটিউব আর কার্টুনের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছিল। একসময় এমন হয়েছিল, মোবাইল না দিলে সে বিরক্ত হয়ে যেত। তখন আমি আর ওর মা বুঝলাম, বিষয়টা নিয়ে একটু সচেতন হওয়া দরকার।

শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমি ছোটবেলায় একটা জিনিস খুব বেশি দেখেছি, পরিবারের পড়াশোনার দায়িত্ব সাধারণত মায়ের ওপরই বেশি থাকত। বাবা সংসারের খরচ চালাতেন, আর মা দেখতেন স্কুল, হোমওয়ার্ক, খাতা আর পরীক্ষার বিষয়গুলো। এখন নিজে বাবা হওয়ার পর বুঝছি, এই ধারণাটা এখনো অনেক পরিবারে আছে।

ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
স্বাস্থ্য
ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

বাবা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম শিশুদের ঘুম মানে শুধু বিশ্রাম। বাচ্চা ঘুমালে শান্ত থাকে, কম কান্না করে, এই পর্যন্তই। কিন্তু সন্তান বড় হতে শুরু করার পর বুঝলাম, ঘুম আসলে শিশুর শেখা, আচরণ, মনোযোগ, এমনকি মস্তিষ্কের বিকাশের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। আমার চার বছরের ছেলে যখন রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না, পরের দিন সেটা খুব স্পষ্ট বোঝা যায়। ছোট ছোট বিষয়েও রেগে যায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, কখনো খেলতে খেলতেই বিরক্ত হয়ে পড়ে। আগে ভাবতাম হয়তো মুড খারাপ। পরে বুঝলাম, অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ ঘুমের অভাব।

শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মননশীলতা
শিশুর সাথে প্রতিদিন কমপক্ষে ১৫ মিনিট Quality Time কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সকাল থেকে অফিস ও সংসারের দায়িত্ব সামলিয়ে দিনের শেষে মনে হয় নিজের জন্যই সময় থাকে না। কিন্তু বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারলাম শিশুদের সবসময় অনেক খেলনা, দামি জিনিস বা বড় আউটিং দরকার হয় না। অনেক সময় তারা শুধু চায় বাবা-মা একটু মন দিয়ে তাদের পাশে বসুক।

শিশুর জন্য নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কীভাবে গড়ে তুলবেন?
স্বাস্থ্য
শিশুর জন্য নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কীভাবে গড়ে তুলবেন?

যমজ সন্তান হওয়ার পর আমি আর আমার স্ত্রী খুব দ্রুত একটা জিনিস বুঝে গিয়েছিলাম, শিশুকে বড় করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ঘুম। রাতের পর রাত এমন গেছে, যখন একজন ঘুমালেই আরেকজন জেগে উঠত। একজনকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াতে না পাড়াতেই অন্যজন কান্না শুরু করত। অনেক সময় মনে হতো, আমরা যেন পালা করে শুধু বাচ্চা সামলাচ্ছি, ঘুমানোর সুযোগই পাচ্ছি না।

স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?

একটা সময় ছিল, যখন আমি ভাবতাম ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া মানেই খারাপ অভ্যাস। বিশেষ করে একজন মা হিসেবে সবসময় একটা ভয় কাজ করত, বেশি স্ক্রিন ব্যবহার কি আমার মেয়ের মনোযোগ, আচরণ বা শেখার ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। শিশুরা এখন এমন এক পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে স্মার্ট ডিভাইস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তখন আমি বিষয়টাকে অন্যভাবে ভাবা শুরু করি। “কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ করব” এর বদলে “কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার শেখাব”, এই চিন্তাটাই আমার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?
মূল্যবোধ
শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?

