লোগো

3 টি ট্যাগ

ট্যাগ ফিল্টার করুন

আত্মনিয়ন্ত্রণআত্মবিশ্বাসউচ্চ মধ্যবিত্তউচ্চবিত্তউৎসবএকক পরিবারএকক সন্তানএকাধিক সন্তানকর্মজীবী পরিবারকল্পনাশক্তিখাদ্যগ্রামীণ পরিবারডিজিটাল শিক্ষানবজাতক শিশুনিম্ন মধ্যবিত্তনিম্নআয়ের পরিবারনিম্নবিত্তনৈতিক শিক্ষাপড়াশোনার অভ্যাসপরামর্শপারিবারিক ঐতিহ্যপিতামাতাপ্যারেন্টিং ইস্যুপ্রারম্ভিক শিক্ষাবই পড়ার অভ্যাসবয়স ০-১বয়স ১-৩বয়স ১০-১৩বয়স ১৩-১৫বয়স ২-৭বয়স ৩-৫বয়স ৫-৭বয়স ৭-১০বাবা ও শিশুবাংলা শিক্ষাবাংলা সংস্কৃতিবাংলাদেশি প্যারেন্টিংবিনোদনভাষা বিকাশমধ্যবিত্তমননশীলতা মনোযোগ বৃদ্ধিমা ও শিশুমানসিক বিকাশমূল্যবোধযৌথ পরিবারশহুরে পরিবারশারীরিক বিকাশশিক্ষণ পদ্ধতিশিক্ষাশিক্ষামূলক খেলাশিশুশিশু যত্নশিশুর আচরণশিশুর আবেগসম্মানবোধসহানুভূতিসাধারণ সমস্যাসামাজিক দক্ষতাসামাজিক মূল্যবোধসৃজনশীলতাস্কুল প্রস্তুতিস্ক্রিন টাইমস্বাস্থ্যহোমওয়ার্ক
ছোট শিশুর সামনে মা-বাবার কথা কাটাকাটি: ও কি বুঝতে পারে?
জিজ্ঞাসা
ছোট শিশুর সামনে মা-বাবার কথা কাটাকাটি: ও কি বুঝতে পারে?

প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার বাবা হয়েছি। আমার মেয়ের বয়স এখন ১ বছর, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। আমরা চেষ্টা করি ওর সামনে ঝগড়া না করতে। কিন্তু মাঝে মাঝে আমাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়ে যায়। এত ছোট বাচ্চা কি এসব বুঝতে পারে? আমাদের আচরণ কি ওর মানসিক বিকাশে কোনো প্রভাব ফেলতে পারে?

স্কুলে বেশি কথা বলে, বাসায় চুপচাপ: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হতে পারে?
জিজ্ঞাসা
স্কুলে বেশি কথা বলে, বাসায় চুপচাপ: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হতে পারে?

প্রশ্নঃ আমি একজন মা। আমার ছেলের বয়স ৭ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। স্কুল থেকে প্রায়ই অভিযোগ আসে, ও নাকি ক্লাসে অনেক কথা বলে। কিন্তু বাসায় এসে দেখছি, ও খুব চুপচাপ। আমি বুঝতে পারছি না আসলে কোনটা ওর স্বাভাবিক আচরণ। এমন হলে কী করা উচিত?

শিশু কারো কোলে যেতে চায় না: এটা কি লজ্জা, নাকি স্বাভাবিক সীমাবোধ?
জিজ্ঞাসা
শিশু কারো কোলে যেতে চায় না: এটা কি লজ্জা, নাকি স্বাভাবিক সীমাবোধ?

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ৪ বছর, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। বাইরে কোথাও গেলে সবাই কোলে নিতে চায় বা আদর করতে আসে। কিন্তু ও কাউকে কাছে আসতে দিতে চায় না, জোরে কাঁদতে শুরু করে। অনেকেই বলে, আমি নাকি ওকে বেশি আগলে রাখি। সত্যিই কি তাই, নাকি এটা স্বাভাবিক?

ভুল করলেই নিজের ওপর রাগ: শিশুকে কীভাবে শেখাবেন ভুলও শেখার অংশ
জিজ্ঞাসা
ভুল করলেই নিজের ওপর রাগ: শিশুকে কীভাবে শেখাবেন ভুলও শেখার অংশ

প্রশ্নঃ আমি একজন বাবা। আমার ছেলের বয়স ৮ বছর, ওর ছোট একটা বোন আছে। পড়াশোনা বা খেলাধুলায় একটু ভুল হলেই নিজের ওপর খুব রেগে যায়। খাতাও ছিঁড়ে ফেলে। সব কাজ একদম নিখুঁত করতে চায়। ওকে কীভাবে বুঝাব যে ভুল করাও শেখারই অংশ?

“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন
জিজ্ঞাসা
“আমি সুন্দর না”, শিশুর নিজের চেহারা নিয়ে দুশ্চিন্তা কীভাবে সামলাবেন

প্রশ্নঃ আমার দুই মেয়ে। বড়টার বয়স ১০ বছর, ছোটটার ৭ বছর। বড় মেয়েটা এখন প্রায়ই বলে, "আমি মোটা হয়ে গেছি", "আমি সুন্দর না।" এসব কথা শুনে খুব খারাপ লাগে। এত ছোট বয়সে নিজের চেহারা নিয়ে এমন চিন্তা কেন করছে? আমি কীভাবে ওর আত্মবিশ্বাস বাড়াতে পারি?

মা অফিস থেকে ফিরলেই শিশুর আঁকড়ে থাকা: স্বাভাবিক, নাকি শিশুকে স্বাধীনতা শেখানো প্রয়োজন?
জিজ্ঞাসা
মা অফিস থেকে ফিরলেই শিশুর আঁকড়ে থাকা: স্বাভাবিক, নাকি শিশুকে স্বাধীনতা শেখানো প্রয়োজন?

প্রশ্নঃ আমি একজন কর্মজীবী মা। আমার ছেলের বয়স ৫ বছর, ওর কোনো ভাইবোন নেই। অফিস থেকে ফিরে দেখি ও শুধু আমার সঙ্গেই থাকতে চায়। আমি রান্নাঘরে গেলেও পেছনে পেছনে আসে। একা খেলতে চায় না। এটা কি স্বাভাবিক, নাকি ওকে ধীরে ধীরে স্বাধীন হতে শেখানো উচিত?

৩ বছরের শিশুর লজ্জা: আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মা-বাবা কী করতে পারেন
জিজ্ঞাসা
৩ বছরের শিশুর লজ্জা: আত্মবিশ্বাস বাড়াতে মা-বাবা কী করতে পারেন

প্রশ্নঃ আমি একজন মা। আমার মেয়ের বয়স ৩ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। আগে সবাইকে সালাম দিত, কথা বলত। কিন্তু কয়েক মাস ধরে দেখছি, কেউ বাসায় এলে লুকিয়ে থাকে। আত্মীয়রা কিছু জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দিতে চায় না। এটা কি শুধু লজ্জা, নাকি ওর আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর জন্য এখন থেকেই কিছু করা দরকার?

বড় ভাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়: স্বাভাবিক আচরণ, নাকি এখনই সীমা দরকার?
জিজ্ঞাসা
বড় ভাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে চায়: স্বাভাবিক আচরণ, নাকি এখনই সীমা দরকার?

প্রশ্নঃ আমি একজন বাবা। আমার দুই ছেলে, বড়টার বয়স ৯ বছর আর ছোটটার ৬ বছর। বড় ছেলে ছোট ভাইয়ের সব কাজ নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। কী খেলবে, কী করবে, সবকিছুতেই ওর কথা শুনতে হবে। না শুনলে খুব রেগে যায়। এটা কি স্বাভাবিক, নাকি এখন থেকেই ঠিক করা উচিত?

২ মাসের শিশুর রাতের ঘুম: ধীরে ধীরে রুটিন গড়ার সহজ উপায়
জিজ্ঞাসা
২ মাসের শিশুর রাতের ঘুম: ধীরে ধীরে রুটিন গড়ার সহজ উপায়

প্রশ্নঃ আমি প্রথমবার মা হয়েছি। আমার ছেলের বয়স এখন ২ মাস, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। সারাদিন মোটামুটি ঘুমালেও রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না। রাত ১২-১টার পরও জেগে থাকে, বারবার কোলে নিতে হয়। এতে আমরাও খুব ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। এত ছোট বাচ্চার ঘুমের রুটিন কীভাবে ধীরে ধীরে ঠিক করা যায়?

শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন
জিজ্ঞাসা
শিশুর ছোট ছোট মিথ্যা: বকাঝকা না করে সত্য বলার অভ্যাস কীভাবে গড়বেন

প্রশ্নঃ আমার মেয়ের বয়স ৯ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। কয়েক দিন ধরে দেখছি, ছোট ছোট বিষয়েও মিথ্যা বলছে। ধরাও পড়ছে, তারপরও আবার একই কাজ করছে। আমরা কি কোথাও ভুল করছি? বকাঝকা না করে কীভাবে এই অভ্যাসটা ঠিক করা যায়?

পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?
জিজ্ঞাসা
পড়তে বসলেই উঠে যায়: শিশুর মনোযোগ কম, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

প্রশ্নঃ আমি একজন কর্মজীবী বাবা। আমার ছেলে ৭ বছর বয়সী, ওর ছোট একটা বোন আছে। ও পড়তে বসলে পাঁচ মিনিট পরপর উঠে যায়। কখনো পানি খাবে, কখনো পেন্সিল খুঁজবে, কখনো অন্য কিছু করবে। জোর করলে পড়ে, কিন্তু নিজের থেকে মনোযোগ দিতে পারে না। এটা কি বয়সের কারণে, নাকি অন্য কোনো সমস্যা?

হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়
জিজ্ঞাসা
হারলেই ভেঙে পড়ে: শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ার উপায়

প্রশ্নঃ আমার দুই ছেলে। বড়টার বয়স ৮ বছর, ছোটটার ৫ বছর। বড় ছেলে কোনো খেলায় বা পড়াশোনায় হারলে খুব ভেঙে পড়ে। রেগে যায়, কান্না করে, আবার বলে সে আর কখনো খেলবে না। ছোট একটা হারও ও মেনে নিতে পারে না। ওকে কীভাবে মানসিকভাবে শক্ত করে গড়ে তুলতে পারি?

মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন
জিজ্ঞাসা
মোবাইল ছাড়া খেতে চায় না: শিশুর এই অভ্যাস ধীরে ধীরে কীভাবে কমাবেন

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৪ বছর বয়সী, একমাত্র সন্তান। প্রথম প্রথম খাওয়ানোর সময় মোবাইল দিতাম। এখন এমন হয়েছে, মোবাইল ছাড়া এক লোকমাও খায় না। মোবাইল বন্ধ করলেই কান্না শুরু করে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস কীভাবে বাদ দিতে পারি?

স্কুলে শান্ত, বাসায় রাগী: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হয়?
জিজ্ঞাসা
স্কুলে শান্ত, বাসায় রাগী: শিশুর আচরণ এত আলাদা কেন হয়?

প্রশ্নঃ আমি একজন বাবা। আমার মেয়ের বয়স ৬ বছর, ওর ছোট একটা ভাই আছে। স্কুলে সবাই বলে ও খুব ভদ্র আর শান্ত। কিন্তু বাসায় ফিরেই ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ঝগড়া করে, রেগে যায়, অনেক সময় খেলনাও ছুড়ে ফেলে। স্কুল আর বাসার আচরণ এত আলাদা কেন হতে পারে?

৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়
জিজ্ঞাসা
৩ বছরের শিশুর খাবারে অনীহা: বিস্কুট-চিপস ছাড়িয়ে ভালো খাবারে ফেরানোর উপায়

প্রশ্নঃ আমার ছেলে ৩ বছর বয়সী, ওর কোনো ভাইবোন নেই। আগে মোটামুটি সব খাবারই খেত, কিন্তু এখন শুধু বিস্কুট, দুধ আর চিপস খেলেই খুশি। ভাত বা সবজি দেখলেই মুখ ফিরিয়ে নেয়। না খেয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা থাকতে পারে, তবুও ভালো খাবার খেতে চায় না। এটা নিয়ে খুব চিন্তায় আছি।

ভাইবোনের ঈর্ষা: বড় সন্তানের রাগ ও নিরাপত্তাহীনতা কীভাবে সামলাবেন
জিজ্ঞাসা
ভাইবোনের ঈর্ষা: বড় সন্তানের রাগ ও নিরাপত্তাহীনতা কীভাবে সামলাবেন

প্রশ্নঃ আমি দুই সন্তানের মা। বড় মেয়ের বয়স ৫ বছর, ছোট ছেলের ২ বছর। ছোটটা হওয়ার পর থেকে বড় মেয়েটা খুব বদলে গেছে। ভাইকে কেউ আদর করলে ও রেগে যায়, মাঝেমধ্যে ইচ্ছা করে ওকে ধাক্কাও দেয়। আমরা দুজনকেই সমানভাবে ভালোবাসি, তারপরও ওর এমন আচরণ কেন হচ্ছে? কীভাবে ওকে বুঝাব?

দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?
জিজ্ঞাসা
দাদির আদর আর মায়ের দুশ্চিন্তা: শিশুর খাবার ও মোবাইল অভ্যাস কীভাবে সামলাবেন?

প্রশ্ন: আমি একজন চাকরিজীবী মা। আমার ছেলে ১ বছর ৬ মাসের, ওর আর কোনো ভাইবোন নেই। অফিসে যাওয়ার সময় ওকে ওর দাদির কাছে রেখে যাই। সমস্যা হলো, দাদি ওকে খুব আদর করে প্রায়ই চিপস, চকলেট দেন, আবার খাওয়ানোর সময় মোবাইলে কার্টুনও চালিয়ে দেন। আমি এগুলো একদমই চাই না, কিন্তু কিছু বললে উনি কষ্ট পান। এমন অবস্থায় কী করলে সবাইকে সম্মান রেখেও বিষয়টা সামলানো যায়?

সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার
বিনোদন
সপ্তাহে একদিনের পারিবারিক ঘোরাঘুরি: সন্তানের জন্য অমূল্য উপহার

শাহ আলম সপ্তাহে ছয় দিন রাস্তার পাশে বসে জুতা মেরামতের কাজ করে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত কাজ, তারপর সংসারের হিসাব, বাজারের চিন্তা, বাড়িভাড়া, ওষুধ, সব মিলিয়ে জীবনটা যেন প্রতিদিন একই ছন্দে আটকে আছে। তার স্ত্রীও অন্যের বাসায় কাজ করেন। এখন তিনি চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তাই আগের মতো সবকিছু সামলাতে গিয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়েন। তিন বছরের ছেলে রাফি বেশিরভাগ সময় ছোট্ট ঘরের ভেতরেই খেলাধুলা করে।

বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?
মূল্যবোধ
বাবা-মায়ের সম্পর্ক কি সত্যিই শিশুর ব্যক্তিত্ব গঠনে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম, সন্তান মানুষ করার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তাকে ভালো স্কুলে পড়ানো, ঠিকমতো খাওয়ানো আর ভবিষ্যতের জন্য টাকা জমানো। কিন্তু বাবা হওয়ার পর ধীরে ধীরে একটা বিষয় বুঝতে শুরু করেছি, শিশুরা শুধু আমাদের কথা শুনে বড় হয় না, তারা আমাদের সম্পর্ক “দেখে” বড় হয়।

কর্মব্যস্ত বাবার ক্লান্তি কি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে?
স্বাস্থ্য
কর্মব্যস্ত বাবার ক্লান্তি কি পরিবারের ওপর প্রভাব ফেলে?

অফিস থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক দিনই আমার মনে হয় আমি যেন পুরোপুরি খালি হয়ে গেছি। সকালে বের হওয়ার সময় বাচ্চারা তখনো আধা ঘুমে থাকে, আর রাতে ফিরতে ফিরতে তারা কেউ খেতে বসেছে, কেউ ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। মাঝে মাঝে আমার চার বছরের ছেলে দৌড়ে এসে খেলতে চায়, মেয়ে কোলে উঠতে চায়। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, সবসময় সেই শক্তিটা আমার থাকে না।

শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?
মূল্যবোধ
শিশুকে ছোটবেলা থেকেই অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার অভ্যাস শেখানো কতটা জরুরি? কীভাবে শেখাবেন?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমি একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ভাগাভাগি শেখানো ভবিষ্যতে আমাদের সবচেয়ে বড় অভিভাবকত্বের চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হতে পারে। যদিও ওরা এখনো ছোট, তবুও মাঝে মাঝে একজনের খেলনা আরেকজনের হাতে গেলে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তখন বুঝতে পারি, “আমার জিনিস”, এই অনুভূতিটা খুব ছোট বয়স থেকেই তৈরি হতে শুরু করে।

কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে
মূল্যবোধ
কর্মীদের সঙ্গে আপনার আচরণ থেকেই শিশু সম্মানবোধ শিখতে পারে

আমাদের বাসায় যেহেতু যৌথ পরিবার, আর আমি ব্যবসার কাজে ব্যস্ত থাকি, তাই গৃহকর্মী বা সহায়তাকারী কর্মীদের উপর অনেক কাজ নির্ভর করে। বিশেষ করে যমজ ছেলে হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুকে বড় করতে শুধু মা-বাবা না, বাসার পরিবেশও অনেক বড় ভূমিকা রাখে।

সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?
বিনোদন
সবচেয়ে দামী খেলনা কি বাবা-মায়ের মনোযোগের বিকল্প হতে পারে?

সন্তান হওয়ার পর একটা জিনিস আমি খুব কাছ থেকে বুঝেছি, বাজারে শিশুদের জন্য জিনিসের কোনো শেষ নেই। দামি মিউজিক্যাল খেলনা, স্মার্ট শেখার যন্ত্র, স্বয়ংক্রিয় দোলনা, বিদেশি অ্যাক্টিভিটি সেট দেখে অনেক সময় মনে হয়, “এসব না কিনলে বুঝি শিশুর বিকাশ পিছিয়ে যাবে।” আমাদের মতো উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে এই চাপ আরও বেশি। আত্মীয়স্বজনও অনেক সময় বলেন, “বাচ্চাদের জন্য সেরা জিনিসটাই তো নিতে হবে।” আমিও শুরুতে ভাবতাম, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা।

শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো
শিক্ষা
শিশু শিক্ষার জন্য কার্যকর রুটিন অনুসরণ করানো

ফাহমিদা বেগমের বাসায় পড়াশোনার জন্য আলাদা কোনো শান্ত পরিবেশ নেই। এক রুমের ঘরে টিভির শব্দ, রান্নার আওয়াজ, ছোট ছেলের কান্না এসবকিছুর মাঝেই বড় দুই মেয়েকে পড়তে বসতে হয়। কখনো তারা রাতে পড়ে, কখনো সকালে, আবার কোনোদিন একদমই বসতে চায় না।

শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে কিনা বুঝবেন কিভাবে?
স্বাস্থ্য
শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে কিনা বুঝবেন কিভাবে?

ফাহমিদা বেগম কিছুদিন ধরে একটা বিষয় নিয়ে চিন্তায় ছিলেন। তার তিন বছরের ছেলেটা বয়স অনুযায়ী খুব চিকন দেখাচ্ছিল। আগের মতো দৌড়াদৌড়িও করে না, মাঝেমধ্যে খেতেও চায় না। আশেপাশের মানুষ কেউ বলছে “বাচ্চা এমনই হয়”, কেউ বলছে “খেতে দিলেই ঠিক হয়ে যাবে”। কিন্তু একজন মা হিসেবে ফাহমিদার মনটা শান্ত হচ্ছিল না।

ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়
স্বাস্থ্য
ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় শিশু সুস্থ রাখার উপায়

ফাহমিদা বেগমদের বাসাটা একটি ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। ছোট ছোট ভাড়া বাসা, সরু গলি, পাশের বাসার শব্দ, রাস্তার ধুলো মিলিয়ে জায়গাটা সবসময়ই ব্যস্ত। বাচ্চারা খেলতে বের হলে কখনো ড্রেনের পাশে চলে যায়, কখনো ধুলাবালির মধ্যে দৌড়ায়। শীত এলেই কাশি-সর্দি যেন বাসার স্থায়ী অতিথি হয়ে যায়। এই ধরনের পরিবেশে যারা বড় হয়, তাদের অনেক মা-বাবার মনেই একটা প্রশ্ন থাকে, “এত ভিড় আর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মধ্যেও শিশুকে কীভাবে সুস্থ রাখা যায়?” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় বসবাস করা মানেই শিশু যে অসুস্থ হবেই এমন না। তবে কিছু বিষয়ে সচেতন থাকলে সংক্রমণ, শ্বাসকষ্ট, অপুষ্টি ও মানসিক চাপের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো বায়ুদূষণ ও অপরিষ্কার পরিবেশ।

বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?
মননশীলতা
বড় সন্তানের উপর ছোট ভাইবোনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেয়া / বড় বোনকে “দ্বিতীয় মা” বানানো কি ঠিক?

ফাহমিদা বেগমের বড় মেয়েটার বয়স মাত্র ৯ বছর। কিন্তু অনেক সময় তাকে দেখে মনে হয় সে যেন এই বাসার আরেকজন ছোট মা। সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে ছোট ভাইকে খাওয়ানো, বিকেলে তাকে ঘুম পাড়ানো, মা কাজে গেলে নজর রাখা; এসব এখন তার দৈনন্দিন কাজের অংশ। ফাহমিদা নিজেও বুঝতে পারেন, মেয়েটার ওপর দায়িত্ব একটু বেশিই পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু উপায়ও যেন খুব বেশি নেই। গার্মেন্টসের চাকরি, সংসারের কাজ, স্বামীর অনিয়মিত আয়, সব মিলিয়ে বড় মেয়েটার সাহায্য ছাড়া অনেক সময় সংসার সামলানো কঠিন হয়ে যায়।

“সবকিছু পেয়ে যাওয়া” শিশুর ব্যক্তিত্বে কী প্রভাব ফেলে?
মূল্যবোধ
“সবকিছু পেয়ে যাওয়া” শিশুর ব্যক্তিত্বে কী প্রভাব ফেলে?

আমি আর আমার husband দুজনই ডাক্তার। আলহামদুলিল্লাহ, আমাদের মেয়ের কোনো প্রয়োজনীয় জিনিসের অভাব নেই। বই, খেলনা, সুন্দর পোশাক, ভালো স্কুল, ঘুরতে যাওয়া; যতটুকু সম্ভব আমরা ওর জন্য সেরাটাই দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু মা হওয়ার পর একটা বিষয় খুব দ্রুত বুঝেছি, সন্তানের প্রতি ভালোবাসা আর সন্তানের সব চাওয়া সঙ্গে সঙ্গে পূরণ করে দেওয়া এক জিনিস না।

শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?
মূল্যবোধ
শিশুর “সবকিছু আমার প্রাপ্য” মানসিকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন?

একদিন মেয়েকে নিয়ে শপিং মলে গিয়েছিলাম। ও একটা খেলনা পছন্দ করেছিল। সেদিন সেটি কেনার কোনো পরিকল্পনা ছিল না, তাই আমি বলেছিলাম, “আজ না।” কিন্তু ওর প্রতিক্রিয়া আমাকে একটু অবাক করেছিল। খুব বিরক্ত হয়ে বলছিল, “কেন না? আমি তো এটা চাই!”

শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে
বিনোদন
শিশুর স্ক্রিন টাইম: শুধু বিনোদন নয়, শেখার সুযোগও হতে পারে

আমাদের বাসায় একটা সময় ছিল, যখন স্ক্রিন টাইম নিয়ে আমি খুবই বিরক্ত হয়ে যেতাম। হাসপাতালে দীর্ঘ সময় কাজ শেষ করে বাসায় ফিরে দেখতাম, আমার মেয়ে ট্যাবলেট নিয়ে কার্টুন দেখছে। প্রথমে মনে হতো, পুরো বিষয়টাই একদম বন্ধ করে দিই। কিন্তু পরে বুঝলাম, আজকের সময়ে স্ক্রিন পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। বরং গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিশু স্ক্রিনে কী দেখছে, কতক্ষণ দেখছে, আর কীভাবে ব্যবহার করছে। সত্যি বলতে, সব স্ক্রিন টাইম একরকম না।

“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা
শিক্ষা
“ইংলিশ মিডিয়াম বনাম বাংলা মিডিয়াম” শহুরে বাবা-মায়ের দ্বিধা

আমাদের মেয়ের স্কুলে ভর্তি করার সময় আমি আর আমার স্বামী সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নটা শুনেছি, সেটা হলো, “ইংলিশ মিডিয়ামে দিচ্ছেন না?” ঢাকার শহুরে প্যারেন্টিং কালচার -এ সত্যি বলতে একটা নীরব চাপ কাজ করে। বিশেষ করে উচ্চবিত্ত বা উচ্চ-মধ্যবিত্ত পরিবারে অনেক সময় এমন ধারণা তৈরি হয়েছে যে ইংলিশ মিডিয়াম মানেই ভালো শিক্ষা, ভালো ভবিষ্যৎ, ভালো আত্মবিশ্বাস। আবার অন্যদিকে উল্টো বিচারও আছে। অনেক বাংলা মাধ্যম পরিবার মনে করে ইংলিশ মিডিয়ামের বাচ্চারা বাংলা ভাষা আর সংস্কৃতি থেকে দূরে সরে যায়। এমনকি ছোট বাচ্চাদের মধ্যেও অকারণ একটা বিভাজন তৈরি হয়, “ও ইংলিশ মিডিয়াম”, “ও বাংলা মিডিয়াম”।

অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, নাকি কমায়?
স্বাস্থ্য
অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতা কি শিশুর রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়ায়, নাকি কমায়?

আমি ডাক্তার হওয়ার কারণে একটা বিষয় প্রায়ই খেয়াল করি, এখনকার অনেক বাবা-মা শিশুর পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সচেতন। সত্যি বলতে আমিও এর বাইরে না। বিশেষ করে মা হওয়ার পর প্রথমদিকে আমারও সবসময় ভয় কাজ করত কোথাও জীবাণু আছে কিনা, মেয়ে মেঝেতে বসছে কিনা, বাইরে কিছু ধরছে কিনা। একটা সময় এমন ছিল, বাইরে থেকে বাসায় ফিরলেই সঙ্গে সঙ্গে জামা বদল, হাত ধোয়া, খেলনা পরিষ্কার নিয়ে আমি খুব বেশি কঠোর হয়ে গিয়েছিলাম। এমনকি মেয়েটা মাটিতে বসে খেললেও ভিতরে ভিতরে অস্বস্তি লাগত। কিন্তু পরে ধীরে ধীরে বুঝলাম, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা জরুরি হলেও “অতিরিক্ত জীবাণুভয়” আর স্বাস্থ্যকর স্বাস্থ্যবিধি এক জিনিস না।

কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্য
কম সময়ে স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিকল্পনা করবেন কীভাবে?

আমি আর আমার স্বামী দুজনই ডাক্তার। তাই আমাদের বাসায় প্রতিদিনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো স্বাস্থ্যকর খাবারের ব্যবস্থা করা। সকালে দ্রুত বের হওয়ার তাড়া, সারাদিন হাসপাতালের ব্যস্ততা, আর রাতে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফেরা, সব মিলিয়ে প্রতিদিন নতুন করে সুষম খাবার রান্না করা সবসময় সম্ভব হয় না। বাসায় সাহায্যের মানুষ থাকায় কিছুটা সুবিধা হয় ঠিকই, কিন্তু প্রতিদিন কী রান্না হবে, কীভাবে হবে, সবকিছু বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়াও সহজ নয়। এই কারণেই কয়েক বছর ধরে আমি "মিল প্ল্যানিং" বা আগেভাগে খাবারের পরিকল্পনা করার অভ্যাস গড়ে তুলেছি।

ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?
বিনোদন
ব্যস্ত রুটিনের মাঝেও পরিবারের জন্য সময় রাখা কেন জরুরি?

ব্যস্ততা যেন আমাদের সবাইকে একদম জড়িয়ে ফেলছে। আমার স্বামী সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যবসার কাজে বাইরে থাকে। বাসায় ফিরে ও ক্লান্ত থাকে, এটা খুব স্বাভাবিক। আর আমি সারাদিন দুই বাচ্চা, রান্না, ঘরের কাজ সামলে দিনের শেষে এমন ক্লান্ত হয়ে যাই যে অনেক সময় নিজের সাথেই কথা বলতে ইচ্ছা করে না। এই ব্যস্ততার মধ্যে বুঝতেই পারিনি যে আমরা একই বাসায় থাকলেও, পরিবারের সাথে খুবই কম পরিমান সময় কাটানো হচ্ছে।

নবজাতক ও টডলারকে একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মায়ের মানসিক অবসাদ
মননশীলতা
নবজাতক ও টডলারকে একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে মায়ের মানসিক অবসাদ

আগে আমি ভাবতাম, বাচ্চার যত্ন নেওয়া মানে শুধু তাকে খাওয়ানো, ঘুম পাড়ানো আর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। কিন্তু দ্বিতীয় সন্তানের জন্মের পর বুঝলাম, বাস্তবতা আসলে অনেক বেশি জটিল। আমার ছোট মেয়েটার বয়স এখন তিন মাস। আর বড় ছেলেটা তিন বছরের। একদিকে নবজাতক শিশুর সারাক্ষণের যত্ন, অন্যদিকে টলমল পায়ে হাঁটা আর দুষ্টুমিতে ভরা একটা ছোট বাচ্চা, দুজনকে একসাথে সামলানো যে কতটা কঠিন হতে পারে, সেটা না হলে বোঝানো মুশকিল। অনেকেই বলে, “তুমি তো বাসায় থাকো, তোমার আবার এত ক্লান্তি কিসের?” কিন্তু বাসায় থাকা আর সারাদিন বিশ্রাম করা যে এক জিনিস নয়, সেটা এখন আমি খুব ভালো বুঝি।

ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো
মূল্যবোধ
ছোটবেলা থেকেই শিশুকে সহযোগিতার মানসিকতা শেখানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার, কিন্তু কাজের যেন শেষ নেই। রাফির মা গর্ভবতী হওয়ায় এখন আগের চেয়ে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে যায়। একদিন রান্না করার সময় হঠাৎ তার হাত থেকে চামচ পড়ে যায়। তখন ছোট্ট রাফি দৌড়ে গিয়ে চামচটা তুলে দেয়। ঘটনাটা খুব ছোট ছিল, কিন্তু শাহ আলম চুপচাপ সেটা দেখছিল। তার মনে হচ্ছিল, শিশুকে ছোটবেলা থেকেই যদি অন্যকে সাহায্য করতে শেখানো যায়, তাহলে সেটাই হয়তো তার চরিত্রের বড় শক্তি হয়ে দাঁড়াবে।

শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা
বিনোদন
শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স তিন বছর। ছোট্ট বাসা, চারপাশে ব্যস্ত রাস্তা, খেলাধুলার জন্য বড় মাঠও খুব একটা নেই। তাই বেশিরভাগ সময় রাফি বাসার ভেতরেই থাকে। কখনো মায়ের মোবাইলে ভিডিও দেখে, কখনো ছোট গাড়ি নিয়ে খেলে। কিন্তু রাফি খুব দ্রুত বিরক্ত হয়ে যায়, রাতে ঠিকমতো ঘুমাতে চায় না, আবার ছোট্ট কিছুতেই রেগে যায় বিষয়গুলো এক সময় শাহ আলম খেয়াল করতে শুরু করেছিল। একদিন পাশের এলাকার এক স্বাস্থ্যকর্মী তাকে বললেন, “বাচ্চাদের শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা খুব দরকার।” প্রথমে শাহ আলম ভাবল, “এই ছোট্ট বাচ্চা আবার কী শরীরচর্চা করবে?” আসলে ছোট শিশুদের জন্য শরীরচর্চা মানে জিম বা ব্যায়াম না। দৌড়ানো, লাফানো, বল গড়ানো, হাত-পা নেড়ে খেলা, এসবই তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শরীরচর্চামূলক খেলাধুলা।

রাস্তাঘাটের পরিবেশে শিশুকে নিরাপদ রাখবেন কিভাবে?
মননশীলতা
রাস্তাঘাটের পরিবেশে শিশুকে নিরাপদ রাখবেন কিভাবে?

শাহ আলমের বাসা রাস্তার পাশের এক ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায়। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেখানে রিকশা, মোটরসাইকেল, ভ্যান, মানুষের ভিড়, সবসময় একটা ব্যস্ত পরিবেশ। তার তিন বছরের ছেলে রাফি প্রায়ই দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বাইরে তাকিয়ে থাকে। একটু সুযোগ পেলেই দৌড়ে রাস্তার দিকে চলে যেতে চায়। এই বিষয়টা নিয়ে শাহ আলম আর তার স্ত্রী সবসময় চিন্তায় থাকে। কারণ তারা জানে, ছোট শিশুরা খুব কৌতূহলী হয়, কিন্তু বিপদ বোঝার ক্ষমতা এখনো পুরোপুরি তৈরি হয় না।

শিশুর মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্য
শিশুর মধ্যে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তুলবেন কীভাবে?