আমি আগে সত্যি একটা জিনিস বিশ্বাস করতাম, ছোট বাচ্চারা বড়দের কথা ঠিকমতো বোঝে না। তাই তাদের সামনে একটু উচ্চস্বরে কথা বলা বা তর্ক-বিতর্ক হলে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু মা হওয়ার পর ধীরে ধীরে বুঝেছি, শিশুরা অনেক কিছু ভাষায় বুঝতে না পারলেও পরিবেশ অনুভব করতে পারে। আমার ছেলে যখন প্রায় দুই বছরের, একদিন আমি আর ওর বাবা একটা বিষয় নিয়ে একটু জোরে কথা বলছিলাম। খুব বড় কিছু না, সাধারণ সংসারের ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম, ছেলে চুপচাপ হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর এসে আমার কাপড় ধরে দাঁড়িয়ে রইল।

অল্প খরচে শিশুর জন্য তৈরি করুন একটি সুন্দর লার্নিং কর্নার
শিক্ষা
অল্প খরচে শিশুর জন্য তৈরি করুন একটি সুন্দর লার্নিং কর্নার

আমার ছেলে যখন প্রায় দুই বছরের কাছাকাছি, তখন একটা জিনিস খুব স্পষ্টভাবে বুঝতে পারতাম, ও সবকিছু নিয়েই কৌতূহলী। রান্নাঘরের চামচ, কাপড়ের ক্লিপ, পুরোনো বাক্স, সবকিছুই ওর কাছে খেলনা মনে হতো। তখন থেকেই ভাবতাম, বাসায় যদি ছোট্ট একটা লার্নিং কর্নার (শেখার কোণ) তৈরি করা যেত! কিন্তু সত্যি বলতে, আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে “লার্নিং সেটআপ” শুনলেই অনেক সময় মনে হয় অনেক টাকা লাগবে। বড় বইয়ের তাক, দামি খেলনা, দামি টেবিল, এগুলো না থাকলে বুঝি সম্ভব না।

অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক সন্তান পালন কি শিশুদের আত্মবিশ্বাসের উপর প্রভাব ফেলে?
মননশীলতা
অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক সন্তান পালন কি শিশুদের আত্মবিশ্বাসের উপর প্রভাব ফেলে?

নতুন বাবা হওয়ার পর আমি একটা বিষয় বুঝতে পারলাম যে সন্তান জন্মের সাথে সাথে বাবা-মায়ের ভয়ও জন্ম নেয়। “পড়ে যাবে না তো?”, “অসুস্থ হবে না তো?”, “কাঁদছে কেন?”, “এটা ধরলে সমস্যা হবে না তো?” এই চিন্তাগুলো খুব স্বাভাবিক।

“কথা না শুনলেই রাগ!”  ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?
মননশীলতা
“কথা না শুনলেই রাগ!” ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?

আমার ছেলে যখন দুই বছর পার করে তিনে পা দিল, তখন থেকেই আমি একটা নতুন জিনিস বুঝতে শুরু করি, এই বয়সের বাচ্চাদের মোড কখন কোন দিকে যায়, সেটা বোঝা সত্যিই কঠিন। একটু আগে যে বাচ্চা হাসছিল, পাঁচ মিনিট পর সেই একই বাচ্চা মাটিতে শুয়ে কান্না করছে শুধু একটা বিস্কুট বা খেলনার জন্য। শুরুতে আমি ভাবতাম, হয়তো আমি ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। পরে শিশুদের আচরণ নিয়ে পড়তে গিয়ে বুঝলাম, ২–৪ বছর বয়সে রাগ, জেদ, আবেগের বিস্ফোরণ, এগুলো আসলে খুবই স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ।

শিশুকে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস থেকে দূরে রাখার উপায়
স্বাস্থ্য
শিশুকে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস থেকে দূরে রাখার উপায়

আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে একটা বাস্তবতা আছে। বাবা-মা সবসময় একদম স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করে দিতে পারেন না। আমি অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরি, স্ত্রীও সারাদিন দুই বাচ্চা সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন সহজ সমাধান হিসেবে বিস্কুট, চিপস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার অনেক সময় হাতের কাছেই থাকে। কিন্তু শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

ভাইবোন Rivalry এর কারণ ও সমাধানের উপায়
মননশীলতা
ভাইবোন Rivalry এর কারণ ও সমাধানের উপায়

অফিস থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে প্রায়ই রাত হয়ে যায়। ঢাকার ট্রাফিক পার করে যখন বাসায় ঢুকি, তখন মাথার মধ্যে শুধু একটা চিন্তাই থাকে, আজকে একটু শান্তিতে বসতে পারবো তো? কিন্তু দরজা খুলেই প্রায়ই দেখি আমার চার বছরের ছেলে আর দুই বছরের মেয়ে খেলনা নিয়ে ঝগড়া করছে। একজন আরেকজনের হাত থেকে কিছু কেড়ে নিচ্ছে, কেউ কান্না করছে, কেউ চিৎকার করছে।