শাহ আলম প্রতিদিন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করে। ধুলো, ময়লা, কাদা এসব তার জীবনের স্বাভাবিক অংশ। বাসায় ফিরেও সে দেখে তার তিন বছরের ছেলে রাফি সারাদিন বাইরে খেলাধুলা করে এসে হাত না ধুয়েই ভাত খেতে বসে যায়। কখনো মাটিতে বসে খেলছে, আবার সেই হাত দিয়েই চোখ-মুখ ছুঁয়ে ফেলছে। শাহ আলম আগে ভাবত, “ছোট বাচ্চা, এগুলো তো করবেই।” কিন্তু গত শীতে রাফি বারবার পেট খারাপ আর সর্দি-কাশিতে অসুস্থ হওয়ার পর সে বুঝতে শুরু করে, ছোটবেলা থেকেই পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস শেখানো খুব জরুরি।

সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো
মননশীলতা
সংগ্রামী পরিবেশে শিশুর আত্মবিশ্বাস বাড়ানো

শাহ আলমের ছেলে রাফির বয়স এখন তিন বছর। ছোট্ট একটা ঘরে তাদের সংসার। বাইরে রাস্তার শব্দ, পাশের ঘরের মানুষের ঝগড়া, কখনো টাকার চিন্তা, সব মিলিয়ে পরিবেশটা খুব শান্ত না। তবুও শাহ আলম একটা জিনিস খুব খেয়াল করে। রাফি যখন কিছু করতে গিয়ে ভয় পায়, বা “আমি পারবো না” বলে পিছিয়ে যায়, তখন তার নিজের বুকটাও কেমন হালকা কেঁপে ওঠে। কারণ সে জানে, অভাবের মধ্যে বড় হওয়া শিশুরা অনেক সময় খুব ছোট বয়স থেকেই নিজের সম্পর্কে হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।

শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় বাবার সক্রিয় অংশগ্রহণ কেন গুরুত্বপূর্ণ?

আমি ছোটবেলায় একটা জিনিস খুব বেশি দেখেছি, পরিবারের পড়াশোনার দায়িত্ব সাধারণত মায়ের ওপরই বেশি থাকত। বাবা সংসারের খরচ চালাতেন, আর মা দেখতেন স্কুল, হোমওয়ার্ক, খাতা আর পরীক্ষার বিষয়গুলো। এখন নিজে বাবা হওয়ার পর বুঝছি, এই ধারণাটা এখনো অনেক পরিবারে আছে।

শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষায় অনলাইন রিসোর্সের সঠিক ব্যবহার

কয়েক বছর আগেও আমি ভাবতাম পড়াশোনা মানেই বই-খাতা আর স্কুল। কিন্তু এখন সময় অনেক বদলে গেছে। এখন ছোট শিশুরাও ইউটিউবে ছড়া দেখে, মোবাইল অ্যাপে অক্ষর শেখে, অনলাইন গেমের মাধ্যমে সংখ্যা চর্চা করে। একজন বাবা হিসেবে আমিও ধীরে ধীরে বিভিন্ন অনলাইন রিসোর্স ব্যবহার করতে শিখছি। তবে একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝেছি, ইন্টারনেটে শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনেক আছে ঠিকই, কিন্তু সব কনটেন্ট সমানভাবে উপকারী নয়। আবার অনলাইন শেখা যদি ভারসাম্য ছাড়া হয়, তাহলে সেটার নেতিবাচক প্রভাবও থাকতে পারে।

ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?
স্বাস্থ্য
ঘুমের অভাব শিশুর শেখার ক্ষমতাকে কীভাবে প্রভাবিত করে?

বাবা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম শিশুদের ঘুম মানে শুধু বিশ্রাম। বাচ্চা ঘুমালে শান্ত থাকে, কম কান্না করে, এই পর্যন্তই। কিন্তু সন্তান বড় হতে শুরু করার পর বুঝলাম, ঘুম আসলে শিশুর শেখা, আচরণ, মনোযোগ, এমনকি মস্তিষ্কের বিকাশের সাথেও গভীরভাবে জড়িত। আমার চার বছরের ছেলে যখন রাতে ঠিকমতো ঘুমায় না, পরের দিন সেটা খুব স্পষ্ট বোঝা যায়। ছোট ছোট বিষয়েও রেগে যায়, মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না, কখনো খেলতে খেলতেই বিরক্ত হয়ে পড়ে। আগে ভাবতাম হয়তো মুড খারাপ। পরে বুঝলাম, অনেক সময় সমস্যার মূল কারণ ঘুমের অভাব।

Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?
মননশীলতা
Financial Stress বাবা-মায়ের আচরণে কিভাবে প্রভাব ফেলে?

আমি আগে ভাবতাম financial stress মানে শুধু টাকার চিন্তা। মাস শেষে হিসাব মিলছে কি না, বাচ্চার স্কুলের খরচ, বাজারের দাম, বাসা ভাড়া, এই পর্যন্তই। কিন্তু সংসার চালাতে চালাতে এখন বুঝি, অর্থনৈতিক চাপ শুধু পকেটে প্রভাব ফেলে না, এটা ধীরে ধীরে মানুষের আচরণ, ধৈর্য, সম্পর্ক, সবকিছুর উপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। আমি একজন চাকরিজীবী মানুষ। একমাত্র ইনকাম সোর্স হিসেবে পরিবারের দায়িত্ব অনেক সময় মাথার উপর ভার হয়ে থাকে। দুই ছোট বাচ্চা, বাবা-মা, সংসারের নিয়মিত খরচ, সব মিলিয়ে এমন অনেক রাত গেছে যখন ঘুমানোর আগেও মাথার মধ্যে হিসাব চলেছে। আর সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো, অনেক সময় নিজের অজান্তেই সেই স্ট্রেস পরিবারের উপর গিয়ে পড়ে।

অতিথিদের ভিড়ে নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?
স্বাস্থ্য
অতিথিদের ভিড়ে নবজাতকের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমাদের বাসা যেন হঠাৎ করেই সবার আগ্রহের কেন্দ্র হয়ে গেল। আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, প্রতিবেশী, সবাই বাচ্চাদের একনজর দেখতে চাইতেন। কেউ মিষ্টি নিয়ে আসছেন, কেউ খেলনা, কেউ আবার শুধু আদর করতে। শুরুতে বিষয়টা আমাদের খুব ভালো লাগত। সত্যি বলতে, নতুন বাবা-মা হিসেবে সবার ভালোবাসা আর আনন্দ দেখে মন ভরে যেত।

শিশুর জন্য নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কীভাবে গড়ে তুলবেন?
স্বাস্থ্য
শিশুর জন্য নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস কীভাবে গড়ে তুলবেন?

যমজ সন্তান হওয়ার পর আমি আর আমার স্ত্রী খুব দ্রুত একটা জিনিস বুঝে গিয়েছিলাম, শিশুকে বড় করার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো ঘুম। রাতের পর রাত এমন গেছে, যখন একজন ঘুমালেই আরেকজন জেগে উঠত। একজনকে কোলে নিয়ে ঘুম পাড়াতে না পাড়াতেই অন্যজন কান্না শুরু করত। অনেক সময় মনে হতো, আমরা যেন পালা করে শুধু বাচ্চা সামলাচ্ছি, ঘুমানোর সুযোগই পাচ্ছি না।

বাবার ব্যস্ততা কি বাবা-সন্তানের সম্পর্ককে দুর্বল করে?
মননশীলতা
বাবার ব্যস্ততা কি বাবা-সন্তানের সম্পর্ককে দুর্বল করে?

ব্যবসার কারণে আমার দিনের বেশিরভাগ সময়ই বাসার বাইরে কাটে। সকালে বের হওয়ার সময় দুই ছেলেকে ঘুমিয়ে রেখে যাই, আর অনেক দিন রাতে ফিরতে ফিরতে ওদের ঘুমানোর সময় হয়ে যায়। যেহেতু ওরা এখনো খুব ছোট, তাই শুরুতে আমার মনে প্রায়ই একটা প্রশ্ন আসত, আমি কি ওদের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো মিস করে ফেলছি?

শিশুর সামনে অপমানজনক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার কতটা ক্ষতিকর?
মূল্যবোধ
শিশুর সামনে অপমানজনক বা অশালীন ভাষা ব্যবহার কতটা ক্ষতিকর?

ফাহমিদা বেগমদের বাসার পাশের ঘর থেকে প্রায়ই উচ্চস্বরে ঝগড়ার শব্দ ভেসে আসে। কখনো স্বামী-স্ত্রীর তর্ক, কখনো অপমানজনক কথা, আবার কখনো গালাগালি। শুরুতে তিনি ভাবতেন, ছোট বাচ্চারা এসব বুঝতে পারে না। কিন্তু একদিন হঠাৎ দেখলেন, তার তিন বছরের ছেলে রাগের মাথায় বড় বোনকে এমন একটি খারাপ শব্দ বলছে, যা সে নিশ্চয়ই কোথাও শুনে শিখেছে। সেদিনই তিনি উপলব্ধি করলেন, শিশুরা শুধু আমাদের কথা শোনে না, আমাদের ভাষা ও আচরণও শেখে।

সাধ্যের মধ্যে শিশুদের বিনোদন এর ক্ষেত্র কি কি হতে পারে?
বিনোদন
সাধ্যের মধ্যে শিশুদের বিনোদন এর ক্ষেত্র কি কি হতে পারে?

ফাহমিদা বেগমের তিন সন্তানই খেলতে খুব ভালোবাসে। কিন্তু সবসময় খেলনা কিনে দেওয়ার মতো সামর্থ্য তাদের নেই। মাস শেষে বাসাভাড়া, বাজার আর স্কুলের খরচ মেটাতেই অনেক সময় হিমশিম খেতে হয়। তাই ঈদ ছাড়া নতুন খেলনা খুব একটা আসে না বাসায়। তবু ফাহমিদা একটা বিষয় খেয়াল করেছেন, বাচ্চারা আসলে সবসময় দামি খেলনা খোঁজে না, তারা খোঁজে আনন্দ আর সঙ্গ। এক বিকেলে গলির সামনে দেখা গেল, তার ছোট ছেলেটা একটা পুরোনো রিকশার টায়ার লাঠি দিয়ে ঠেলে দৌড়াচ্ছে। পাশে আরও কয়েকজন শিশু। হাসতে হাসতে সবার অবস্থা শেষ। অথচ সেখানে কোনো ব্যাটারিচালিত গাড়ি বা দামি খেলনা ছিল না।

মোবাইল কি শিশুর শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো মাধ্যম হতে পারে?
শিক্ষা
মোবাইল কি শিশুর শিক্ষাক্ষেত্রে ভালো মাধ্যম হতে পারে?

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা কোনো ট্যাবলেট, ল্যাপটপ বা স্মার্ট টিভি নেই। বাচ্চাদের পড়াশোনা বা কার্টুন সবকিছুই চলে একটা কম দামের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে। গার্মেন্টস থেকে ফিরতে দেরি হলে অনেক সময় ছোট ছেলেটাকে শান্ত রাখতে ফোনই ভরসা হয়ে যায়। একদিন তিনি খেয়াল করলেন, তিন বছরের ছেলে ইউটিউব খুলে নিজেই কার্টুন চালাতে শিখে গেছে। কিন্তু সমস্যা হলো, সে এখন খাওয়ার সময়, ঘুমানোর আগে, এমনকি মাঝরাতেও মোবাইল চাইছে। এটা দেখে ফাহমিদার মনে প্রশ্ন আসে, “মোবাইল কি পুরোপুরি খারাপ? নাকি ঠিকভাবে ব্যবহার করলে শেখার কাজেও লাগতে পারে?”

কর্মজীবী মায়ের ক্লান্তি শিশুর মানসিকতায় কী প্রভাব ফেলে?
স্বাস্থ্য
কর্মজীবী মায়ের ক্লান্তি শিশুর মানসিকতায় কী প্রভাব ফেলে?