“মোবাইল না দিলে কান্না” এর পেছনের মানসিক কারণ
মননশীলতা
“মোবাইল না দিলে কান্না” এর পেছনের মানসিক কারণ

আমার ছেলেটার বয়স এখন তিন বছর। কিছুদিন আগেও একটা সময় ছিল, যখন মোবাইল না দিলে ও এমন কান্না করত যে আমি সত্যি ভয় পেয়ে যেতাম। রান্না করছি, ছোট মেয়েটাকে সামলাচ্ছি, ঘরের কাজ বাকি, এই অবস্থায় চুপ করানোর সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল মোবাইল হাতে ধরিয়ে দেওয়া। শুরুতে ব্যাপারটা নিরাপদ মনে হয়েছিল। কার্টুন দেখছে, ছড়া শুনছে, আমি একটু কাজ করতে পারছি, খারাপ কী? কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বন্ধ করলেই রাগ, কান্না, জিনিস ছোড়া, খেতে না চাওয়া, এসব আচরণ বাড়ছে। তখন বুঝলাম, এটা শুধু “বাচ্চার জেদ” না, এর পেছনে মানসিক কারণও আছে।

টুইন বেবিদের ওভারল স্বাস্থ্য সচেতনতা
স্বাস্থ্য
টুইন বেবিদের ওভারল স্বাস্থ্য সচেতনতা

টুইন বেবি সামলানো যেমন আনন্দের, তেমন দ্বিগুণ দায়িত্বও। একজন বাবু একটু কাশি দিলেই মাথায় প্রশ্ন আসে- “এবার কি আরেকজনেরও হবে?” আমাদের মতো যৌথ পরিবারে যেখানে বাসায় অনেক মানুষ, অতিথি আসা-যাওয়া, কোলে নেওয়া- সেখানে এই ভয় আরও বাস্তব। পুরোপুরি সব অসুখ আটকানো সম্ভব না, কিন্তু ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?
মননশীলতা
যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?

আমাদের দেশে যৌথ পরিবার এখনো অনেক পরিবারের বাস্তবতা। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা-ফুপু বা খালা-মামাদের উপস্থিতি শিশুর বেড়ে ওঠায় একটা বিস্তার ভূমিকা রাখে। একটি শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকেই না, পুরো পরিবারের পরিবেশ থেকেই নিজের পরিচয় বা Identity গঠন করতে শুরু করে।

ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা
বিনোদন
ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা খেলনার বাক্স নেই, বড় কোনো খেলার ঘরও নেই। কিন্তু বিকেল হলেই তার তিন সন্তান মিলে পুরো ঘরটাকে যেন খেলাধুলার দুনিয়া বানিয়ে ফেলে। কখনো বড় দুই বোন ছোট ভাইকে নিয়ে “স্কুল স্কুল” খেলে, কখনো বালিশ দিয়ে ঘর বানায়, কখনো আবার ঝগড়া করতে করতেই আবার খেলতে শুরু করে।

আপনার Privileged সন্তান কে সহানুভূতি শেখাবেন কীভাবে?
মূল্যবোধ
আপনার Privileged সন্তান কে সহানুভূতি শেখাবেন কীভাবে?

প্রতিদিনের ব্যস্ত হসপিটাল রুটিনের মধ্যে মেয়ের ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেক সময় খুব গভীরভাবে খেয়াল করা হয় না। সকালে তাড়াহুড়া, ডিউটি, ইমার্জেন্সি কল- সব মিলিয়ে দিনগুলো যেন খুব দ্রুত চলে যায়। এর মাঝেও একটা ব্যাপারে আমি সবসময় চেষ্টা করি, আমার মেয়েটার যেন কোনো অভাব না থাকে। হয়তো এই কারণেই ওর প্রয়োজনের আগেই অনেক কিছু রেডি থাকে। নতুন বই, খেলনা, পছন্দের খাবার, প্রাইভেট ক্লাস - সবকিছুই কোনভাবে অ্যারেঞ্জ হয়ে যায়।

গল্প বলা শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ায় কিভাবে?
বিনোদন
গল্প বলা শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ায় কিভাবে?