ফাহমিদা বেগম প্রতিদিন প্রায় ১০ ঘণ্টা গার্মেন্টসে কাজ করেন। বাসায় ফিরতে ফিরতে শরীর এতটাই ক্লান্ত হয়ে যায় যে অনেক দিন ছোট ছেলেটা কোলে উঠতে চাইলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, “একটু শান্তিতে থাকতে দাও তো!” কথাটা বলার পরেই তার খারাপ লাগে। কিন্তু তখন শরীর আর মাথা দুইটাই যেন কাজ করা বন্ধ করে দেয়।

শিশুর সামনে আর্থিক চাপ নিয়ে কথা বলা কতটা ঠিক?
মননশীলতা
শিশুর সামনে আর্থিক চাপ নিয়ে কথা বলা কতটা ঠিক?

ফাহমিদা বেগমের সংসারে টাকার হিসাব প্রায় প্রতিদিনই বদলায়। কোনো মাসে স্বামীর রিকশা ভালো চলে, কোনো মাসে অসুস্থতা বা বৃষ্টির কারণে আয় কমে যায়। গার্মেন্টসের বেতন দিয়ে বাসাভাড়া, বাজার আর বাচ্চাদের স্কুলের খরচ সামলাতে গিয়ে অনেক সময় রাতের খাবারের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে টাকার চিন্তা নিয়ে কথাবার্তা হয়েই যায়। সমস্যা হলো, সেই কথাগুলোর অনেকটাই শিশুদের সামনেই হয়। একদিন ফাহমিদার ৯ বছরের মেয়েটা হঠাৎ বলেছিল, “আম্মু, আমি আর ছবি আঁকার খাতা কিনবো না। অনেক টাকা লাগে।” কথাটা শুনে ফাহমিদা বুঝতে পারেন, মেয়েটা শুধু কথা শুনছে না, সে ভেতরে ভেতরে চাপও নিচ্ছে।

স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইমকে কীভাবে লার্নিং টাইমে রূপান্তর করবেন?

একটা সময় ছিল, যখন আমি ভাবতাম ছোট বাচ্চাদের হাতে মোবাইল বা ট্যাব দেওয়া মানেই খারাপ অভ্যাস। বিশেষ করে একজন মা হিসেবে সবসময় একটা ভয় কাজ করত, বেশি স্ক্রিন ব্যবহার কি আমার মেয়ের মনোযোগ, আচরণ বা শেখার ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তিকে পুরোপুরি এড়িয়ে চলা প্রায় অসম্ভব। শিশুরা এখন এমন এক পরিবেশে বড় হচ্ছে, যেখানে স্মার্ট ডিভাইস তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। তখন আমি বিষয়টাকে অন্যভাবে ভাবা শুরু করি। “কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ করব” এর বদলে “কীভাবে সঠিকভাবে ব্যবহার শেখাব”, এই চিন্তাটাই আমার কাছে বেশি বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে।

"শিশুর সঙ্গে কতক্ষণ থাকছেন, নাকি কেমন সময় কাটাচ্ছেন" কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
মননশীলতা
"শিশুর সঙ্গে কতক্ষণ থাকছেন, নাকি কেমন সময় কাটাচ্ছেন" কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ?

একজন কর্মজীবী মা হিসেবে এই প্রশ্নটা আমি নিজের কাছেই অনেকবার করেছি। কারণ সত্যি বলতে, আমি আর আমার স্বামী দুজনেই ব্যস্ত পেশায় কাজ করি। এমন অনেক দিন যায়, যখন মেয়ের সঙ্গে পুরো দিন কাটানো তো দূরের কথা, ঠিকমতো বসে গল্প করার সময়ও খুব কম পাওয়া যায়। আর তখনই ভেতরে ভেতরে একটা চিন্তা কাজ করে, “আমি কি ওকে যথেষ্ট সময় দিতে পারছি?”

কর্মজীবী বাবা-মায়ের অপরাধবোধ শিশুর উপর কী প্রভাব ফেলে?
মননশীলতা
কর্মজীবী বাবা-মায়ের অপরাধবোধ শিশুর উপর কী প্রভাব ফেলে?

আমি আর আমার স্বামী দুজনই ডাক্তার। কখন জরুরি ডিউটি পড়বে, কখন রাত হয়ে যাবে, আগে থেকে সবসময় বোঝা যায় না। অনেক দিন এমনও হয়েছে, বাসায় ফিরতে ফিরতে মেয়েটা প্রায় ঘুমিয়ে পড়েছে। একজন মা হিসেবে এই বিষয়টা আমাকে ভীষণ খারাপ লাগায়। আর এই খারাপ লাগা থেকেই হয়তো আগে ওর অনেক আবদার খুব সহজে মেনে নিতাম। নতুন খেলনা, বেশি সময় কার্টুন দেখা, বাইরে খেতে যাওয়া ইত্যাদি। মনে হতো, “সময় তো দিতে পারছি না, অন্তত এগুলো দিয়ে খুশি রাখি।”

শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?
মূল্যবোধ
শিশুর সামনে বড়দের ঝগড়া আসলে কতটা ক্ষতিকর?

আমি আগে সত্যি একটা জিনিস বিশ্বাস করতাম, ছোট বাচ্চারা বড়দের কথা ঠিকমতো বোঝে না। তাই তাদের সামনে একটু উচ্চস্বরে কথা বলা বা তর্ক-বিতর্ক হলে খুব একটা সমস্যা হওয়ার কথা না। কিন্তু মা হওয়ার পর ধীরে ধীরে বুঝেছি, শিশুরা অনেক কিছু ভাষায় বুঝতে না পারলেও পরিবেশ অনুভব করতে পারে। আমার ছেলে যখন প্রায় দুই বছরের, একদিন আমি আর ওর বাবা একটা বিষয় নিয়ে একটু জোরে কথা বলছিলাম। খুব বড় কিছু না, সাধারণ সংসারের ব্যাপার। কিন্তু হঠাৎ খেয়াল করলাম, ছেলে চুপচাপ হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর এসে আমার কাপড় ধরে দাঁড়িয়ে রইল।

ঘুম কম হলে শিশুর আচরণ যেভাবে বদলে যায়
স্বাস্থ্য
ঘুম কম হলে শিশুর আচরণ যেভাবে বদলে যায়

মা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম, বাচ্চা ঘুমালে শুধু শরীর বিশ্রাম পায়। কিন্তু সন্তান হওয়ার পর বুঝেছি, ছোট শিশুর জন্য ঘুম শুধু বিশ্রাম না, এটা তার মেজাজ, আচরণ, শেখার ক্ষমতা, এমনকি আবেগ নিয়ন্ত্রণের-এর সাথেও গভীরভাবে জড়িত। আমার ছেলে যখন ছোট ছিল, তখন একটা জিনিস প্রায়ই খেয়াল করতাম। যেদিন দুপুরে ঠিকমতো ঘুম হতো না, সেদিন সন্ধ্যার পর থেকেই ওর আচরণ পুরো বদলে যেত। সামান্য কথায় কান্না, বেশি রাগ, খেতে না চাওয়া, কোলে লেগে থাকা, সব একসাথে শুরু হতো।

অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক সন্তান পালন কি শিশুদের আত্মবিশ্বাসের উপর প্রভাব ফেলে?
মননশীলতা
অতিরিক্ত সুরক্ষামূলক সন্তান পালন কি শিশুদের আত্মবিশ্বাসের উপর প্রভাব ফেলে?

নতুন বাবা হওয়ার পর আমি একটা বিষয় বুঝতে পারলাম যে সন্তান জন্মের সাথে সাথে বাবা-মায়ের ভয়ও জন্ম নেয়। “পড়ে যাবে না তো?”, “অসুস্থ হবে না তো?”, “কাঁদছে কেন?”, “এটা ধরলে সমস্যা হবে না তো?” এই চিন্তাগুলো খুব স্বাভাবিক।

“কথা না শুনলেই রাগ!”  ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?
মননশীলতা
“কথা না শুনলেই রাগ!” ৩ বছরের শিশুর জেদ ও রাগ আসলে কেন বাড়ে?

আমার ছেলে যখন দুই বছর পার করে তিনে পা দিল, তখন থেকেই আমি একটা নতুন জিনিস বুঝতে শুরু করি, এই বয়সের বাচ্চাদের মোড কখন কোন দিকে যায়, সেটা বোঝা সত্যিই কঠিন। একটু আগে যে বাচ্চা হাসছিল, পাঁচ মিনিট পর সেই একই বাচ্চা মাটিতে শুয়ে কান্না করছে শুধু একটা বিস্কুট বা খেলনার জন্য। শুরুতে আমি ভাবতাম, হয়তো আমি ঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না। পরে শিশুদের আচরণ নিয়ে পড়তে গিয়ে বুঝলাম, ২–৪ বছর বয়সে রাগ, জেদ, আবেগের বিস্ফোরণ, এগুলো আসলে খুবই স্বাভাবিক বিকাশের ধাপ।

শিশুর জন্য ইউটিউবের শিক্ষামূলক কনটেন্ট কতটা উপকারী?
শিক্ষা
শিশুর জন্য ইউটিউবের শিক্ষামূলক কনটেন্ট কতটা উপকারী?

অনেক বাবা-মায়ের মতো আমরাও কখনো কখনো ইউটিউবের শিক্ষামূলক ভিডিও চালিয়ে দিই। বিশেষ করে আমার চার বছরের ছেলে বর্ণমালা, প্রাণী বা সংখ্যা শেখার ভিডিও দেখতে খুব পছন্দ করে। কিছু ভিডিও দেখে মনে হয় সত্যিই শিশুকে কিছু শেখাচ্ছে। আবার কিছু ভিডিও শুধু...

শিশুকে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস থেকে দূরে রাখার উপায়
স্বাস্থ্য
শিশুকে অস্বাস্থ্যকর খাবারের অভ্যাস থেকে দূরে রাখার উপায়

আমাদের মতো মধ্যবিত্ত পরিবারে একটা বাস্তবতা আছে। বাবা-মা সবসময় একদম স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করে দিতে পারেন না। আমি অফিস থেকে ক্লান্ত হয়ে ফিরি, স্ত্রীও সারাদিন দুই বাচ্চা সামলাতে সামলাতে ক্লান্ত হয়ে যায়। তখন সহজ সমাধান হিসেবে বিস্কুট, চিপস বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার অনেক সময় হাতের কাছেই থাকে। কিন্তু শিশুদের অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আসক্তি ধীরে ধীরে বড় সমস্যায় পরিণত হতে পারে।

“মোবাইল না দিলে কান্না” এর পেছনের মানসিক কারণ
মননশীলতা
“মোবাইল না দিলে কান্না” এর পেছনের মানসিক কারণ

আমার ছেলেটার বয়স এখন তিন বছর। কিছুদিন আগেও একটা সময় ছিল, যখন মোবাইল না দিলে ও এমন কান্না করত যে আমি সত্যি ভয় পেয়ে যেতাম। রান্না করছি, ছোট মেয়েটাকে সামলাচ্ছি, ঘরের কাজ বাকি, এই অবস্থায় চুপ করানোর সবচেয়ে সহজ উপায় ছিল মোবাইল হাতে ধরিয়ে দেওয়া। শুরুতে ব্যাপারটা নিরাপদ মনে হয়েছিল। কার্টুন দেখছে, ছড়া শুনছে, আমি একটু কাজ করতে পারছি, খারাপ কী? কিন্তু ধীরে ধীরে খেয়াল করলাম, মোবাইল বন্ধ করলেই রাগ, কান্না, জিনিস ছোড়া, খেতে না চাওয়া, এসব আচরণ বাড়ছে। তখন বুঝলাম, এটা শুধু “বাচ্চার জেদ” না, এর পেছনে মানসিক কারণও আছে।

টুইন বেবিদের ওভারল স্বাস্থ্য সচেতনতা
স্বাস্থ্য
টুইন বেবিদের ওভারল স্বাস্থ্য সচেতনতা

টুইন বেবি সামলানো যেমন আনন্দের, তেমন দ্বিগুণ দায়িত্বও। একজন বাবু একটু কাশি দিলেই মাথায় প্রশ্ন আসে- “এবার কি আরেকজনেরও হবে?” আমাদের মতো যৌথ পরিবারে যেখানে বাসায় অনেক মানুষ, অতিথি আসা-যাওয়া, কোলে নেওয়া- সেখানে এই ভয় আরও বাস্তব। পুরোপুরি সব অসুখ আটকানো সম্ভব না, কিন্তু ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?
মননশীলতা
যৌথ পরিবার কি শিশুর ব্যক্তিসত্তার বিকাশে সাহায্য করে?