শাহ আলম রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরলে তার তিন বছরের ছেলে রাফি প্রায়ই বলে, “আব্বু, গল্প বলো।” প্রথমদিকে শাহ আলম অস্বস্তিতে পড়ে যেত। সে তো খুব বেশি পড়াশোনা জানে না, বইয়ের গল্পও মুখস্থ নেই। তাই মাঝে মাঝে এড়িয়ে যেত। কিন্তু এক রাতে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। অন্ধকার ঘরে বসে সে হঠাৎ বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প বলা শুরু করে, একটা ছোট্ট বিড়াল আর হারিয়ে যাওয়া লাল জুতার গল্প। গল্প শেষ হওয়ার পর রাফির চোখদুটো চকচক করছিল। পরদিনও সে একই গল্প আবার শুনতে চাইল। সেদিন শাহ আলম বুঝতে পারে, শিশুর কাছে গল্প শুধু বিনোদন না, এটা তার চিন্তা করার জগৎ খুলে দেয়।

বাবা-সন্তানের বন্ধন মজবুত করতে উইকএন্ড Activities এর ভূমিকা
বিনোদন
বাবা-সন্তানের বন্ধন মজবুত করতে উইকএন্ড Activities এর ভূমিকা

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সপ্তাহের ছয় দিনই প্রায় অফিস, ট্রাফিক আর দায়িত্বের মধ্যে চলে যায়। সকালে বের হওয়ার সময় বাচ্চারা আধা ঘুমে থাকে, আর রাতে ফিরতে ফিরতে অনেক সময় তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। ফলে পুরো সপ্তাহে সন্তানদের সাথে কোয়ালিটি টাইম খুব সীমিত হয়ে যায়। তাই এখন উইকএন্ড আমার কাছে শুধু বিশ্রামের দিন না, এটা সন্তানদের সাথে রিকানেক্ট করারও সময়। আগে উইকএন্ড মানেই ছিল ঘুম, বাজার আর বাসার কাজ শেষ করা। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, শিশুদের জন্য বাবা-মায়ের উপস্থিতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাবার সাথে অ্যাকটিভ ইন্টারঅ্যাকশন শিশুদের অনুভূতির বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা এর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যৌথ পরিবারে সন্তান পালন
মূল্যবোধ
যৌথ পরিবারে সন্তান পালন

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমি একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝতে পারলাম, সন্তান লালন-পালন শুধু মা-বাবার বিষয় না, বিশেষ করে যৌথ পরিবারে। আমাদের বাসায় বাচ্চাদের নিয়ে সবার আলাদা মতামত আছে। কেউ বলে বেশি কোলে নিলে অভ্যাস খারাপ হবে, কেউ বলে শিশুকে কান্না করতে দেওয়া উচিত না। কেউ চায় পুরোনো নিয়ম মেনে চলতে, আবার আমরা অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে চাই।

শিশুর শিক্ষামূলক ভিডিও: সাহায্য করে নাকি ক্ষতি করে?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষামূলক ভিডিও: সাহায্য করে নাকি ক্ষতি করে?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমাদের বাসায় একটা জিনিস খুব কমন হয়ে গিয়েছিল, ইউটিউব রেকমেন্ডেশন। কেউ বলছে “এই ভিডিও দিলে বাচ্চা ABC শিখবে”, কেউ বলছে “এই ছড়া শুনলে বাচ্চা শান্ত থাকে”, আবার কেউ বলছে “আজকালকার বাচ্চারা মোবাইল দিয়েই দ্রুত শেখে।” সত্যি বলতে, আমিও একসময় কৌতূহল থেকে “শিশুদের শিক্ষামূলক ভিডিও” চালিয়ে দেখেছিলাম। উজ্জ্বল রং, আকর্ষণীয় মিউজিক, নড়াচড়া করা শেপস ইত্যাদি দেখে মনে হয় সত্যিই শিক্ষামূলক কিছু। কিন্তু পরে বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে বুঝলাম, ব্যাপারটা আসলে এতটা সহজ না।

সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা
মূল্যবোধ
সীমিত আয়ে শিশুর জন্য ইতিবাচক পরিবেশ গড়ে তোলা