আমাদের দেশে যৌথ পরিবার এখনো অনেক পরিবারের বাস্তবতা। বিশেষ করে সন্তান জন্মের পর দাদা-দাদী, নানা-নানী, চাচা-ফুপু বা খালা-মামাদের উপস্থিতি শিশুর বেড়ে ওঠায় একটা বিস্তার ভূমিকা রাখে। একটি শিশু শুধু মা-বাবার কাছ থেকেই না, পুরো পরিবারের পরিবেশ থেকেই নিজের পরিচয় বা Identity গঠন করতে শুরু করে।

ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা
বিনোদন
ভাইবোনদের একসাথে খেলাধুলার উপকারিতা

ফাহমিদা বেগমের বাসায় আলাদা খেলনার বাক্স নেই, বড় কোনো খেলার ঘরও নেই। কিন্তু বিকেল হলেই তার তিন সন্তান মিলে পুরো ঘরটাকে যেন খেলাধুলার দুনিয়া বানিয়ে ফেলে। কখনো বড় দুই বোন ছোট ভাইকে নিয়ে “স্কুল স্কুল” খেলে, কখনো বালিশ দিয়ে ঘর বানায়, কখনো আবার ঝগড়া করতে করতেই আবার খেলতে শুরু করে।

আপনার Privileged সন্তান কে সহানুভূতি শেখাবেন কীভাবে?
মূল্যবোধ
আপনার Privileged সন্তান কে সহানুভূতি শেখাবেন কীভাবে?

প্রতিদিনের ব্যস্ত হসপিটাল রুটিনের মধ্যে মেয়ের ছোট ছোট বিষয়গুলো অনেক সময় খুব গভীরভাবে খেয়াল করা হয় না। সকালে তাড়াহুড়া, ডিউটি, ইমার্জেন্সি কল- সব মিলিয়ে দিনগুলো যেন খুব দ্রুত চলে যায়। এর মাঝেও একটা ব্যাপারে আমি সবসময় চেষ্টা করি, আমার মেয়েটার যেন কোনো অভাব না থাকে। হয়তো এই কারণেই ওর প্রয়োজনের আগেই অনেক কিছু রেডি থাকে। নতুন বই, খেলনা, পছন্দের খাবার, প্রাইভেট ক্লাস - সবকিছুই কোনভাবে অ্যারেঞ্জ হয়ে যায়।

প্রতিকূলতার মাঝেও শিশুকে সৎ রাখা কি সম্ভব?
মূল্যবোধ
প্রতিকূলতার মাঝেও শিশুকে সৎ রাখা কি সম্ভব?

শাহ আলমের জীবনটা সহজ না। রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করে যা আয় হয়, সেটা দিয়েই সংসার চালাতে হয়। কখনো কাজ থাকে, কখনো থাকে না। বাজারে গেলে দাম বাড়ে, বাসাভাড়া বাড়ে, কিন্তু আয় খুব একটা বাড়ে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেক সময় ছোট ছোট “মিথ্যা” যেন স্বাভাবিক ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। একদিন রাফি তার বাবাকে জিজ্ঞেস করেছিল, “আব্বু, তুমি ওই কাকুকে বললা কাজ শেষ, কিন্তু তো শেষ হয় নাই?” প্রশ্নটা শুনে শাহ আলম কিছুক্ষণ চুপ হয়ে ছিল। কারণ সে বুঝতে পারে, ছোট্ট শিশুরা বড়দের সব আচরণ খুব মন দিয়ে দেখে।

গল্প বলা শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ায় কিভাবে?
বিনোদন
গল্প বলা শিশুর কল্পনাশক্তি বাড়ায় কিভাবে?

শাহ আলম রাতে কাজ শেষে বাসায় ফিরলে তার তিন বছরের ছেলে রাফি প্রায়ই বলে, “আব্বু, গল্প বলো।” প্রথমদিকে শাহ আলম অস্বস্তিতে পড়ে যেত। সে তো খুব বেশি পড়াশোনা জানে না, বইয়ের গল্পও মুখস্থ নেই। তাই মাঝে মাঝে এড়িয়ে যেত। কিন্তু এক রাতে বিদ্যুৎ চলে গিয়েছিল। অন্ধকার ঘরে বসে সে হঠাৎ বানিয়ে বানিয়ে একটা গল্প বলা শুরু করে, একটা ছোট্ট বিড়াল আর হারিয়ে যাওয়া লাল জুতার গল্প। গল্প শেষ হওয়ার পর রাফির চোখদুটো চকচক করছিল। পরদিনও সে একই গল্প আবার শুনতে চাইল। সেদিন শাহ আলম বুঝতে পারে, শিশুর কাছে গল্প শুধু বিনোদন না, এটা তার চিন্তা করার জগৎ খুলে দেয়।

শিক্ষাগত ডিগ্রি ছাড়াও কিভাবে শিশুকে সঠিক পথে গাইড করবেন?
শিক্ষা
শিক্ষাগত ডিগ্রি ছাড়াও কিভাবে শিশুকে সঠিক পথে গাইড করবেন?

শাহ আলমের নিজের পড়াশোনা খুব বেশি দূর পর্যন্ত হয়নি। ছোটবেলায় সংসারের টানাপোড়েনে স্কুল ছাড়তে হয়েছিল। এখন রাস্তার পাশে বসে জুতা সেলাই করেই সংসার চলে। মাঝে মাঝে সে চুপচাপ ভাবে, “আমি নিজেই তো বেশি পড়ালেখা জানি না, তাহলে ছেলেকে ঠিকভাবে মানুষ করবো কিভাবে?” তার তিন বছরের ছেলে রাফি এখন কথা বলা, প্রশ্ন করা, নতুন জিনিস শেখার বয়সে। পাশের বাসার এক আন্টি একদিন বলেছিলেন, “বাচ্চাকে মানুষ করতে হলে তো অনেক শিক্ষিত হতে হয়।” কথাটা শাহ আলমের মনে গেঁথে গিয়েছিল।

মা-বাবার মানসিক চাপ: শিশুর আচরণে নীরব প্রভাব
মননশীলতা
মা-বাবার মানসিক চাপ: শিশুর আচরণে নীরব প্রভাব

শাহ আলম আগে বুঝতেই পারত না কেন তার তিন বছরের ছেলে রাফি হঠাৎ হঠাৎ খুব রেগে যায়। ছোট্ট একটা ব্যাপারেও কান্না শুরু করে, কখনো জিনিস ছুড়ে ফেলে, আবার কখনো চুপচাপ হয়ে বসে থাকে। প্রথমে সে ভাবত, “বাচ্চা মানুষ, আদর বেশি পেয়েছে তাই হয়তো এমন করছে।”

একটি সহানুভূতিশীল পরিবার গড়তে কী করা দরকার?
মূল্যবোধ
একটি সহানুভূতিশীল পরিবার গড়তে কী করা দরকার?

আমি ছোটবেলায় একটা কথা খুব বেশি শুনতাম, “বড়দের কথা শুনতে হয়।” কিন্তু খুব কমই শুনেছি, “অন্যের অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করো।” বাবা হওয়ার পর বুঝতে পারছি, শুধু ভদ্রতা শেখানো যথেষ্ট না, সহানুভূতিও শেখানো খুব গুরুত্বপূর্ণ। কারণ পরিবারে সহানুভূতির সংস্কৃতি থাকলে শুধু সম্পর্কই ভালো হয় না, শিশুর ব্যক্তিত্ব, আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা এবং ভবিষ্যতের সম্পর্কগুলোর ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বাবা-সন্তানের বন্ধন মজবুত করতে উইকএন্ড Activities এর ভূমিকা
বিনোদন
বাবা-সন্তানের বন্ধন মজবুত করতে উইকএন্ড Activities এর ভূমিকা

আমি একজন চাকরিজীবী বাবা। সপ্তাহের ছয় দিনই প্রায় অফিস, ট্রাফিক আর দায়িত্বের মধ্যে চলে যায়। সকালে বের হওয়ার সময় বাচ্চারা আধা ঘুমে থাকে, আর রাতে ফিরতে ফিরতে অনেক সময় তারা ঘুমানোর প্রস্তুতি নেয়। ফলে পুরো সপ্তাহে সন্তানদের সাথে কোয়ালিটি টাইম খুব সীমিত হয়ে যায়। তাই এখন উইকএন্ড আমার কাছে শুধু বিশ্রামের দিন না, এটা সন্তানদের সাথে রিকানেক্ট করারও সময়। আগে উইকএন্ড মানেই ছিল ঘুম, বাজার আর বাসার কাজ শেষ করা। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝলাম, শিশুদের জন্য বাবা-মায়ের উপস্থিতি খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বাবার সাথে অ্যাকটিভ ইন্টারঅ্যাকশন শিশুদের অনুভূতির বিকাশ, আত্মবিশ্বাস এবং সামাজিক দক্ষতা এর উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

যৌথ পরিবারে সন্তান পালন
মূল্যবোধ
যৌথ পরিবারে সন্তান পালন

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমি একটা জিনিস খুব দ্রুত বুঝতে পারলাম, সন্তান লালন-পালন শুধু মা-বাবার বিষয় না, বিশেষ করে যৌথ পরিবারে। আমাদের বাসায় বাচ্চাদের নিয়ে সবার আলাদা মতামত আছে। কেউ বলে বেশি কোলে নিলে অভ্যাস খারাপ হবে, কেউ বলে শিশুকে কান্না করতে দেওয়া উচিত না। কেউ চায় পুরোনো নিয়ম মেনে চলতে, আবার আমরা অনেক সময় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করতে চাই।

বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে
বিনোদন
বাবা-সন্তানের দূরত্ব কমাতে যেসব খেলা সাহায্য করে

ব্যবসার কাজের কারণে আমার দিনের বড় একটা সময় বাইরে কাটে। তাই যমজ ছেলেরা জন্মানোর পর প্রথম কয়েক মাস আমার ভেতরে একটা অদ্ভূত ভয় কাজ করত, “ওরা কি আমাকে যথেষ্ট চিনবে?”, “মায়ের সাথে যেমন কম্ফোর্ট ফিল করে, আমার সাথেও কি করবে?” শুরুতে আমি ভাবতাম, শিশুর সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা মানে অনেক বড় কিছু। পরে বুঝলাম, ছোট ছোট মুহূর্তই আসলে সবচেয়ে দৃঢ় সম্পর্ক তৈরি করে। আর শিশুর সঙ্গে সেই সম্পর্ক গড়ে তোলার সবচেয়ে স্বাভাবিক উপায়গুলোর একটি হলো “খেলা”।

শিশুর শিক্ষামূলক ভিডিও: সাহায্য করে নাকি ক্ষতি করে?
শিক্ষা
শিশুর শিক্ষামূলক ভিডিও: সাহায্য করে নাকি ক্ষতি করে?