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা খুব ছোট। এক রুমের ভেতরেই ঘুম, রান্না, পড়াশোনা সব চলে। স্বামীর কাজ কখনো থাকে, কখনো থাকে না। মাসের শেষে টাকার চিন্তা, বাসা ভাড়ার চাপ, বাচ্চাদের স্কুলের খরচ এসব নিয়ে ঘরে অশান্তি হওয়াও নতুন কিছু না। তবু আশেপাশের অনেকেই একটা বিষয় খেয়াল করে যে তাদের বাসায় গেলে বাচ্চাদের মুখে ভয় কম, হাসি বেশি। কারণ ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ সবসময় টাকার ওপর নির্ভর করে না। অনেক সময় এটি নির্ভর করে ঘরের মানসিক অবস্থার ওপর।

ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব
বিনোদন
ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব

আমি আর আমার স্বামী এখন একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভাবি, কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যদিও এখনো ওদের সেরকমভাবে খেলার বয়স হয়নি যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র ৩ মাস। আমি আশেপাশে অনেক পরিবারেই দেখেছি, ভাইবোন একই ঘরে বড় হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আবার কিছু ভাইবোন আছে, যারা বড় হয়েও একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়।

প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?
শিক্ষা
প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?

আমার মেয়ের যখন তিন বছর বয়স, তখন থেকেই আশেপাশে একটা প্রশ্ন খুব বেশি শুনতাম, “স্কুলে দিচ্ছেন না এখনো?” শহরের অনেক পরিবারেই এখন প্রি-স্কুল শিক্ষা যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতা হয়ে গেছে। কে কত তাড়াতাড়ি বাচ্চাকে স্কুলে দিলো, কে আগে লিখতে শেখালো, কে আগে ইংরেজি শেখালো, এসব নিয়ে মা-বাবাদের মধ্যেই একধরনের অদৃশ্য চাপ কাজ করে। একসময় আমিও দ্বিধায় পড়ে যেতাম। সত্যিই কি এত ছোট বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করা জরুরী?

অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?
মননশীলতা
অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?

আমার মেয়ের বয়স এখন পাঁচ। আর সত্যি বলতে, ওর দৈনন্দিন রুটিন কখনো কখনো আমার নিজের ছোটবেলার পুরো সপ্তাহের রুটিনের থেকেও বেশি গোছানো মনে হয়। স্কুল, আর্ট ক্লাস, ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ, ইংরেজি চর্চা, ইত্যাদি সব মিলিয়ে ওর সময় প্রায় পুরোটা আগেই ভাগ করা থাকে।

যৌথ পরিবারে শিশুকে সম্মানজনক আচরণ শেখাবেন কীভাবে?
মূল্যবোধ
যৌথ পরিবারে শিশুকে সম্মানজনক আচরণ শেখাবেন কীভাবে?

আমার ছেলে এখন তিন বছরের। এই বয়সে ও “ধন্যবাদ”, “দাও”, “আমারটা”, “না চাই” এসব খুব স্পষ্টভাবে বলতে শুরু করেছে। তখন থেকেই আমি ভাবতে শুরু করি, সম্মানজনক আচরণ আসলে কীভাবে শেখানো যায়?

শিশুকে বকাঝকা না করেও কি শৃঙ্খলা শেখানো সম্ভব?
শিক্ষা
শিশুকে বকাঝকা না করেও কি শৃঙ্খলা শেখানো সম্ভব?

“বাচ্চাকে একটু ভয় না দেখালে বা বকা না দিলে সে কখনো কথা শুনবে না” – এরকমটা মনে করেন অধিকাংশ বাবা মা-ই. তাদের ভেতরে একটা জিনিস কাজ করে, “আমরা নিজেরাও তো এমন পরিবেশেই বড় হয়েছি।" “চুপ করো”, “এটা করো না”, “আরেকবার করলে মারবো” - এই ধরনের কথা কিন্তু আমাদের কাছে খুব স্বাভাবিক ছিল।

শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং
মননশীলতা
শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং

মা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম বাচ্চাকে ভালো খাবার দেওয়া, পরিষ্কার রাখা আর ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তাটাই বুঝি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর একটি হলো বাবা-মায়ের সাথে ইমোশনাল বন্ডিং বা মানসিক সংযোগ।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা
মূল্যবোধ
শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

শিশুকে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুকে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো

আমরা অনেক সময় মনে করি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো কেবল একটি ভালো অভ্যাস। কিন্তু এটি আসলে শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুর মনে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা যায়, তাহলে তার মধ্যে ধীরে ধীরে অন্যের অনুভূতি বোঝা, সহানুভূতি দেখানো এবং দায়িত্ব নেওয়ার মতো গুণগুলো তৈরি হয়। শিশুরা যখন প্রাণীদের সাথে সময় কাটায় বা তাদের যত্ন নিতে শেখে, তখন তারা বুঝতে শুরু করে যে পৃথিবীর সব জীবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর চরিত্র গঠনে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা
মননশীলতা
শিশুর আত্মপরিচয় ও আত্মসম্মান গড়ে তোলা

শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ দুটি বিষয় হচ্ছে আত্মপরিচয় (Self-Identity) ও আত্মসম্মান (Self-Esteem) । আত্মপরিচয় বলতে বোঝায় একটি শিশু ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে সে কে, তার কী কী গুণ আছে, সে কী করতে পারে এবং কোন কাজগুলো করতে তার ভালো লাগে।

শিশুর কল্পনা ও গল্প বলার ক্ষমতা উন্নয়ন
মননশীলতা
শিশুর কল্পনা ও গল্প বলার ক্ষমতা উন্নয়ন

একটি শিশুর মানসিক বিকাশে কল্পনা (Imagination) এবং গল্প বলার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুর কল্পনাশক্তিকে সঠিকভাবে উৎসাহ দেওয়া যায়, তাহলে সে শুধু সৃজনশীল (Creative) হয় না, বরং তার ভাষাগত দক্ষতা, চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও অনেক উন্নত হয়। একটি শিশু যখন নিজের মতো করে গল্প তৈরি করে বা কিছু কল্পনা করে, তখন সে আসলে নিজের ভেতরের চিন্তা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করার সুযোগ পায়।

শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো

শিশুর জীবনের শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য চিন্তা করা,সহযোগিতা করা এবং সমাজের সাথে মিলেমিশে থাকা আয়ত্ত করা। এই গুণগুলো শিশুর মানসিক বিকাশ, সামাজিক দক্ষতা এবং সবার সাথে সুসম্পর্ক গড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যখন একটি শিশু ছোট বেলায় অন্যকে সাহায্য করা, অন্যের সাথে ভাগ করা এবং একসাথে কাজ করার অভ্যাস করে, তখন সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে তার আচরণ এবং সিদ্ধান্ত অন্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই উপলব্ধি তাকে দায়িত্ববোধ, সমবেদনা এবং ইতিবাচক সামাজিক আচরণ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)
মননশীলতা
সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম
মননশীলতা
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম

শিশুর সৃজনশীলতা তার চিন্তাভাবনা, কল্পনাশক্তি এবং যেকোনো ধরণের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশু যখন নতুন কিছু ভাবতে পারে, নিজের মতো করে কিছু তৈরি করতে পারে বা কোনো সমস্যার ভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করতে পারে, সেটিই তার সৃজনশীলতার প্রকাশ। সৃজনশীলতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং ধৈর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দক্ষতাও বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সৃজনশীল কাজ শিশুদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় করে তোলে, ফলে তারা বিষয়গুলো খুব সহজে বোঝতে সক্ষম হয়।

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

ডিজিটাল এই যুগে শিশুদের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মনোযোগের অভাব, ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। যদিও বর্তমান যুগে শূন্য স্ক্রিন টাইম প্রায় অসম্ভব কিন্তু স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখা সম্ভব। তাছাড়া যদি স্ক্রিন টাইম একেবারে শূন্য রাখা হয় তবে বাচ্চারা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে। কেননা শিশুরা বিভিন্নধরণের শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে। সেটি হতে পারে বিজ্ঞান সম্পর্কে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আবার নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে।

স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া

বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবনে স্ক্রিন একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন এখন প্রায় সব ঘরেই আছে। তাই অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগে স্ক্রিন টাইম ভালো, নাকি বই পড়া বেশি উপকারী? American Academy of Pediatrics এর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে বিষয়টি একপাক্ষিক নয়। প্রযুক্তি যেমন নতুন নতুন জ্ঞান আহরণের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই স্ক্রিন টাইম ও বই পড়ার মধ্যে তুলনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ভারসাম্য রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে জরুরি। সেটি স্ক্রিন টাইম হোক বা বই পড়া, দুটিই সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।