যমজ ছেলে হওয়ার পর আমাদের বাসায় একটা জিনিস খুব কমন হয়ে গিয়েছিল, ইউটিউব রেকমেন্ডেশন। কেউ বলছে “এই ভিডিও দিলে বাচ্চা ABC শিখবে”, কেউ বলছে “এই ছড়া শুনলে বাচ্চা শান্ত থাকে”, আবার কেউ বলছে “আজকালকার বাচ্চারা মোবাইল দিয়েই দ্রুত শেখে।” সত্যি বলতে, আমিও একসময় কৌতূহল থেকে “শিশুদের শিক্ষামূলক ভিডিও” চালিয়ে দেখেছিলাম। উজ্জ্বল রং, আকর্ষণীয় মিউজিক, নড়াচড়া করা শেপস ইত্যাদি দেখে মনে হয় সত্যিই শিক্ষামূলক কিছু। কিন্তু পরে বিষয়টা নিয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে বুঝলাম, ব্যাপারটা আসলে এতটা সহজ না।

মা কর্মজীবী হলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যায়?
মননশীলতা
মা কর্মজীবী হলে শিশুর মানসিক নিরাপত্তা কীভাবে বজায় রাখা যায়?

ফাহমিদা বেগম প্রতিদিন সকালে খুব ভোরে গার্মেন্টসের উদ্দেশ্যে বের হন। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় তিন বছরের ছোট ছেলেটা প্রায়ই কান্না শুরু করে দেয়। কখনো মায়ের কাপড় ধরে টানাটানি করে, কখনো দরজার সামনে দাঁড়িয়ে থাকে। প্রথমদিকে ফাহমিদা ভাবতেন, “এটা হয়তো শুধু আদর পাওয়ার জন্য।” কিন্তু ধীরে ধীরে তিনি বুঝতে পারেন, ছেলেটার ভেতরে এক ধরনের ভয় কাজ করছে “মা যদি আর ফিরে না আসে?”

দামী খেলনার চেয়ে Meaningful play কেন বেশি জরুরি
বিনোদন
দামী খেলনার চেয়ে Meaningful play কেন বেশি জরুরি

আমি আর আমার স্বামী দুজনই পেশাজীবী। তাই মেয়ের জন্য কিছু কিনতে গেলে সবসময় চেষ্টা করি ভালো জিনিসটাই কিনতে। একসময় মনে হতো, বেশি দামি খেলনা মানেই হয়তো বেশি শেখা, বেশি উন্নতি। বাসার এক কোণে ব্যাটারি চালিত খেলনা, কথা বলা পুতুল, গান বাজানো খেলনাসহ অনেক খেলনা জমে গিয়েছিল। কিন্তু একটা সময় আমি বুঝতে পারলাম, ব্যাটারি চালিত খেলনার চেয়ে ইন্টারেক্টিভ খেলনা শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাটারি চালিত খেলনায় শিশুরা সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে পারে না; তারা শুধু দেখে যায়।

Upper-Class পরিবারে শিশুদের Obesity বাড়ার কারণ
স্বাস্থ্য
Upper-Class পরিবারে শিশুদের Obesity বাড়ার কারণ

কিছুদিন আগে মেয়েকে নিয়ে একটা বার্থডে পার্টিতে গিয়েছিলাম। সেখানে খেয়াল করলাম প্রায় সব বাচ্চার হাতেই সফট ড্রিঙ্ক, চিপ্স, চকলেট বা ফাস্ট ফুড। বিষয়টা যদিও নতুন কিছু না, কিন্তু একজন ডাক্তার আবার মা - দুই দিক থেকেই আমি একটা বিষয় খুব খেয়াল করি। সেটা হলো, ইদানিং আপার ক্লাস আর আপার মিডল ক্লাস পরিবারগুলোর শিশুদের মধ্যে অবিসিটি (obesity) বা ওজনাধিক্যের সমস্যা আগের তুলনায় অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। একসময় আমাদের দেশে অপুষ্টি নিয়ে বেশি কথা হতো। তবে এখন তার পাশাপাশি শিশুদের ওজনাধিক্য ও দ্রুত বাড়ছে।

ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব
বিনোদন
ভাই-বোনের সম্পর্ক মজবুত করতে ঘরোয়া খেলাধুলার গুরুত্ব

আমি আর আমার স্বামী এখন একটা বিষয় নিয়ে প্রায়ই ভাবি, কীভাবে ছেলেমেয়েদের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই সুন্দর সম্পর্ক তৈরি করা যায়। যদিও এখনো ওদের সেরকমভাবে খেলার বয়স হয়নি যেহেতু মেয়েটার বয়স মাত্র ৩ মাস। আমি আশেপাশে অনেক পরিবারেই দেখেছি, ভাইবোন একই ঘরে বড় হলেও তাদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আবার কিছু ভাইবোন আছে, যারা বড় হয়েও একে অপরের সবচেয়ে বড় ভরসা হয়।

প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?
শিক্ষা
প্রি-স্কুল শিক্ষা শিশুর জন্য কতটা প্রয়োজন?

আমার মেয়ের যখন তিন বছর বয়স, তখন থেকেই আশেপাশে একটা প্রশ্ন খুব বেশি শুনতাম, “স্কুলে দিচ্ছেন না এখনো?” শহরের অনেক পরিবারেই এখন প্রি-স্কুল শিক্ষা যেন এক ধরনের প্রতিযোগিতা হয়ে গেছে। কে কত তাড়াতাড়ি বাচ্চাকে স্কুলে দিলো, কে আগে লিখতে শেখালো, কে আগে ইংরেজি শেখালো, এসব নিয়ে মা-বাবাদের মধ্যেই একধরনের অদৃশ্য চাপ কাজ করে। একসময় আমিও দ্বিধায় পড়ে যেতাম। সত্যিই কি এত ছোট বয়সে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা শুরু করা জরুরী?

অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?
মননশীলতা
অতিরিক্ত রুটিন কি শিশুর স্বাভাবিক আবেগ কমিয়ে দেয়?

আমার মেয়ের বয়স এখন পাঁচ। আর সত্যি বলতে, ওর দৈনন্দিন রুটিন কখনো কখনো আমার নিজের ছোটবেলার পুরো সপ্তাহের রুটিনের থেকেও বেশি গোছানো মনে হয়। স্কুল, আর্ট ক্লাস, ধর্মীয় শিক্ষা গ্রহণ, ইংরেজি চর্চা, ইত্যাদি সব মিলিয়ে ওর সময় প্রায় পুরোটা আগেই ভাগ করা থাকে।

ঘরের সাধারণ খাবার দিয়েও কিভাবে Balanced Nutrition বজায় রাখা যায়?
স্বাস্থ্য
ঘরের সাধারণ খাবার দিয়েও কিভাবে Balanced Nutrition বজায় রাখা যায়?

আমি মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন মা। আমার স্বামী ছোট ব্যবসা করেন। দুই বাচ্চা, সংসার, বাজার সব মিলিয়ে মাসের হিসাব করে চলতে হয়। তাই সত্যি বলতে, প্রতিদিন দামি পুষ্টিকর ডায়েট অনুসরণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না।

যৌথ পরিবারে শিশুকে সম্মানজনক আচরণ শেখাবেন কীভাবে?
মূল্যবোধ
যৌথ পরিবারে শিশুকে সম্মানজনক আচরণ শেখাবেন কীভাবে?

আমার ছেলে এখন তিন বছরের। এই বয়সে ও “ধন্যবাদ”, “দাও”, “আমারটা”, “না চাই” এসব খুব স্পষ্টভাবে বলতে শুরু করেছে। তখন থেকেই আমি ভাবতে শুরু করি, সম্মানজনক আচরণ আসলে কীভাবে শেখানো যায়?

শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং
মননশীলতা
শিশুর সাথে মা-বাবার ইমোশনাল বন্ডিং

মা হওয়ার আগে আমি ভাবতাম বাচ্চাকে ভালো খাবার দেওয়া, পরিষ্কার রাখা আর ভালো স্কুলে ভর্তি করানোর চিন্তাটাই বুঝি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মা হওয়ার পর বুঝেছি, শিশুর জন্য সবচেয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর একটি হলো বাবা-মায়ের সাথে ইমোশনাল বন্ডিং বা মানসিক সংযোগ।

বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া
শিক্ষা
বাচ্চাদের মনের বিকাশ: খেলাধুলা ও বইপড়া

আমরা অনেক সময় আমাদের শিশুরা যখন খেলতে বসে, তখন তাকে থামিয়ে দিয়ে পড়তে বসাই বা যখন বই নিয়ে বসে, তখন তাকে খেলতে পাঠাই। আমরা বইপড়া ও খেলাধুলাকে অনেক সময় আলাদা করে দেখি, কিন্তু সত্যিটা হলো খেলাধুলা এবং বইপড়া দুইটিই শিশুর জন্য সমান গুরুত্বের এবং এগুলো একসাথে শিশুর মনের সঠিক বিকাশে সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকা রাখে।

শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা
মূল্যবোধ
শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা

সচেতন অভিভাবক হিসেবে আমাদের একটি গুরু দায়িত্ব হচ্ছে আমাদের শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি জানাতে উৎসাহিত করা, কেননা এটি একটি শিশুর পরিচয়, মূল্যবোধ এবং মানসিক গঠনের সাথে গভীরভাবে জড়িত। একটি শিশু যখন ছোটবেলা থেকেই নিজের দেশের সংস্কৃতি সম্পর্কে জানতে শুরু করে, তখন সে নিজের শিকড় সম্পর্কে সচেতন হয় এবং নিজের পরিচয় নিয়ে গর্ববোধ করতে শেখে। নিজের দেশের সংস্কৃতি জানার মাধ্যমে একটি শিশু বুঝতে পারে তার ভাষা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সমাজের গুরুত্ব কী। এই কারণেই শিশুকে নিজের দেশের সংস্কৃতি শেখানো শুধু একটি অতিরিক্ত বিষয় নয়, বরং তার সঠিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত জরুরি। নিজের দেশের সংস্কৃতি একটি শিশুর আত্মপরিচয় গঠনে সহায়তা করে এবং তাকে আত্মবিশ্বাসীও করে তোলে।

শিশুকে পরিবার ও সমাজের নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুকে পরিবার ও সমাজের নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব শেখানো

শিশুকে পরিবার ও সমাজের নিয়ম মেনে চলার গুরুত্ব শেখানো তার সার্বিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই যদি একটি শিশু বুঝতে শেখে যে কিছু নিয়ম আছে, যা মেনে চলা দরকার, তাহলে সে ধীরে ধীরে দায়িত্বশীল, শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং সহানুভূতিশীল মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে। পরিবার হলো শিশুর প্রথম শেখার জায়গা, আর সমাজ সেই শেখাকে বাস্তব জীবনে প্রয়োগ করার ক্ষেত্র। তাই এই দুই জায়গার নিয়ম সম্পর্কে শিশুকে সহজভাবে জানানো এবং তা মানতে উৎসাহ দেওয়া খুবই প্রয়োজন।

শিশুকে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুকে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো

আমরা অনেক সময় মনে করি প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা শেখানো কেবল একটি ভালো অভ্যাস। কিন্তু এটি আসলে শিশুর মানসিক ও সামাজিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুর মনে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা তৈরি করা যায়, তাহলে তার মধ্যে ধীরে ধীরে অন্যের অনুভূতি বোঝা, সহানুভূতি দেখানো এবং দায়িত্ব নেওয়ার মতো গুণগুলো তৈরি হয়। শিশুরা যখন প্রাণীদের সাথে সময় কাটায় বা তাদের যত্ন নিতে শেখে, তখন তারা বুঝতে শুরু করে যে পৃথিবীর সব জীবই গুরুত্বপূর্ণ। তাই শিশুর চরিত্র গঠনে প্রাণীর প্রতি ভালোবাসা একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

শিশুদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স উন্নয়ন
মননশীলতা
শিশুদের ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স উন্নয়ন

আমরা অনেকেই ভেবে থাকি শিশুদের সঠিক বিকাশ শুধু পড়াশোনা বা বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভর করে, কিন্তু বাস্তবে বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি শিশুদের সঠিক বিকাশ তাদের আবেগ বোঝা, নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যের অনুভূতির প্রতি সংবেদনশীল হওয়ার উপরও নির্ভর করে। আর এই দক্ষতাকেই বলা হয় ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা। একজন শিশু যদি ছোটবেলা থেকেই নিজের অনুভূতি বুঝতে শেখে এবং সেগুলোকে সঠিকভাবে প্রকাশ করতে পারে, তাহলে তার মানসিক, সামাজিক এবং আচরণগত বিকাশ অনেক বেশি সুস্থ ও স্বাভাবিক হয়। মনোবিজ্ঞানী Daniel Goleman তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে জীবনে সফলতার ক্ষেত্রে শুধু আইকিউ নয়, বরং ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্সও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একটি শিশু যখন নিজের আবেগ চিনতে পারে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে, তখন সে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী এবং সামাজিকভাবে দক্ষ মানুষ হয়ে ওঠে।

শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা
মূল্যবোধ
শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা

ডিজিটাল প্রযুক্তি আজ শিশুদের জীবনের একটি স্বাভাবিক অংশ। অনলাইন ক্লাস, শিক্ষামূলক ভিডিও, গেম এবং যোগাযোগ ইত্যাদি সব কিছুতেই ইন্টারনেটের ব্যবহার বাড়ছে। তবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যথাযথ তদারকি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকলে শিশুদের অনলাইন ঝুঁকির মুখে পড়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

শিশুর কল্পনা ও গল্প বলার ক্ষমতা উন্নয়ন
মননশীলতা
শিশুর কল্পনা ও গল্প বলার ক্ষমতা উন্নয়ন

একটি শিশুর মানসিক বিকাশে কল্পনা (Imagination) এবং গল্প বলার ক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ছোটবেলা থেকেই যদি শিশুর কল্পনাশক্তিকে সঠিকভাবে উৎসাহ দেওয়া যায়, তাহলে সে শুধু সৃজনশীল (Creative) হয় না, বরং তার ভাষাগত দক্ষতা, চিন্তাভাবনা করার ক্ষমতা এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতাও অনেক উন্নত হয়। একটি শিশু যখন নিজের মতো করে গল্প তৈরি করে বা কিছু কল্পনা করে, তখন সে আসলে নিজের ভেতরের চিন্তা, অনুভূতি এবং অভিজ্ঞতাকে প্রকাশ করার সুযোগ পায়।

প্যারেন্টিং চ্যালেঞ্জ: শিশুদের সমস্যা ও সমাধান
মননশীলতা
প্যারেন্টিং চ্যালেঞ্জ: শিশুদের সমস্যা ও সমাধান

বর্তমান এই যুগে প্যারেন্টিং (Parenting) আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং সামাজিক পরিবর্তনের কারণে শিশুদের মানসিক ও আচরণগত সমস্যাও বেড়ে যাচ্ছে। তাই একজন অভিভাবক হিসেবে শিশুকে শুধু ভালোবাসা দেয়াই যথেষ্ট নয়, বরং সঠিক দিকনির্দেশনা ও সচেতনতারও প্রয়োজন রয়েছে। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুর প্রথম ৫ বছর তার মস্তিষ্কের প্রায় ৯০% বিকাশ ঘটে তাই এই সময়ের যত্নই তার ভবিষ্যৎ গড়ে দেয়।

শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো
মূল্যবোধ
শিশুর সমাজবোধ ও সহযোগিতা শেখানো

শিশুর জীবনের শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে শুধু নিজের জন্য নয়, অন্যের জন্য চিন্তা করা,সহযোগিতা করা এবং সমাজের সাথে মিলেমিশে থাকা আয়ত্ত করা। এই গুণগুলো শিশুর মানসিক বিকাশ, সামাজিক দক্ষতা এবং সবার সাথে সুসম্পর্ক গড়ার ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যখন একটি শিশু ছোট বেলায় অন্যকে সাহায্য করা, অন্যের সাথে ভাগ করা এবং একসাথে কাজ করার অভ্যাস করে, তখন সে ধীরে ধীরে বুঝতে শেখে যে তার আচরণ এবং সিদ্ধান্ত অন্যের উপর প্রভাব ফেলে। এই উপলব্ধি তাকে দায়িত্ববোধ, সমবেদনা এবং ইতিবাচক সামাজিক আচরণ গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)
মননশীলতা
সৃজনশীলতা ও দক্ষতা উন্নয়ন (ছবি আঁকা)

ছবি আঁকা হচ্ছে শিশুর মনের ভাষা প্রকাশের একটি বড় মাধ্যম। একটি শিশু যখন তার চারপাশের পরিবেশ দেখে তখন সে ঐ পরিবেশ থেকে যা উপলব্ধি করে তা সে ছবি আঁকার মাধ্যমে প্রকাশ করে। আমরা অভিভাবকরা অনেক সময় ভেবে থাকি ছবি আঁকা মানে কেবল কিছু আঁকিবুঁকি আর রং করা কিন্তু ছবি আঁকা হচ্ছে মূলত শিশুদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম
মননশীলতা
শিশুর সৃজনশীলতা বিকাশের মাধ্যম

শিশুর সৃজনশীলতা তার চিন্তাভাবনা, কল্পনাশক্তি এবং যেকোনো ধরণের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একটি শিশু যখন নতুন কিছু ভাবতে পারে, নিজের মতো করে কিছু তৈরি করতে পারে বা কোনো সমস্যার ভিন্ন সমাধান খুঁজে বের করতে পারে, সেটিই তার সৃজনশীলতার প্রকাশ। সৃজনশীলতা শিশুদের আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ এবং ধৈর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দক্ষতাও বাড়ায়। মনোবিজ্ঞানীরা মনে করেন, সৃজনশীল কাজ শিশুদের মস্তিষ্কের বিভিন্ন অংশ সক্রিয় করে এবং শেখার প্রক্রিয়াকে আরও আনন্দময় করে তোলে, ফলে তারা বিষয়গুলো খুব সহজে বোঝতে সক্ষম হয়।

স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখার উপায়

ডিজিটাল এই যুগে শিশুদের জন্য স্মার্টফোন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার বা টিভি ব্যবহার এখন একেবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠেছে। কিন্তু বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শিশুদের মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। যেমন চোখের সমস্যা, ঘুমের ঘাটতি, মনোযোগের অভাব, ধৈর্য কমে যাওয়া এবং সামাজিক দক্ষতা কমে যাওয়া ইত্যাদি। যদিও বর্তমান যুগে শূন্য স্ক্রিন টাইম প্রায় অসম্ভব কিন্তু স্ক্রিন টাইম পরিমিত রাখা সম্ভব। তাছাড়া যদি স্ক্রিন টাইম একেবারে শূন্য রাখা হয় তবে বাচ্চারা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে নতুন নতুন টেকনোলজির সাথে পরিচিত হতে পারবে না বা পিছিয়ে পড়বে। কেননা শিশুরা বিভিন্নধরণের শিক্ষামূলক ইন্টারেক্টিভ কনটেন্টের মাধ্যমে নতুন নতুন বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে খুব সহজেই জানতে পারে। সেটি হতে পারে বিজ্ঞান সম্পর্কে, মহাবিশ্ব সম্পর্কে আবার নিজেদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ইত্যাদি নানা বিষয় সম্পর্কে।

স্ক্রিন টাইম
মননশীলতা
স্ক্রিন টাইম

বর্তমান সময়ে আমাদের মা-বাবাদের সময় উপযোগী একটি অভিযোগ হচ্ছে বাচ্চা মোবাইলে আসক্ত। কিন্তু আমরা কি কখনো ভেবে দেখেছি সময়ের সাথে সাথে বাচ্চা কেনো মোবাইলে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে? এই আসক্তি কি হঠাৎ করে শুরু নাকি ধীরেধীরে অনেক সময় নিয়ে তৈরি হয়েছে?

স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া
শিক্ষা
স্ক্রিন টাইম বনাম বই পড়া

বর্তমান সময়ে শিশুদের জীবনে স্ক্রিন একটি বড় অংশ হয়ে উঠেছে। মোবাইল, ট্যাব বা টেলিভিশন এখন প্রায় সব ঘরেই আছে। তাই অনেক অভিভাবকের মনে প্রশ্ন জাগে স্ক্রিন টাইম ভালো, নাকি বই পড়া বেশি উপকারী? American Academy of Pediatrics এর বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে দেখা যায় যে বিষয়টি একপাক্ষিক নয়। প্রযুক্তি যেমন নতুন নতুন জ্ঞান আহরণের নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করেছে, তেমনি এর অতিরিক্ত ব্যবহার কিছু ঝুঁকিও তৈরি করছে। তাই স্ক্রিন টাইম ও বই পড়ার মধ্যে তুলনার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ভারসাম্য রাখা। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকের উপস্থিতি ও দিকনির্দেশনা সবচেয়ে জরুরি। সেটি স্ক্রিন টাইম হোক বা বই পড়া, দুটিই সচেতনভাবে ব্যবহার করতে হবে।

পরিবারে সময় কাটানো: শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
মননশীলতা
পরিবারে সময় কাটানো: শিশুর মানসিক বিকাশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ

বর্তমান ব্যস্ত জীবনে আমরা অনেক সময়ই পরিবারের সাথে কাটানো সময়কে তেমন গুরুত্ব দিতে পারি না। কাজের চাপ, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু একটি শিশুর সুস্থ মানসিক বিকাশের জন্য পরিবারের সাথে সময় কাটানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুরা পরিবারের সাথে নিয়মিত সময় কাটায়, তারা মানসিকভাবে বেশি স্থিতিশীল, আত্মবিশ্বাসী এবং সামাজিকভাবে দক্ষ হয়ে ওঠে।